আযহারীর মালয়েশিয়া যেতে বাধ্য হওয়ার দায় জামায়াতকেই নিতে হবে

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০

মতামত : মিজানুর রহমান আযহারী। মিশরের বিখ্যাত জামিয়া আযহারে অনার্স সম্পন্ন করে মালয়েশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি অধ্যয়নরত শিক্ষানবিশ ছাত্র। বলনে-গড়নে আকর্ষণ করার মত একজন ইসলামী আলোচক। নির্দিষ্ট একটি দলের প্রচার প্রচারণা ও বুদ্ধিদীপ্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই যিনি বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

ওয়াজ-মাহফিলের আলোচনায় তিনি বিভিন্ন বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে প্রায়ই আলোচিত সমালোচিত হয়েছেন। যেমনিভাবে তিনি বিশাল একটি জনগোষ্ঠির মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সেভাবেই তিনি এদেশের মূলধারার আলেম-ওলামাদের কাছে কিছুটা অপ্রিয়ও হয়েছেন শরিয়তের বিভিন্ন মতভেদপূর্ণ মাসয়ালা নিয়ে বিভ্রান্ত ছড়ানোর কারণে।

তার ছড়ানো সেসব বিভ্রান্তি নিয়ে যখনই আলেম ওলামারা কথা বলা শুরু করেছেন তখনই শুরু হয়েছে দু-পক্ষের মধ্যের বিতর্ক। একদিকে জামায়াত-শিবির সমর্থকরা সবকিছুতে তাকে অন্ধ সমর্থন দিয়ে গেছে অপরদিকে মাজার পুজারী বা ভ্রান্ত আকিদা লালন করা কথিত সুন্নী সমর্থকরা অন্ধভাবে তার বিরোধীতা করে গেছেন। তবে এই দুই পক্ষের মধ্যেও কওমী ওলামায়ে কেরাম এবং হকপন্থী পীর-মাশায়েখগন তার বর্ণিত বিভিন্ন মতভেদপূর্ণ মাসয়ালা সম্পর্কে তৈরি হওয়া ফেৎনা সম্পর্কে ‘মধ্যপন্থায়’ থেকে সতর্ক করেছেন।

জনপ্রিয়তা নয় আযহারীর মাসয়ালাগত ভুল বর্ণনাই বিরোধীতার কারণ : মুফতী মিছবাহ

মুহতারাম আযহারী : একটি কেনর উত্তর খুঁজে বের করুন

কিন্তু সমস্যাটা এমন হয়ে দাড়িয়েছে যে, তাঁর ব্যাপারে কেউ কিছু বললেই সেটাকে হিংসা বা ইর্ষা হিসেবে দাড় করিয়ে সবার বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন তাঁর সমর্থকরা। এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগই দেখা যাচ্ছে একদিকে জামায়াত-শিবিরের সমর্থক অন্যদিকে আজহারীর সমর্থক।

এরপর জল অনেক দুর গড়িয়েছে। আজহারীর বিভিন্ন মাসয়ালা নিয়ে কুরআন-হাদিস ভিত্তিক কথা বলার পর কয়েকজন তরুণ আলেমদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে মুফতী রেজওয়ান রফিকী ও নোমান কাসেমী অন্যতম। এর কিছুদিনের মধ্যেই আজহারীকে এক মাহফিলে প্রকাশ্যে জড়িয়ে ধরে অনেকটাই ‘দৃষ্টিকটু’ ভাবে কপালে, গালে চুমু দিয়েছেন বিভিন্ন মনগড়া কথা বলে সমালোচিত হওয়া জামায়াত সমর্থক বক্তা মাওলানা তারেক মুনাওয়ার। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে আযহারী সাহেবের জামায়াত সমর্থনে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য এবং জামায়াত সমর্থকদের ব্যাপক প্রচার প্রচারণা দেখে এ কথায় সবাই-ই একমত হয়েছেন যে, তিনি জামায়াত সমর্থক একজন বক্তা।

জামায়াত সমর্থত বক্তা হওয়া আলাদা করে কোন দোষের নয় যদি সেই বক্তা বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতি এবং ওলামায়ে কেরামদের অবস্থানের বিপক্ষে গিয়ে ‘মওদুদীবাদের’ অথবা কোন ‘মুশতাশরিকিনদের’ বা কোন ভ্রান্ত মতভেদের কোন মতামত প্রকাশ না করেন। কিন্তু আযহারী সেই ‘ইনসাফ’ বজায় রাখতে পারেননি।

