গুরুত্ব দিন বিয়ের ফটো-সিনেগ্রাফিতে

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৭, ২০২০
ছবি: ব্রাইডাল বাংলাদেশ

ইমরান হোসাইন: শীতকে বিয়ের মৌসুমই বলা চলে। শীতের শুরু থেকেই বিয়ের ধুম পড়ে যায়। বিয়েকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের উৎসবে পরিনত হয়, আর বিয়ের উৎসবের মতো স্মরণীয় ঘটনার প্রতিটা মুহূর্ত বর-কনেসহ সবার জন্য স্পেশাল।

দু-বাড়ির মানুষের সাথে সম্পর্কের নতুন মেলবন্ধন, তিন-চার দিনের এত জাঁকজমক, হৈ-হুল্লোর-সাজগোজ, বিয়ের প্রতিটা খুঁটিনাটি বারবার ফিরে দেখা বা এই সুন্দর স্মৃতি গুলো সংরক্ষণের জন্য চাই ফটোগ্রাফি। তাই এই বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবেই নেওয়া দরকার আমাদের।

এবিষয়ে চট্টগ্রামের অভিজাত বিয়ের ফটো এন্ড সিনেমাটোগ্রাফি টিম ব্রাইডাল বাংলাদেশ’র কর্ণধার রায়হান হোসাইন বলেন, বিয়ের ফটোগ্রাফি মানে যে শুধু বর-কনের সঙ্গে আত্মীয় স্বজনদের পোজ দেওয়া ছবি, তা নয়। এখন গুরুত্ব পাচ্ছে ক্যানডিড মোমেন্টও। কনের স্বতঃস্ফূর্ত হাসিঠাট্টা, সাজগোজের প্রস্তুতি, বরের সঙ্গে খুঁটিনাটি সব কিছুই ক্যামেরাবন্দী করার চেষ্টা করি আমরা। কারণ ক্লাইন্টের প্রত্যেকটি মুহূর্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন বিয়ের ছবি তোলা হয় ডকুমেন্টরি ধরণের। অর্থাৎ গায়ে হলুদ দেওয়া থেকে শুরু করে বিয়ের শেষ সময় পর্যন্ত সব কিছু সাজানো থাকে অ্যালবামে। সঙ্গে ফটোগ্রাফারদের নানা সৃজনশীলতার কারসাজি। আপনার যদি উচ্চ বাজেট থাকে তাহলে ড্রোন দিয়ে তোলাতে পারেন ছবি। এতে বিয়ের ছবি যে আলাদা মাত্রা পায় তা বলা বাহুল্য। আর অ্যালবামেও এসেছে নতুনত্ব, এখন আর সাদামাটা ছবির প্রিন্ট আউট নয়, বরং পুরো অ্যালবামের প্রতিটা পাতাই একটা ছবির মতো করে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি পাতা একে অপরের থেকে আলাদা। কোনোটা গ্রুপ আবার কোনোটায় শুধু বর-কনের ছবি। একটা অ্যালবামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এমন ভাবে ছবি সাজানো থাকে যা দেখলে অনায়াসে বিয়ের গল্পটা অবলোকন হয়ে যাবে আপনার।

আর বিয়েতে ভিডিওগ্রাফি বা সিনেগ্রাফির কথা না বললেই নয়। ছবির মতো ভিডিওগ্রাফিতেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখন সবার হাতেই সময় কম। কেউই আর টানা দুই ঘণ্টার মতো ভিডিওগ্রাফিতে আগ্রহ পোষণ করে না। তাই ভিডিও হচ্ছে এখন স্বল্প দৈর্ঘের। অনেকে ভিডিওর সঙ্গে তৈরি করছেন ট্রেলার। কেউ বা আবার মিউজিক ভিডিও, ক্যামেরার কারি-কুরিতে ট্রেলার তৈরি করা হচ্ছে সিনেমার মতোই। তিন-চার মিনিটে ট্রেলার এ ফুটিয়ে তোলা হয় বিয়ের শুরু থেকে শেষ অব্ধি।

