পর্যটকদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

পর্যটকদের সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে খাগড়াছড়ি। পর্যটন স্পটগুলোতে এখন প্রতিদিনই ভ্রমণপ্রেমীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এখানকার প্রায় সব হোটেল-মোটেল ও কটেজ ভাড়া হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলায় ১১৫টি ও পার্শ্ববর্তী সাজেকে ১০২টি হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে সব মিলিয়ে ৬০-৭০ হাজার পর্যটক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে পর্যটক সমাগম হচ্ছে। নতুন কিছু পর্যটন স্পট যুক্ত হওয়া এবং বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়নের সুবাদে এই সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে হাজার হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল বলে মনে করে প্রশাসন।

পুরনো পর্যটন স্পটগুলোর পাশাপাশি গত একদশকে নতুনভাবে ২০-২৫টিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক স্থান যুক্ত হয়েছে জেলায়। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রায় প্রতিটি উপজেলায় বিভিন্ন মনোরম স্থানকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে।

জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। এসব স্থানকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও সাজেকে গড়ে উঠেছে দুই শতাধিক সরকারি-বেসরকারি হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস ও অতিথিশালা। এছাড়া চালু হয়েছে প্রায় ২০০-৩০০ ছোট-বড় রেস্তোরাঁ।

ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত খাগড়াছড়ি ও সাজেকে প্রচুর পর্যটক আসেন। এসব মাসের বেশিরভাগ দিন হোটেল পূর্ণ থাকে। পর্যটকদের জন্য তাদের হোটেলে স্থানীয় বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার রাখা হয়। এছাড়া কেউ চাইলে নির্ধারিত ফি দিয়ে স্থানীয় শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান উপভোগ করতে পারেন।

বিপুলসংখ্যক মানুষ বেড়াতে আসায় গাড়ি ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রীর দোকানিরা লাভবান হচ্ছেন। পর্যটক সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মতো লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এখন কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য আর নষ্ট হয় না। কারণ পর্যটকরা এসব কৃষিজ পণ্য ব্যবহার করায় কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন ও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।’

হোটেলে এখন গড়ে দুই-তিনশ’ স্থানীয় ও বাইরের অতিথি আসেন। পর্যটন শিল্পের বিকাশে শত শত খাবারের হোটেল ও রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। খাগড়াছড়িট্যুরিস্ট বাস, মিনিবাস, মাইক্রো, কার, সিএনজি, চাঁদের গাড়ি, মোটরসাইকেলে যাতায়াত করেন পর্যটকরা। জেলার নয়টি উপজেলায় পর্যটকদের সেবায় দুই শতাধিক গাড়ি রয়েছে।

ডিসেম্বরে খাগড়াছড়িতে গড়ে ৬০-৭০ হাজার পর্যটক এসেছেন। পরিবহন খাতেও কর্মসংস্থান বেড়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন স্পটে যাতায়াতের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত যানবাহন রয়েছে।

পর্যটকদের জন্য কয়েকশ’ অস্থায়ী দোকানপাট আছে খাগড়াছড়িতে। এগুলোতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাপড়, শার্ট, পাঞ্জাবি, পিনন, পাহাড়ি পোশাক বিক্রি হয়। এছাড়া ডাব, পেঁপে, কলা, তেঁতুলসহ বিভিন্ন ফলের দোকানগুলোতে ভিড় দেখা যায় তাদের। অনেক পর্যটন স্পটে রয়েছে অস্থায়ী ফলের জুসের স্টল।

পর্যটকদের সুবাদে খাগড়াছড়িতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটছে। তারা স্থানীয়ভাবে তৈরি কাপড় কেনেন। মেয়েদের মধ্যে পাহাড়ি নারীদের বানানো থামী, পিনন, ব্লাউজ, কাঠের তৈরি বিভিন্ন শো-পিসের ব্যাপক চাহিদা।’

পাহাড়ের ছড়াছড়িতে খাগড়াছড়ির সর্বত্র সবুজাভ আবহ। সেই সঙ্গে পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া চেঙ্গী, মাইনি ও ফেনী নদী খাগড়াছড়িকে সাজিয়েছে অপরূপ সাজে। চারদিকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সবুজ পাহাড়, ঝরনা, প্রাকৃতিক লেক, কৃত্রিম লেক এবং ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় জীবন-সংস্কৃতির জন্য পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় এই জেলা।

সদর উপজেলার হর্টিকালচার পার্ক, আলুটিলার প্রাকৃতিক গুহা, হেরিটেজ পার্ক, শতবর্ষী বিশ্বশান্তি রাজ মহামুনি বৌদ্ধ চৈত্য বিহার, আলুটিলা বৌদ্ধ বিহার, কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, দশবল বৌদ্ধ বিহার, চেংগী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থাপনা, মাটিরাঙার শতবর্ষী বটগাছ, উপজেলা প্রশাসন লেক জলপাহাড়, ভগবান টিলা, রিছাং ঝরনা, মহালছড়ির মনারটেক লেক, দেবতার পুকুর, মানিকছড়ির বনলতা অ্যাগ্রো প্রাইভেট, পুরনো রাজবাড়ি, পানছড়ির অরণ্য কুঠির, মায়াবিনী লেক, রাবার ড্যাম, রামগড়ের কৃত্রিম লেক, চা বাগান, কলসী মুখ, বিজিবি’র ভাস্কর্য, দীঘিনালার হাজাছড়া-তৈদুছড়া ঝরনাসহ শতাধিক মনোরম পর্যটন স্পট রয়েছে খাগড়াছড়িতে।

দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ করতে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে এগুলো। ঝরনা, উঁচু-নিচু পাহাড়, অবারিত পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা দেখে মন ভরে যায় ভ্রমণপ্রেমীদের।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য খাগড়াছড়ি চমৎকার জায়গা। জেলায় পর্যটন স্পট বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের পরিকল্পনা আছে সরকারের। জাতীয় বাজেটে জেলাভিত্তিক উন্নয়নের খাত হিসেবে পর্যটনকে নির্ধারণ করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতে অসাধারণ কিছু পর্যটন স্পট আছে। এগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে সাজানো হবে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন