বুঝিয়ে-শুনিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘরে ফেরাতে চায় আ’লীগ

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২০

নতুন বছরের শুরুতেই সিটি নির্বাচন নিয়ে রাজধানী সরগরম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, সরকারবিরোধী বিএনপিসহ অন্যান্য দল এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাই ঢাকা সিটি নির্বাচন হতে যাচ্ছে এসব দলের অগ্নিপরীক্ষা।

ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল মেয়র, কাউন্সিলর পদে তাদের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ঢাকা উত্তর সিটিতে আতিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ সিটিতে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে নৌকার মাঝি হিসেবে ঠিক করেছেন ক্ষমতাসীনরা।

মেয়রপদে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা সম্ভব হলেও সমস্যা দেখা গেছে কাউন্সিলর পদ নিয়ে। প্রায় প্রতিটা ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। যাদের একজন দলীয় সমর্থন আদায় করতে সমর্থ হলেও অন্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নন! কাউন্সিলর নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় এবং অতীতে বিদ্রোহীদের কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তাদের বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার সিদ্ধান্তে এখনও অটল।

তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ জানুয়ারি দুই সিটিতে মেয়রের পাশাপাশি কাউন্সিলর নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন ১৭২টি কাউন্সিলর পদেও ভোটগ্রহণ করা হবে। ঢাকা উত্তরে ৫৪টি সাধারণ ও ১৮টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড এবং ঢাকা দক্ষিণে ৭৫টি সাধারণ ও ২৫টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদ রয়েছে।

এই ১৭২টি সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়ে ১ হাজার ৩০৯ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ২৯৩ জন শেষ পর্যন্ত ফরম জমা দেন। এর মধ্যে উত্তরে ছিলেন ৬২৬ ও দক্ষিণে ৬৬৭ জন। দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড যাচাই-বাছাই শেষে ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর দুই দফায় দলীয় সমর্থনপুষ্ট কাউন্সিলর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে।

কাউন্সিলল প্রার্থী হিসেবে যারা দলের সমর্থন পেয়েছেন তাদের মধ্যে যেমন ছিল প্রাপ্তির উচ্ছ্বাস, উল্টোদিকে যারা পাননি তাদের মধ্যে ছিল না পাওয়ার হতাশা। অনেকে আবার দলের সমর্থন না পেয়েও ভোটের মাঠে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যা অনেকটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের হাইকমাণ্ডের কাছে। এমন কি কাউন্সিলর পদে ঐক্য ধরে রাখা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে, যার প্রভাব মেয়র পদের নির্বাচনেও পড়তে পারে।

তবে দলের এসব বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপারে এখনো কঠোর হচ্ছে না আওয়ামী লীগ। বরং তারা ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। এর আগে বুঝিয়ে-শুনিয়ে, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কাউন্সিলর পদের বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঘরে ফেরাতে চাইছে সরকারি দল। কাউন্সিলর নির্বাচনে দলের বিদ্রোহীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টিকে ‘আবেগের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে দেখছে দলীয় হাইকমাণ্ড।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দুই সিটির ১৭২টি পদের বিপরীতে ১ হাজার ২৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গড়ে প্রতি ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আগামী ৯ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। ওই দিনই চূড়ান্ত হবে আওয়ামী লীগের কোন কোন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে গেছেন।

তাই ৯ জানুয়ারির আগেই দলীয় বিভেদ ঘুচিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার ওপরে জোর দিয়েছে আওয়ামী লীগের হাইকমাণ্ড। ইতোমধ্যেই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় মনোভাবের কথাও তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সামনে তুলে ধরেছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও দলের সমর্থিত কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের বাইরে দলীয় কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করতে আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে যেসব আওয়ামী লীগ নেতা মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলের হয়ে কাজ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তারা। ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে দলের স্বার্থে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের এক বিশেষ বর্ধিত সভায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘কাউন্সিলর পদে যাদের মনোনয়ন দিয়েছি, অনেককেই দিতে পারি নাই। দয়া করে কেউ অন্য কোনো প্রার্থী হবেন না। যদি হন মনে করব দলের প্রতি আনুগত্য নেই।’ কাউন্সিলর নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে দলীয় ঐক্যের ব্যাপারে শঙ্কা না থাকলেও চিন্তার কথা জানিয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান। ৯ জানুয়ারির আগে কাউন্সিলর পদে দলের মনোনীতি প্রার্থীর বাইরের প্রার্থীরা যদি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে দলের প্রতি পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দেন তাহলে তাদের পরবর্তীতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সুযোগ দেওয়া হবেও বলেও জানান ফারুক খান।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কদম আলী মাদবর। তার বিপরীতে সাবেক কাউন্সিলর মো. ইসমাইল হোসেন বেনুও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। বেনুর প্রার্থিতা নিয়ে উদ্বিগ্ন নন কদম আলী মাদবর।

আই.এ/

মন্তব্য করুন