আযহারী গ্রেফতার হয় না, গ্রেফতার হয় শরিয়ত বাউল : আক্ষেপ মেননের

প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

সংসদে বিভিন্ন সময়ে ধর্মীয় বিষয়ে কটাক্ষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত থাকা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবার ক্ষোভ ঝেড়েছেন আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা মিযানুর রহমান আযহারীর উপর।

আজ সোমবার (১০ ফ্রেবুয়ারি) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন আক্ষেপ করে বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে ওয়াজ-মাহফিলে কথা বলা মিজানুর রহমান আজাহারীকে গ্রেফতার না করে নির্বিঘ্নে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। অথচ শরীয়ত বাউলকে গ্রেফতার করে জেলখানায় রাখা হয়েছে।’ এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

ওয়াজ-মাহফিলের বিরোধিতা যারা করে তারা দেশের শত্রু : ইনুকে মুফতী মিছবাহ

মেনন বলেন, বঙ্গবন্ধু এদেশকে ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতি উপহার দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন- কারও ধর্মানুভূতিতে আঘাত দিলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ইউটিউবে প্রচারিত ধর্মীয় উম্মাদনা সৃষ্টি ও বিভাজনের কিছু বক্তব্য দিয়েছিলাম। সে সবের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমার জানা নাই।

সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর পক্ষে ওয়াজকারী জনৈক মিজানুর রহমান আজাহারী সম্পর্কে ধর্মমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ বলেছেন, আজহারী জামায়াতের পক্ষ হয়ে কাজ করেছেন। আইসিটি আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয় নাই। বরং তাকে নির্বিঘ্নে মালয়েশিয়ায় চলে যেতে দেওয়া হয়েছে। আর শরীয়ত বাউলকে আইসিটি আইনে গ্রেফতার করে জেলখানায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন : আযহারীর মালয়েশিয়া যেতে বাধ্য হওয়ার দায় জামায়াতকেই নিতে হবে

‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নামে অতীতে যে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে দেশকে পাকিস্তানি আদলে ফিরিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা হয়েছিল, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তার ছেদ ঘটানো হয়েছে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টার অবসান হয় নাই। রাষ্ট্রীয় প্রচারে, আমাদের আচার-আচরণে, বেশ-ভূষার পরিবর্তনে তার রেশ আমরা দেখি। প্রতিদিনই ফেসবুক, ইউটিউবের নিত্য প্রচারে সেই মনমানসিকতাকে উসকে দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, শোনা যায়- মাধ্যমিকে শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন করা হচ্ছে।  তবে এ নিয়ে কোথায়ও আলোচনা হয়েছে বলে জানা নাই। বিএনপি-জামায়াত আমলে একমুখী শিক্ষার নামে মাধ্যমিক সাধারণ শিক্ষার অবনমনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। বিজ্ঞান, গণিতকে পিছে ঠেলে ধর্মীয় ও ব্যবসায়ীভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার চেষ্টা হয়েছিল।

‘তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শাসনামলে সে ধরনের পশ্চাৎগামী ঘটনা ঘটবে না বলে আশা করি। তারপরও এই নতুন শিক্ষাক্রম সম্পর্কে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। কিছু করার আগে প্রয়োজন সংসদে আলোচনা। পাঠ্য বইয়ে হিন্দু লেখকদের লেখা তুলে দেওয়া, গল্প-কথা-চিত্রে ধর্মভাবের প্রতিফলনের নতুন সব ব্যবস্থা আমাদের আতঙ্কিত করে।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ছোটবেলায় আমাদের মধ্যে পাকিস্তানি ভাব আনতে, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি’, কে ‘সুবেহ সাদেকে উঠে দিলে দিলে বলি, হররোজ আমি যেন ভালো হয়ে চলি’ বলে পড়ানো হতো। সেই ভাবটাই নিয়ে আসা হচ্ছে পাঠ্যবইগুলোতে। বাঙলা, বাঙালির ইতিহাস ঐতিহ্য আর পাঠের বিষয়বস্তু না। তাহলে ভাষার মাস বা মুজিব শতবর্ষ উদযাপন কেন?

মন্তব্য করুন