ভূমিকম্প ঝুঁকি: ঢাকার অবকাঠামো যেমন দুর্বল তেমনি জনসচেতনতা কম: প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৪:০৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৮, ২০২০

দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপি বলেছেন, বড় ধরণের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক প্রাকৃতিক দূর্যোগ।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভূমিকম্প দূর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞানীদের বরাতে ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন- যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। আপনারা সবাই জানেন, দুর্যোগ কখনোই বলে কয়ে আসে না। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আর ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সামর্থ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পারি’।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ঢাকা মহানগরীতে বড় ভূমিকম্পে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চমাত্রায় ভূমিকম্প হলে উদ্ধার তৎপরতার ধরনটা কেমন হবে? মানবিক বিপর্যয় এড়াতে আমাদের কোথায় কোথায় আরো বেশি নজর দিতে হবে, ভূমিকম্পের ভয়ে আতঙ্কিত না হয়ে এ দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সবাইকে কিভাবে প্রস্তুত থাকতে।

তঢাকা শহরের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চার লাখের বেশি ভবন রয়েছে উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, রাজউক এলাকায় ১২ লাখেরও বেশি ভবন রয়েছে যার অধিকাংশই ভূমিকম্প সহনীয় নয়। দুর্যোগটা শুধু ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে নয়। ঢাকার অবকাঠামো যেমন দুর্বল তেমনি জনসচেতনতা কম। সেজন্য যদি একটা বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয় আমাদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বেশি হবে।

দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের পর নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও নেই ঢাকা শহরে। ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত জায়গা দরকার। ইভাকুয়েশন স্পেস যদি আগে থেকে তৈরি করা না থাকে তাহলে ইভাকুয়েশন প্ল্যানটাই কোন কাজে আসবে না। সিডিএমপি যে কন্টিনজেন্সি ও ইভাকুয়েশন প্ল্যান করেছে সেটা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন উন্মুক্ত জায়গার। সেটার জন্য এখনই সরকারী খাস জমি উন্মুক্ত করে ইভাকুয়েশন স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা জরুরী।

ডা. এনাম বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দুইটি। প্রথমত, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাকে নিম্নতম পর্যায়ে রাখা এবং দ্বিতীয়ত, ভূমিকম্প পরবর্তী বিপর্যয় সামাল দেয়া।

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির কথা বলা হলেও উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থা এখনও খুবই শোচনীয়। ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিম্নতম পর্যায়ে রাখতে হলে বাড়িঘর ও হাসপাতালসহ সরকারী-বেসরকারী ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই নীতি কঠোরভাবে প্রতিপালন করতে হবে।

বাংলাদেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নিরাপদ রাখতে চাইলে আর বিলম্ব করা সমীচীন হবে না। ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে এখনই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশার কথা হলো- বঙ্গবন্ধু কন্যা,মানবতার জননী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বন্যা ও সাইক্লোন দুর্যোগের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ও প্রশংসিত। এখন আমাদের লক্ষ্য ভূমিকম্প সহনশীলতা বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

/এসএস

মন্তব্য করুন