পদবঞ্চিতদের হামলায় ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকসহ আহত ১৫

প্রকাশিত: ৫:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২১, ২০২০

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে বিদ্রোহী ও পদবঞ্চিত গ্রুপের নেতাকর্মীদের হাতে হামলার শিকার হয়েছেন। এতে দু’গ্রুপে আহত হয়েছেন প্রায় ১৪ জন নেতাকর্মীসহ ১জন সহকারী প্রক্টর। এর আগে সকালে পলাশ ও রাকিবের ক্যাম্পাসে আসার খবর পেয়ে সকাল থেকেই দলীয় টেন্টসহ ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে ছাত্রলীগের বিদ্রোহীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে, মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা হল থেকে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রসহ নিয়ে প্রধান ফটকে ছুটে আসে। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। যা একপর্যায়ে পাশ্ববর্তী এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বিদ্রোহী গ্রুপের এক কর্মীকে ৩-৪টি ককটেলের বিস্ফোরন ঘটাতে দেখা যায়। (ককটেল বিস্ফোরণের ভিডিওটি প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে) তবে বিদ্রোহী ছাত্র নেতা মিজানুর রহমান লালনের দাবী, পলাশ ও রাকিব বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মিদের ওপর হামলা করে। তারা ককটেল হামলা করলে আমাদের গ্রুপের কমপক্ষে ১০জন আহত হয়েছে। তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

সংঘর্ষে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদকসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি আহতদেরকে চিকিৎসা দিতে পাঠানোর জন্য মাহিন্দ্রায় তুলে দিতে গেলে সেখানেও সাধারণ সম্পাদককে বেদম প্রহার করে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা। এতে রাকিব গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাকে এবং তার নেতাকর্মীদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসময় সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম আহত হন এবং কয়েকজন সহকারী প্রক্টরকেও লাঞ্ছিত করা হয়।

এদিকে সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রধান ফটকে পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করে রাখলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবী। আল-আমীন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, পুলিশের নিরব ভূমিকার কারণে এতোবড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে এ ঘটনার পর কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরোধ করে রেখেছ বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা।

এর আগে বেলা ১১টায় সভাপতি ও সম্পাদকের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী প্রধান ফটকে অবস্থান নিলে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে তাদের ধাওয়া দেয় এবং এক পর্যায়ে ইংরেজি বিভাগের আমিন হাসান নামের এক শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে বেধড়ক পেটায় তারা। এতে তার মাথা ফেটে যায়।

তবে ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, ‘সকাল থেকেই টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগের সভাপতি পলাশ, সাধারণ সম্পাদক রাকিব গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত। তারা আজকে ক্যাম্পাসে আসার জন্য চেষ্টা করছিল তাদের লোক জন নিয়ে। পদবঞ্চিত নেতা লালন আরাফাতরা তাদেরকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার জন্য প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে দু গ্রুপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। কয়েকজন আহত হয়, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। আর তিনটা ককটেল নিক্ষেপের শব্দ আমি শুনতে পেয়েছি কিন্তু অস্ত্রের ব্যবহার আমি দেখিনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দায়িত্ব থাকা সহকারী প্রক্টর ড. আনিচুর রহমান বলেন, ‘মূলত ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সম্পাদক তাদের অনুসারীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসতে চেষ্টা করে। এসময় বিদ্রোহীদের ধাওয়ায় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি আহত হয়। আমরা প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এখন শান্ত রয়েছে। প্রথমত তারা হাইওয়ে বন্ধ করে দেয়, পরে আমরা কথা বললে তারা হাইওয়ে ছেড়ে দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়, এখন আমরা কথা বলছি, আশা করি দ্রুতই তারা প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হবে।’

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করতে চাচ্ছিলাম। এজন্য তারাও এক হয়েছিল কিন্তু সেখানে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাদের কর্মীর মাথা ফাটিয়ে দেয়। আর তার প্রতিবাদে আমরা মিছিল দিলে সেই মিছিলে পুনরায় হামলা চালিয়ে আমাদের সাধারন সম্পাদক সহ বেশ কয়েকজনের মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং অনেকেই আহত হয়। তাই তদন্ত সাপেক্ষে আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

উল্লেখ্য, ইবি শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত ও বিদ্রোহীদের একটি গ্রুপ বর্তমান কমিটি প্রদানে অর্থনৈতিক অর্থ লেনদেন হয়েছে দাবি করে গত কয়েকমাস ধরে বর্তমান সভাপতি এবং সম্পাদককে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আসছে। এর আগেও বেশ কয়েকবার সভাপতি, সম্পাদককে ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

/এসএস

মন্তব্য করুন