আযহারীর বেশিরভাগ মাহফিলই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের প্রচার প্রচারণা বা তাদের উপস্থিতিতেই হয়েছে। এক মঞ্চে আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতের লোকজন কাধে কাধ মিলিয়েই তার মাহফিল সফল করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে বাংলাদেশের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ জায়েদ আযহারীকে ‘জামায়াতের প্রডাক্ট’ বলে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। আযহারী ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদও করেছেন কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবেগঘন একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়ে মালয়েশিয়া চলে গেছেন।

পড়ুন : ‘আযহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট, কোরআন-হাদীসের নামে আজেবাজে কথা বলে’ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আমি কোনও দলের এজেন্ট বা প্রোডাক্ট নই: আজহারী

তার চলে যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক : মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেন তিনি মালয়েশিয়া গেলেন এই বিষয় নিয়ে ফেসবুকে তুমুল বাকবিতণ্ডায় নেমেছেন আযহারী সমর্থক এবং জামায়াত শিবির সমর্থকরা। এক্ষেত্রে তারা দাবি করছেন, আযহারী দেশ ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন যদিও পিএইচডি সম্পন্ন করার জন্য তার মালয়েশিয়ায় এমনিতেই যেতে হতো। তিনি বাংলাদেশে পুরো বছর থাকেনও না। কিন্ত মার্চ মাস পর্যন্ত মাহফিল বন্ধ করে চলে যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে অনেকেই জোর করে কওমী ওলামায়ে কেরাম এবং মধ্যপন্থায় থেকে যারা আযহারীর মাসয়ালা মাসায়েলগত সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তাদেরকেও দায়ী করে চলছেন। যা মোটেও সঠিক মনে হয়নি কখনও।

বরং এ কথা অনস্বীকার্য যে, আযহারীর বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়া বা যেতে বাধ্য হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ খোদ জামায়াত এবং জামায়াত শিবির সমর্থকরা। তারা আযহারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা শুরু করেছিলো। যেন মনে হচ্ছিলো তিনি জামায়াতকে নতুন করে এদেশে অক্সিজেন দেওয়ার জন্যই এসেছেন। অপরদিকে আযহারীও তাকে নিয়ে তৈরি হওয়া জামায়াতের রাজনৈতিক নতুন স্ট্রাটেজি নিয়ে কোন প্রতিবাদ করেননি। তিনি নিজেও সাচ্ছ্যন্দবোধ করেছেন এই বিশাল বিশাল আয়োজন এবং তার পেছনে জামায়াতের অর্থ-বিত্ত খরচ করার বিষয়টিকে। এখন যদি রাজনীতির মারপ্যাচে এসে তিনি বাংলাদেশে থাকতে না পারেন সে দায় কেন অন্যেরা নেবে কারণ জামায়াতের বিভিন্ন দলের এই ঘাড়ে পা দেওয়া রাজনীতিতে সবাই-ই বিরক্ত। হেফাজতের নিরেট নাস্তিকবিরোধী আন্দোলনকেও জামায়াত তাদের নেতামুক্তি আন্দোলনে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করেছিলো ২০১৩ সালের দিকে। যে কারণে হেফাজতে ইসলাম নিয়ে আওয়ামী লীগও রাজনীতির খেলাতে নেমেছিলো।

আযহারীর এই চলে যাওয়া নিয়ে ইতালী প্রবাসী সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পলাশ রহমান তার মতামতে জানিয়েছেন,

আমি মনে করি মিজানুর রহমানের দেশ ত্যাগে বাধ্য হওয়ার পেছনে প্রধান দায় জামায়াতের। তাদের কারনেই মিজানুর রহমান আজহারির মতো প্রতিভাবান দীন প্রচারকরা ঝরে যান, বিতর্কিত হন। দেলোয়ার হুসাইন সাইদির পরে বাংলা ওয়াজে এত জনপ্রিয় আর কেউ নেই। সাইদি সাহেব যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডিত মানুষ। কিন্তু এ কথা অস্বীকার করার যো নেই যে বাংলাদেশের কথিত সভ্য মানুষদের লিভিং রুমে ওয়াজের ক্যাসেট তিনিই প্রবেশ করিয়েছিলেন। বাংলা ওয়াজে, কোরানের তাফসিরে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বাংলাভাষী রুচিশীল ওয়াজ শ্রোতা তৈরী করতে তার অবদান সবার উপরে। জামায়াত এই মানুষটাকে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাবহার করে নষ্ট করেছে, ধ্বংশ করেছে।