বিয়ের ফটোগ্রাফিতে এখন বেশ জনপ্রিয় প্রি-ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। বিয়ের আগে বর-কনে নিজেদের কিছু একান্ত মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করছেন। অনেকে আবার প্রি-ওয়েডিংকে স্মরণীয় করে তোলার জন্য পাড়ি দিচ্ছেন ছোট্ট একটা ট্রিপে এতে ছবিতে যেমন নতুননত্ব কিছু পাওয়া যায় তেমনে বর-কনে উভয়ের একটা রিফ্রেশমেন্টও হয়ে যায়।

বিয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টার দায়িত্ব কাকে দিবেন? এটা খুবই চিন্তার বিষয়, বর্তমানে নামে-বেনামে অনেক বিয়ের ফটোগ্রাফার, ফটোগ্রাফি টিম রয়েছে, এই জায়গায় এসে আপনাকে নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত, কাজ দেয়ার আগে দেখে নিন তাদের পোটফলিও। বাছাই করুন কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা। এগ্রিমেন্ট করার আগে তাদেরকে আপনার চাহিদা জানান, সব কিছু ঠিকঠাক হলে তবেই কাজটা তাদেরকে দিন।

মনে রাখবেন একদল সৃজনশীল দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন ফটোগ্রাফি টিমই আপনার বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্ত গুলো সঠিক ভাবে উপস্থাপন করবে আপনার কাছে। তাই এই বিষয়টা গুরুত্ব দিন।

ছবি তােলা কি জায়েজ? অনেকেই মনে করেন ক্যামেরায় ছবি তােলা হারাম, কোনটি সঠিক?

আসলে ক্যামেরার মাধ্যমে যে ছবিগুলাে তােলা হয়ে থাকে, সেগুলাে অনেকটাই ইমেজ এবং এই ইমেজগুলােতে সুস্পষ্টভাবে কোনাে প্রতিকৃতি অথবা পরিপূর্ণ আকার ধারণ করা হয় না। ক্যামেরায় এমন একটি ছবি আসে, যেখানে তেমন কিছুই থাকে না।

রাসুল (সা.) যেখানে ছবির কথা হারাম করেছেন, সেখানে কি তিনি এই ছবির কথা বলেছেন, নাকি একজন মানুষের মূর্তি | আবিষ্কার করা বা পরিপূর্ণ ছবি ধারণ করা সেটা বুঝিয়েছেন? এই নিয়ে পরবর্তী যুগের আলেম বা এই যুগের আলেমদের মধ্যে মতবিরােধ আছে।

মূল কথা হচ্ছে, ক্যামেরার যে ইমেজগুলাে আছে, রাসুল (সা.)-এর হাদিস দ্বারা সেগুলােকে বােঝানাে হয়নি। তাই এই ইমেজ যদি কেউ ধারণ করে থাকেন, সেটাকে যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ছবির আকার না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এটি ধারণ করা জায়েজ না জায়েজ নয়। ক্যামেরার মাধ্যমে এটি করতে পারেন।

কিন্তু এক্ষেত্রে আলেমদের একটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি ইজেতেহাদি বিষয়, সেটি হচ্ছে, সুস্পষ্ট কোনাে দলিলের মাধ্যমে বা রাসুলের (সা.) কোনাে সুস্পষ্ট হাদিসের মাধ্যমে এটি সাব্যস্ত হয়নি, সেটি হল— অপ্রয়ােজনীয়, অহেতুক কারণে বারবার ছবি তােলা বা ছবির কাজেই লিপ্ত থাকা।অনেক সময়ই দেখা যায় যে, হজ করার সময় আল্লাহর ঘরে তাওয়াফ করছেন, তখন তিনি ছবি তুলছেন। অথচ তাওয়াফের ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়, ইবাদত কবুলের সময়, তখন আপনি ছবি তুলবেন কেন! তাই প্রয়ােজন যদি না থাকে, সেক্ষেত্রে ছবি না তুলে, প্রয়ােজনীয় কাজ শেষ করা আপনার জন্য উত্তম। প্রয়ােজনীয় সময়ে ছবি তােলা বৈধ, এটি জায়েজ, আপনি ছবি তুলতে পারেন। এটি রাসুল (সা.) যে নিষেধ করেছেন, তার আওতাভুক্ত হবে না। মাসয়ালার উত্তর দিয়েছেন, বিশিষ্ট আলেম মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আই.এ/

মন্তব্য করুন