ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে অব্যহতি পেলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ১০:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০২০

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাইবার ট্রাইব্যুনাল আদালতে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বরেণ্য আইনজীবী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনকে।

রাজধানীর ভাষানটেক থানার পুলিশ আদালতে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্যারিস্টার সুমনের ফেসবুক থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাই তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করছি। পরে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস-শামস জগলুল হোসেন পুলিশের দেয়া প্রতিবেদন গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ব্যারিস্টার সুমন আমেরিকার নিউইয়র্কে তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে বলেন, ‘আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং যারা মামলাটির তদন্ত করে আমাকে দায়মুক্তি দিয়েছেন তাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমি কখনওই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী কাউকে কটাক্ষ করে কখনও কোন কথা বলিনি বরং আমার সাথে এবং আমার পারিবারিকভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে রয়েছে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। তাই আমাকে একটি ভিন্ন ধর্মের লোকদের মুখোমুখি দাড় করিয়ে দেওয়ার কারণে আমি অনেক মনোকষ্টে ভুগতেছিলাম। কিন্তু আদালতের রায়ের মাধ্যমে আমি দায়মুক্তি পেয়েছি জেনে অনেক খুশি হয়েছি এবং যারা সব সময় আমার পাশে ছিলেন তাদের কাছেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আরও পড়ুন : ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের নামে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

প্রসঙ্গত : গতবছর ২২ জুলাই গৌতম কুমার এডবর নামে এক ব্যক্তি বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আস সামছ জগলুল হোসেনের আদালতে ফেসবুকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপারে কটুক্তি করার অভিযোগ এনে এ মামলাটি করেছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিলো, গত ১৯ জুলাই ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন ফেসবুকে লিখেন, পৃথিবীর মধ্যে নিকৃষ্ট এবং বর্বর জাতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। যাদের ধর্মের কোনো ভিত্তি নেই। মনগড়া বানানো ধর্ম। অনেক ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায় তাদের নৃশংসতার আড়ালে। গত ১৯ এপ্রিল সনাতন ধর্ম ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে মিথ্যা, অশ্লীল চরম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এরকম আচরণ এবং সোস্যাল মিডিয়ার অশ্লীল অবমাননাকর ও অরুচিপূর্ণ বক্তব্যর ফলে রাষ্ট্র ও হিন্দু সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। যার কারণে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কিন্তু পরবর্তিতে অনুসন্ধানে দেখা গেছে এই মামলার ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার সুমনের নামে ফেসবুকে থাকা কিছু ফেইক পেজের তথ্য নেওয়া হয়েছে। যেগুলো মূলত ব্যারিস্টার সুমন চালান না। এ নিয়ে তিনি গত ২০ জুলাই (২০১৯) তার ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার নাম ব্যাবহার করে একটি ফেক পেজ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিষেদগার করছে। আমি এ বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। আপনারা সচেতন থাকবেন। এটাই আমার একমাত্র পেজ যার ফলোয়ার ২০ লাখের অধিক।’

আরও পড়ুন : ব্যারিস্টার সুমনের নামে মামলার ক্ষেত্রে ফেইক পেজের তথ্য ব্যবহার

উল্লেখ্য, মর্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন সম্পর্কে করা প্রিয়া সাহার বিভ্রান্তিকর মিথ্যা অপপ্রচারের দায়ে গত ১৯ জুলাই ফেসবুক লাইভে এসে আদালতে মামলা করার ঘোষণা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের আইনজীবি ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

সেদিন লাইভে তিনি বলেন, আগামী রবিবার আদালত খোলার সাথে সাথে আমি এই মহিলার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবো। যেখানে খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন বাংলাদেশ হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদহরণের দেশ সেখানে একজন মহিলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার যে অপচেষ্টা চালিয়েছেন তা অবশ্যই রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। তার বিরুদ্ধে তাই আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, যেখানে বাংলাদেশে আমরা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকছি সেখানে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ করা কারো ব্যাপারে আমরা বসে থাকতে পারি না। তার ব্যাপারে মামলা করা এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। তিনি জনগণকে পাশে থাকার আহবান জানিয়ে বলেছেন, আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই মামলা করবো, আপনারা আমার পাশে থাকবেন। তার এই ঘোষণার পরই উক্ত মামলাটি করা হয়েছিলো যা থেকে আদালত তাকে আজকে দায়মুক্তি দিলেন।

আরও পড়ুন :

ব্যারিস্টার সুমনের নামে ফেইক ফেসবুক পেজ ; সতর্ক থাকার আহবান

ব্যারিস্টার সুমনের সামাজিক কার্যক্রম : পিছে লোক লেগে গেছে বলে সতর্ক থাকতে বললো আদালত

ব্যারিস্টার সুমনের পক্ষে উত্তাল সারাদেশ: মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবী

মন্তব্য করুন