ইন্ডিয়ার জাকির নায়েকও বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। যারা কোনো দিন ওয়াজ-মাহফিলে গিয়ে ওয়াজ শোনেন না বা সম্ভব না, সেই শ্রেণীর ঘরে ঘরে দীনের দাওয়াত পৌছে দিয়েছিলেন জাকির নায়েক। জামায়াত ঝাপিয়ে পড়ে তার উপরে। এমন ভাবে মার্কেটিং শুরু করে যে সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করে জাকির নায়েক জামায়াতের লোক! [সরকারের তো জুজাতঙ্ক আছেই]

মিজানুর রহমান হয়তো সত্যিই জামায়াতের প্রডাক্ট নয়, কিন্তু জামায়াত এমন ভাবে তার উপর ঝাপিয়ে পড়েছে, তাকে নিয়ে এতো বেশি মাতামাতি শুরু করেছে যে অবশেষে সরকারের রোষানলে তাকে পড়তেই হলো। আর অন্যান্য ওয়াজ-ব্যাবসায়ীরা বুঝে অথবা না বুঝে মমতাজের গানের স্টেজের ঢুলির ভুমিকায় অভিনয় করলেন, তালিয়া বাজালেন।

দেশ ত্যাগে বাধ্য হওয়ার পেছনে কী মিজানুর রহমানের কোনো দায় নেই? অবশ্যই আছে। তিনি দেশের বাইরে লেখাপড়া করেছেন, দেশ বিদেশ ঘুরেছেন, ব্যাপক জ্ঞানার্জন করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের বিশ্বাস অবিশ্বাসের স্তর ধরতে পারেননি। তিনি দেশের হকপন্থী আলেমদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরী করেননি। মাসালাগত মতোবিরোধগুলো পর্দার আড়ালে সংশোধন করে নেননি। কারন হতে পারে তিনি সত্যিই জামায়াত বেষ্ঠিত হয়ে পড়েছিলেন, যেখান থেকে ইচ্ছা করলেই বেরিয়ে আসতে পারছিলেন না। অনেকটা সাইদি সাহেবের মতো- জামায়াতের ফাঁদ থেকে বেরুতে না পারার কারনেই তার নিজের আগ্রহে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল ইসলামি আন্দোলনে (সে সময়ের শাসনতন্ত্র) তিনি থাকতে পারেননি। জামায়াতের নেতা হয়ে হাজত খাটছেন।

মিজানুর রহমানের জনপ্রিয়তা সামাল দিয়ে ওয়াজ-মাহফিল অর্গানাইজের জন্য দেশে একটা সংগঠন বা গোষ্ঠির সহযোগিতা দরকার ছিল। মিজান সাহেব হয়তো সে কারনেই জামায়াতের ফাঁদে পা দিয়েছেন। কিন্তু সব গুড়ে বালি হয়ে গেলো। তাকে দেশ ছাড়তে হলো।

এ বিষয়ে প্রতিনিধিত্বশীল আলেম সৈয়দ শামসুল হুদা তার মতামত প্রকাশ করেছেন এভাবে, আজহারী সাহেবের বক্তব্য পরিস্কার। পরিচয় পরিস্কার। প্রোডাক্ট পরিস্কার। তারপরও আওয়ামীলীগ সরকার কেন তাকে পুলিশ প্রোটেকশান দিয়ে কিছু প্রোগ্রাম করার সুযোগ দিয়েছে সেটা একটি ইসলামী দলের অন্ধ সমর্থকদের বুঝার ক্ষমতা হয়নি।

আমি আগেও বলেছি, জনাব মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব আপন পায়ে কুড়াল মারছেন। যখন তার দলের লোকেরা পঙ্গপালের মতো তার প্রতিটি মাহফিলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল, তখন কিছু মাহফিলে সরকার তার নিজস্ব লোক দিয়ে সম্পুর্ণরূপে মাহফিলগুলো পর্যবেক্ষণ করিয়েছে। আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে তার বেশ কয়েকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপস্থিতি কারা, সংগঠক কারা, আয়োজনের নেপথ্যে কারা এটা বুঝি আওয়ামীলীগ বুঝে নাই? তাদের বুঝি সেই জ্ঞান নাই? আজহারীর সুর আর সুন্দর চেহারায় সরকারের পুলিশ, প্রশাসন, লীগ নেতৃত্ব সবাই বুঝি পাগলপারা হয়ে গিয়েছিল? যেই দেশে সাঈদী সাহেবকে জেলে ভোগতে হয়, যেই দেশে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মতো একজন বয়োবৃদ্ধ আলেমকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়, সেই দেশে আজহারী বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াবেন, আর পুলিশ তাদের পাহারা দিয়ে ওয়াজ করিয়ে দেবে এই জ্ঞান এত বড় একটি ইসলামী দলের নেতাদের নাই তা আমার ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে। তারা আজ কওমী আলেমদের কিছু সমালোচনাকেই বড় করে দেখছেন, কওমী হুজুরদের কারণেই বুঝি আজহারীর চলে যাওয়া? হায়রে জ্ঞানের পাগলামী! হায়রে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা!

