আমাকে জড়িয়ে কাউকে গালাগালী করবেন না : মিজানুর রহমান আযহারী

প্রকাশিত: ২:৩৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০

বাংলাদেশের আলোচিত-সমালোচিত ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আযহারী এ বছরের মত সকল প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন। পূর্বেও তিনি মালয়েশিয়াতেই থাকতেন। প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করে বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজ-মাহফিল করতেন।

তবে এ বছর তিনি বেশ আলোচিত সমালোচিত ছিলেন ওয়াজ মাহফিল বিষয়ে। সারাদেশে বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পক্ষে-বিপক্ষে চলছিলো প্রচুর আলোচনা সমালোচনা। যা এক সময় বেশ দৃষ্টিকটু পর্যায়ের দিকেও গড়িয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ তাকে ‘জামায়াতের প্রোডাক্ট’ বলে আখ্যা দেওয়ার পর তিনি নিজেকে ‘জামায়াতের প্রোডাক্ট’ নন দাবি করে ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আজকে জানালেন, বাংলাদেশের সামনের সকল প্রোগ্রাম বন্ধ রেখেই তিনি মালয়েশিয়া চলে যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে ফেসবুকে তিনি তাঁর ফেরিফাইড পেজে তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দীর্ঘ একটি লেখা প্রকাশ করেছেন সেখানে তিনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বলেছেন।

তিনি তাঁর সমর্থকদের অন্য কারো সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘সুপ্রিয় শ্রোতাদেরকে বলব, প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না। আমাকে জড়িয়ে কোন ব্যাপারে কাউকে গালাগালি করবেন না, অন্য কোন মতাদর্শের আলেমদেরকে হেয় বা ছোট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনো আমাকে ছোট করে কথা বলে। অনুরুপ ভাবে, কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিক ভাবে এবং বিনয়ের সাথে সেটা করুন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।’

পড়ুন : জনপ্রিয়তা নয় আযহারীর মাসয়ালাগত ভুল বর্ণনাই বিরোধীতার কারণ : মুফতী মিছবাহ

মাহফিল বন্ধ করা এবং মালয়েশিয়া চলে যাওয়ার বিষয়ে তিনি লেখেন, পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে, এখানেই এবছরের তাফসির প্রোগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই, মার্চ পর্যন্ত আমার বাকী প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করা হল। রিসার্চের কাজে আবারো মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে, আবারও দেখা হবে ও কথা হবে কুরআনের মাহফিলে ইনশাআল্লাহ।

এবছর বেশীর ভাগ প্রোগ্রামগুলোতেই পারিবারিক ও সামাজিক ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছি, পাশাপাশি কয়েকটি সূরার তাফসিরও করেছি। আশাকরি, আলোচনা গুলো থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পরিবারের সবাই মিলে আলোচনাগুলো শুনুন এবং কথাগুলো বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে, আমাদের পরিবার ও সমাজ সুখময় এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

পাঠকদের জন্য তাঁর লেখা পুরো পোস্টটিই এখানে দেওয়া হলো,

আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ.. প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, পারিপার্শ্বিক কিছু কারণে, এখানেই এবছরের তাফসির প্রোগ্রামের ইতি টানতে হচ্ছে। তাই, মার্চ পর্যন্ত আমার বাকী প্রোগ্রামগুলো স্থগিত করা হল। রিসার্চের কাজে আবারো মালয়েশিয়া ফিরে যাচ্ছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সুযোগ করে দিলে, আবারও দেখা হবে ও কথা হবে কুরআনের মাহফিলে ইনশাআল্লাহ।

পড়ুন : ‘আযহারী জামায়াতের প্রোডাক্ট, কোরআন-হাদীসের নামে আজেবাজে কথা বলে’ : ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

আমি কোনও দলের এজেন্ট বা প্রোডাক্ট নই: আজহারী

এবছর বেশীর ভাগ প্রোগ্রামগুলোতেই পারিবারিক ও সামাজিক ক্রাইসিস নিয়ে কথা বলেছি, পাশাপাশি কয়েকটি সূরার তাফসিরও করেছি। আশাকরি, আলোচনা গুলো থেকে আপনারা উপকৃত হবেন। পরিবারের সবাই মিলে আলোচনাগুলো শুনুন এবং কথাগুলো বাস্তব জীবনে মেনে চলার চেষ্টা করুন। তাহলে দেখবেন ধীরে ধীরে, আমাদের পরিবার ও সমাজ সুখময় এবং শান্তিময় হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

আমি একজন নগন্য মানুষ। মহাগ্রন্থ আল কুরআনের ছাত্র। কুরআনের ছাত্র হয়েই বেঁচে থাকতে চাই ও নিরলস কাজ করে যেতে চাই। তাই সুপ্রিয় শ্রোতাদেরকে বলব, প্লিজ আমাকে নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করবেন না। আমাকে জড়িয়ে কোন ব্যাপারে কাউকে গালাগালি করবেন না, অন্য কোন মতাদর্শের আলেমদেরকে হেয় বা ছোট করে কিছু বলতে যাবেন না। যদিও তাদের কেউ কখনো আমাকে ছোট করে কথা বলে।

অনুরুপ ভাবে, কোথাও আমাকে ডিফেন্ড করে তর্ক বা কমেন্ট করতে চাইলে, ভদ্রতা বজায় রেখে, যৌক্তিক ভাবে এবং বিনয়ের সাথে সেটা করুন। সত্য একদিন উন্মোচিত হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে, দেশের আপামর জনতার যে ভালোবাসা পেয়েছি, জানিনা সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝড়ালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার হলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে। মালিকের দরবারে আলীশানে লাখো কোটি শুকর এবং সুজুদ। ওয়ালহামদু লিল্লাহি ‘আলান্নি’আম।

প্রোগ্রামগুলো বাস্তবায়নে যারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার জন্য রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়া। বিশেষ করে পুলিশ, প্রশাসন এবং স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রোগ্রামগুলো সুন্দরভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালা উত্তম প্রতিদান দান করুক।

আমার এ জীবনের ছোট্ট অভিজ্ঞতায় যা দেখলাম, সেটা হল: আমরা আমাদের জীবনের একটা উল্লেখযোগ্য সময় কাটিয়ে দেই অন্যকে হিংসা করতে করতে। নিজেরা কাজ না করে অন্যের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে আমরা মহা ব্যস্ত। আসলে, অপপ্রচার করে তেমন কোন লাভ নেই। অপপ্রচারে আমি কখনো মন:ক্ষুন্ন হইনা। আমার বিশ্বাস আপনারাও হবেন না। কারন অপপ্রচারগুলোই আমাদের প্রচারণার দায়িত্ব পালন করেছে আলহামদুলিল্লাহ।

হক্বের পথে বাঁধা, বিপত্তি আসবেই। এটাই স্বাভাবিক। যে পথে কাঁটা নেই সেটা পথ নয়, সেটা কার্পেট। আর কার্পেটে হেটে মজলিশে পৌঁছানো যায়, মনজিলে নয়। মন্তব্য কখনো গন্তব্য ঠেকাতে পারেনা। তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহ…

মন্তব্য করুন