ভোলায় জুস খাইয়ে অচেতন করে তৃতীয় ছাত্রীকে ধর্ষণ

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা সদর উপজেলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে জুস খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে শের আলী নামের পোষ্ট অফিসের এক রানারের বিরুদ্ধে।

ধর্ষক শের আলী ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তমুন্সি গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ও ওই ইউনিয়নের পোষ্ট অফিসের রানার। সোমবার দুপুরের দিকে উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের গুপ্তমুন্সি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সে বর্তমানে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানায় ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষিতার বাবা অভিযোগ করে জানান, তার ৮বছর বয়সী মেয়ে ইলিশা ইউনিয়নের মুরাদ ছফিউল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। প্রতিদিন সে বাড়ি থেকে পায় হেটে স্কুলে যায়। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ওই এলাকার পোষ্ট অফিসের রানার মো. শের আলী তাকে জুস খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে পোষ্ট অফিসে নিয়ে যায়। এবং তাকে জুস খাইয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করে।

পরে তার হুশ ফিরে এলে তাকে আবার স্কুলে পাঠিয়ে দেয়। এবং ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ধর্ষক শের আলী। পরে বিকেল ৪টার দিকে স্কুল ছুটির পর বাড়িতে যাওয়ার সময় পথের মধ্যে কয়েক বার মাথা ঘুরে পড়ে যায়। পরে সাথের শিক্ষার্থীরা তাকে বাড়িতে পৌছে দেয়। বাড়িতে গিয়ে সে ভয়ে কাউকে কিছুই বলেনি। কিন্তু তার গায়ের জামা খুলে দেখা যায় শরীরে আঁচড়ের চিহ্ন। পরে তাকে অনেকবার জিজ্ঞেস করলে সে ধর্ষণের ঘটনা জানায়।

শিক্ষার্থীর বাবা আরো জানান, মঙ্গলবার সকালে মেয়ের অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল আনার সময় শেরে আলীর পরিবারের লোকজন তাদেরকে হাসপাতালে আসতে বাঁধা দেয়। তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা করানোর কথা বলে। পরে তারা স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিয়ে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষ হলে তারা থানায় মামলা করবেন বলেও জানান ধর্ষিতার বাবা।

এব্যাপারে অভিযুক্ত শের আলীর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভোলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মেহেদী হাসান ভুইয়া বলেন, ‘ধর্ষিতার গায়ে আচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আমরা তাকে হাসপতালে ভর্তি করেছি।’

সদর হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখা আক্তার জানান, ‘আমরা প্রথামিকভাবে পরীক্ষা করে ধর্ষিতার বুকে আচড়ের চিহ্ন ও গোপনাঙ্গে ধর্ষণের আলামত পেয়েছি।’

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনায়েত হোসেন জানান, ‘আমরা বিষয়টি শুনেছি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে ওসি তদন্ত আছে। আমিও যাচ্ছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

/এসএস

মন্তব্য করুন