আজহারী সাহেবকে আরো ধীরে আগানোর দরকার ছিল। তার মাহফিলগুলোতে এভাবে হুমড়ি খেয়ে পড়াই তার জন্য কাল হয়েছে। এটুকু বুঝার ক্ষমতা তাদের এখনো হয়নি। আফসোস।তিনি যদি তার মতো করে আস্তে আস্তে আগাতেন, গ্রামে গঞ্জে মাহফিল করে যেতে থাকতেন। দল যদি তাকে এখনই কোরআনের পাখির সেই শুন্য জায়গাটায় বসানোর জন্য পাগলপারা না হতো, তাহলে এই সমস্যা হতো না।

তথাকথিত মুফতি মাসুম বিল্লাহ নামের এক বলদের চিল্লানী দেখলাম। এই বলদরা এখনো বাংলাদেশকে চিনেনি। এরা এখনো চিনতে পারছে না আওয়ামীলীগের রাজনীতি কাকে বলে? এই বলদরা জানে না মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সাঈদী সাহেবগণ ধর্ম অবমাননার মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন, যুদ্ধাপরাধী মামলায় নয়। এরা কী পরিমান আলেম বিদ্বেষী তা তার ওই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। এই বক্তব্য বাঁশেরকেল্লা শেয়ার দিয়ে প্রমাণ করেছে, তারা সকলেই এক ও অভিন্ন চরিত্রের। এই বলদরা মনে করে, এই দেশে কওমী হুজুররা না থাকলে একদিনেই ইসলামী হুকুমত কায়েম করে ফেলতো। ওরা বোকার স্বর্গে বাঁশ করে।

মিশরের মতো আরব দেশে ইখওয়ান ক্ষমতায় গিয়েও ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। আর এই বলদরা ভারতের পেটের ভিতর থেকে মনে করে, কওমী হুজুররা না থাকলে কত সহজেই ইসলাম কায়েম করে ফেলতো, ইসলামী বিপ্লব করে ফেলতো। একবারেও ভাবে না বিশাল ভারতে হিন্দুত্ববাদ কীভাবে সকলকে দিনে দিনে গ্রাস করে নিচ্ছে। ওরা আজ শেখ হাসিনার গুণকীর্তন করে কওমী হুজুরদেরকে জুতা পেটা করার আহবান জানায়।

আজহারীর এই চলে যাওয়া, ওয়াজ আপাতত স্তগিত হওয়া, আর জাকির নায়েকের কণ্ঠ বন্ধ করা শুধু কওমী হুজুরদের ইচ্ছায় হয়নি। হয়েছে ‘র’ এর ইশারায়। আজহারীর কিছু বক্তব্যের বিরোধিতা ছিল ছুঁতামাত্র। এটা যারা বুঝে না, তারা রাজনীতিরই যোগ্য না। মাঠে-ময়দানে কিছু আবাল কওমী হুজুরদের তুলোধুনো করে, আর আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার গুণকীর্তন করে প্রমাণ দিতে চায় তারা কোন ইসলামী দল করে না। তারা নিরপেক্ষ। তারা শুধুই কুরআনের খাদেম। কোন দলের সাথে তাদের কোন প্রকার সম্পর্ক নাই। এই আত্মঘাতি রাজনীতি কেন? কেন নিজের পরিচয়কে অস্বীকার করা? কেন নিজেদের দলীয় রাজনীতিকে এভাবে ভুলে যাওয়া? আবার সুযোগ পেলেই কেন গালে চুমু খাওয়া?

আরও পড়ুন : আমাকে জড়িয়ে কাউকে গালীগালাজ করবেন না : আযহারী

[পাবলিক ভয়েসের মতামত বিভাগে প্রকাশিত যে কোনো লেখার দায় লেখকের নিজের। পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ এ লেখার দায় গ্রহণ করে না। তাই এই লেখার জন্য পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদকে দায়ী করবেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদের নীতির সাথে অসামঞ্জস্য লেখাও এখানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কেবল ধর্ম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা প্রকাশ করা হয় না। চাইলে আপনিও তথ্য বা যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা এখানে পাঠাতে পারেন।]

মন্তব্য করুন