ঢাকা সিটি নির্বাচনে জাপার চেয়েও পাঁচগুন ভোট পেয়েছে হাতপাখার প্রার্থীরা

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০

আলোচিত ঢাকা সিটি নির্বাচনে সংসদে বিরোধীদল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করা জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থীর চেয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী প্রায় পাঁচগুন বেশি ভোট পেয়েছেন।

ভোটের হিসেব বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন হাজী সাইফুদ্দিন মিলন। আর মিলনের পাঁচ গুণ অর্থাত ২৬ হাজার ৫২৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব আবদুর রহমান।

অপরদিকে ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে জাতীয় পার্টি থেকে ব্রি. জে. (অব.) জি এম কামরুল ইসলামকে জাপা প্রার্থী করলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঠিকই একই স্থানে মেয়র পদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ। তিনি সেখানে ২৮ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন।

দুই সিটি মিলিয়ে ডিএনসিসিতে ভোট পড়েছে ২৫ দশমিক ৩০ শতাংশ ভোট। আর দক্ষিণে পড়েছে ২৯ দশমকি ০৭ শতাংশ। এত কম ভোট পড়ার নজির এর আগে সিটি কর্পোরেশনে আর ছিলো না। এর আগে ২০১৫ সালের বিভক্ত ঢাকার প্রথম নির্বাচনে উত্তরে ভোট পড়েছিল ৩৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর দক্ষিণে পড়েছিল ৪৮ দশমিক ৪০ শতাংশ ভোট।

এই দুই সিটি মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৪ হাজার ৭২৫ ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট পড়েছে হাতপাখা প্রতীকে। যদিও দলীয়ভাবে তারা ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের সিইসিকে ব্যার্থতার দায় নিয়ে সরাসরি পদত্যাগ করার কথাও বলেছেন। তাছাড়া নির্বাচনের দিনই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীর পক্ষের এজেন্ট এবং ভোটারদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়েও জাতীয় পার্টির প্রার্থী কম ভোট পেলেও জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের বললেন, ‘দেশের প্রধান তিনটি দলের মধ্যে জাপা সবচেয়ে সম্ভবনাময় দল। মানুষ বিশ্বাস করে দেশের কল্যাণে কাজ করার ক্ষমতা শুধু জাপারই রয়েছে। তাই প্রতিদিনই বিভিন্ন দলের নেতারা জাপায় যোগ দিচ্ছেন।’ তবে শনিবারের ভোটের ফলাফলের চিত্রের সঙ্গে কাদেরের এসব কথার আকাশ-পাতাল ব্যবধান দেখে খোদ জাপার নেতাদেরই কাউকে কাউকে গত তিন দিনে নিজেদের মধ্যে হাসাহাসি করতে দেখা গেছে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী নৌকায় তুলে এনে এনেছেন ৫৯ দশমিক ১০ শতাংশ ভোট। আর ধানের শীষের দুই প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ ভোট। ঢাকা উত্তর সিটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ১১ ভোট। আর দক্ষিণে নৌকার প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫ ভোট।

আর উত্তরে বিএনপি প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৬১ ভোট। আর দক্ষিণের ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন পেয়েছেন ২ লাখ ৬৫ হাজার ১২ ভোট।

অন্যান্য দলের মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেবল উত্তর সিটিতে প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির আহাম্মদ সাজেদুল হক কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১৫ হাজার ১২২ ভোট। যা দুই সিটিতে প্রদত্ত ভোটের এক দশমিক ০৩ শতাংশ।

গণফ্রন্ট কেবল দক্ষিণ সিটিতে প্রার্থী দেয়। দলটির প্রার্থী আব্দুস সামাদ সুজন মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১২ হাজার ৬৮৭ ভোট। দুই সিটিতে প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ন্যাশনাল পিপল পার্টির আম প্রতীকে দুই সিটিতে ভোট পড়েছে ৭ হাজার ৮টি। যা মোট প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ। দলটির উত্তরের প্রার্থী মো. আনিসুর রহমান দেওয়ান পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৩ ভোট। আর দক্ষিণের প্রার্থী মো. বাহারানে সুলতান বাহার পেয়েছেন ৩ হাজার ১৫৫ জন।

জাতীয় পার্টি কেবল দক্ষিণে প্রার্থী দিয়েছিল। দলটির প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন লাঙ্গল মার্কায় পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। যা দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ কংগ্রেসও কেবল দক্ষিণে মো. আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহকে প্রার্থী দিয়ে ডাব প্রতীকে নিজেদের ঘরে তুলেছে ২ হাজার ৪২১ ভোট। দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের যা শূন্য ১৬ শতাংশ।

প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি কেবল উত্তরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। দলটির প্রার্থী শাহীন খান বাঘ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১১১ ভোট, যা দুই সিটির প্রদত্ত ভোটের শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ।

মন্তব্য করুন