মিডিয়ায় কাদিয়ানীদের ‘মুসলিম সম্বোধন’ দুঃখজনক

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০

প্রায় প্রত্যেক মিডিয়া কাদিয়ানীদের মুসলিম বলে সম্বোধন করছে। অথচ কাদিয়ানী জামাত সর্বজনস্বীকৃত কাফের। কাদিয়ানীরা কাফের__ একথা যারা স্বীকার করবে না, তারাও কাফের। কাদিয়ানীদের অমুসলিম বলতে যাদের দ্বিধা আছে— তাদের ঈমান নিয়েও প্রশ্ন থাকবে।

কাদিয়ানীদের মুসলিম বলার কোনো সুযোগ নেই। হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবুয়্যতির দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন__ আমিই শেষ নবী এবং আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না।

যারা মুসলমান দাবী করে, তারা কখনও কাদিয়ানীদের পক্ষাবলম্বন করতে পারে না। ইসলামে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে বাধা প্রদান করে না__ যদি তারা ইসলাম ও মুসলমানের ক্ষতি না করে। কিন্তু ইসলামের নামে কেউ যদি অপপ্রচার চালায় এবং ইসলামের অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করে, সেটা ইসলাম সমর্থন করে না।

মির্জা গোলাম আহমদ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের গুরুদাসপুর জেলার ‘কাদিয়ান’ নামক এলাকার অধিবাসী। কাদিয়ানের অধিবাসী হওয়ায়— তাকে ‘কাদিয়ানী’ বলা হয়। তার অনুসারীদেরও কাদিয়ানী বলে সম্বোধন করা হয়।
১৩ ফেব্রুয়ারী ১৮৩৫ ইং— মির্জা গোলাম আহমদ জন্মগ্রহন করে। ১৯০৮ সালে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে বাথরুমে মৃত্যুবরণ করে এই মিথ্যাবাদী মির্জা গোলাম তারা পারিবারিকভাবেই বৃটিশদের দালাল ছিল। সিপাহী আন্দোলনে ঘোড়া ও সৈন্যবাহিনী দিয়ে বৃটিশদের সাহায্য করেছিল এই মির্জা পরিবার। লেখাপড়া ও মেধায় কাঁচা মির্জা গোলাম সর্বশেষ ভারতের শিয়ালকোট আদালতে কেরানীর চাকরী করেছিল।

কাদিয়ানী বলতেই সারা পৃথিবীর মানুষ তাদেরকে কাফের হিসেবেই বোঝেন এবং জানেন। কিন্তু সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ— বাংলাদেশের মিডিয়া তাদেরকে মুসলিম বলার হেতু কী! প্রাণ ও আরএফএল গ্রুপের সহানুভূতি পেতেই কি তারা এমনটা করছেন? প্রশ্ন জনমনে। বাংলাদেশে ৯২ ভাগ মুসলমান বসবাস করেন। সে দেশে বৃহত্তর এ গোষ্ঠীর চেতনায় আঘাত করে কাদিয়ানীদের মুসলিম বলা বা তাদেরকে প্রমোট করা দুঃখজনক। এটা মিডিয়ার নীতিমালারও পরিপন্থী।

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও জঘন্য ফেতনার নাম ‘কাদিয়ানী ফেতনা’৷ ‘কাদিয়ানী ফেতনা’ বলতে—
মিথ্যা নবুওয়্যত দাবিদার মির্জা গোলাম কাদিয়ানীর ফেতনাকেই বুঝানো হয়। আর ‘কাদিয়ানী ফেরকা’ বা ‘কাদিয়ানী সম্প্রদায়’ বলতে তার অনুসারীদেরকে বুঝানো হয়। যদিও তারা নিজেদেরকে__ ‘আহমদিয়া মুসলিম জামাত’ বলে দাবি করে। তবে সারা পৃথিবীর সমস্ত মুসলমান একমত— কাদিয়ানীরা কাফের। তাই তাদেরকে মুসলিম জামাত বলা যাবে না।

আরও পড়ুন

কাদিয়ানীদের ইজতেমা আয়োজনের পরিণতি ভালো হবে না : আল্লামা বাবুনগরী

কাদিয়ানীরা স্বাধীনতারও শত্রু ছিল : মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া

কাদিয়ানী ইজতেমা বন্ধের দাবীতে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল : আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

কাদিয়ানী ইজতেমার বিপক্ষে ঢাকায় মিছিল সমাবেশ

মন্তব্য করুন