মুহতারাম আযহারী : একটি কেন’র উত্তর খুঁজে বের করুন

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০

মতামত : মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত বাকি সকল মাহফিল স্থগিত রেখে মোহতারাম মিজানুর রহমান আযহারী সাহেব পাঠে নিমগ্ন হতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। উনার এই সিদ্ধান্ত ভালো না মন্দ সেটা সময়েই বলবে তবে আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তবে বলবো উনার এই সিদ্ধান্তই সঠিক।

উনার এই সিদ্ধান্তটা আরো আগেই নেয়া উচিৎ ছিল। একজন শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী বলেছিলেন বছর ৪০ হওয়ার আগে কারোই এই ময়দানে আসা উচিৎ নয়। ইতিমধ্যেই উনি বুঝে বা না বুঝে, ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় নিজের অনেক ক্ষতিসাধন করেছেন! আগের বুজুর্গ আলেমদের ইতিহাস থেকে দেখা যায় উনারা মজমা এড়িয়ে চলতেন যথাসম্ভব আর কথা বলতেন খুব মেপে-মেপে ও ভয়ে-ভয়ে।

যার জ্ঞানের ওজন যত বেশি হতো তাঁর মুখোয়াবব ও অঙ্গভঙ্গিমায় জ্ঞানের দ্যোতির বিচ্ছুরণ ঘটতো আর তারা ততবেশী নিরব হয়ে যেতেন।বর্তমানের মাহফিলের জনপ্রিয়দের হালত দেখলেই তাঁদের জ্ঞানের লেভেল পরিমাপ করা যায় ! আল্লাহ না করুণ যদি কোনোদিন কোন পরিমাপক নির্ধারন করে আমাদের আলোচকদের পাল্লায় উঠানো হয় তবে আশিভাগের বেশি সম্ভবত পাশমার্ক উঠাতে সক্ষম হবেন না। মাহফিলের বিশাল ময়দান উনার জন্য সামনে লম্বা সময় নিয়ে অপেক্ষায় আছে ইনশাআল্লাহ আর সেটা থেকে কেউ তাকে বঞ্চিত করতে পাড়বে না। উনার এখন নিজেকে গড়ার সময়।

পড়ুন : সকল মাহফিল স্থগিত করে মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন মিজানুর রহমান আযহারী

আপাতত উনার নিবিড় পাঠেই নিমগ্ন থাকা উচিৎ। আলহামদুলিল্লাহ্‌ উনার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী এর সাথে যদি কোরআন-হাদিস ও ফিকহের গভীর জ্ঞানের সম্মীলন ঘটে তবে তা জাতির জন্য বিরাট নেয়ামত হিসেবে প্রাপ্তি হবে। অনেক জনপ্রিয় বক্তা, লেখক ও সংগীতশিল্পীকে কাছ থেকে দেখেছি শুধুমাত্র জনপ্রিয়তার ফাঁদে আটকে গিয়ে নিজেদের ইলম অর্জনের সব পথ বন্ধ করে দিতে ফলাফলে জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে সময় লাগেনি আর এখন এঁদের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! আযহারীর মত সম্পদ যুগে অল্প কয়েকজনই আসে তাই তাঁর সস্থা জনপ্রিয়তার ফাঁদে আটকে যাওয়া উম্মাহর জন্য বড় ক্ষতি নিশ্চই।

প্রাসঙ্গিক কথা : অনেক মুর্খ ফেসবুকার ও ইউটিউবার তোলপাড় করে ফেলবেন/ফেলছেন এই ধারণায় যে মাসলাকগত দন্দ্বে বিগত বেশ কিছুদিন আযহারী সাহেব আলোচিত ও সামালোচিত থাকার ফলাফল এই প্রস্থানের প্রেক্ষাপট তবে তারা যে বুদ্ধিহীন এতে এতে কোন সন্দেহ নাই। এঁদের বক্তব্য পাঠ করে ও শ্রবন করে যারা লাফাবেন তারা গর্দভশ্রেণীর প্রাণী। দুনিয়ার হালচাল সম্পর্কে এঁদের সাধারনজ্ঞানটুকু পর্যন্ত নাই।

সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্র বিজ্ঞান এবং রাজনীতি বিজ্ঞানে এরা দুধের শিশু। মাথাভর্তি গোবর। মাসলাকগত এমন দ্বিমত নিয়া আহলে হাদিসদের সাথে বছরের পর বছর মাহফিলে মাহফিলে বাদ-প্রতিবাদ চলছে। সকাল বিকাল বাহাস হচ্ছে। পীর মুরিদী নিয়া হাঙ্গামা প্রায় প্রতিদিনই চলে ।সুন্নি-ব্রেলবি-তাহরিরিরা সকাল বিকাল খিস্থি খেঁউড় করেন ।

ভণ্ড পীরদের অদ্ভুতরে কথাবার্তা, ওয়াজের নামে বিকৃত চিৎকার চেঁচামেচি, কুরআন হাদিস বিকৃতি, কাল্পনিক গালগল্প এসব এখন ঢালভাত। এঁদের নিয়া আলোচনা সমালোচনা হয়, মামলা হামলা হয়। ভুল স্বীকার ক্ষমা চাওয়া ও দুঃখ প্রকাশ হয়। সমর্থক সমর্থকে মারামারি কাটাকাটি হয়। ফেসবুক ও ইউটিউব গরম থাকে কিন্তু সব কিছুর পরও প্রায় সবাই বহাল তবিয়তেই থাকেন অথচ মোহতারামকে বলা যায় দেশ ছেড়েই চলে যেতে হচ্ছে !!

কেন ? কেন’র উত্তর খুঁজে পেতে চেষ্টা করুণ। অমুকের কারণে, তমুকের কারণে এইসব শুধু সাময়িক সান্তনার বাণী । পরস্পর কথা চালাচালির জন্য উপকারী। কোন কাজের আলাপ না।

লেখক : সাকিব মুস্তানসির। সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট, তরুণ আলেম।

[পাবলিক ভয়েসের মতামত বিভাগে প্রকাশিত যে কোনো লেখার দায় লেখকের নিজের। পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদ এ লেখার দায় গ্রহণ করে না। তাই এই লেখার জন্য পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদকে দায়ী করবেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে পাবলিক ভয়েসের সম্পাদনা পরিষদের নীতির সাথে অসামঞ্জস্য লেখাও এখানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কেবল ধর্ম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা প্রকাশ করা হয় না। চাইলে আপনিও তথ্য বা যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা এখানে পাঠাতে পারেন।]

মন্তব্য করুন