স্ত্রীকে ভালোবাসা কি দুর্বলতা?

প্রকাশিত: ৮:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার

‘আমাদের সমাজে স্ত্রীকে ভালোবাসাটাও এক ধরণের দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়।’ কথা আমভাবে বলা ঠিক না। ভালোবাসাটা যদি হয় মাত্রাতিক্ত তাহলে কথাটা পুরোপুরি সঠিক। আমাদের সমাজের অনেক  মেয়েরা আসলেই এই বাড়তি ভালোবাসাকে পুরুষের দুর্বলতা মনে করেন। এটাকে পুঁজি করে বিভিন্ন ধরণের চাপও প্রয়োগ করেন। পুরুষদের বাধ্য করেন নানান কিছুতে। এই জন্য আমাদের সমাজে স্ত্রীকে ভালোবাসা নয় একটু বেশি ভালোবাসাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়।

মাত্রাতিক্ত কোনকিছুই ভালো নয়। স্ত্রী আপনার ভালোবাসাকে দুর্বলতা হিহেবে নিচ্ছে এই জন্য তাকে ভালোবাসা বন্ধ করে দিবেন! তার সঙ্গে অসদাচরণ করবেন! সেটা কখনোই উচিৎ হবে না। সঙ্গিকে বুঝুন এবং বোঝার চেষ্টা করুন। তার সঙ্গে যৌক্তিক আলোচনা করুন। ভালোবাসার দাবিতে কখনও তার ওপর ভারি কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। আজকাল আমাদের সমাজে স্বামী স্ত্রী উভয়কেই এমন করতে দেখা যায়। সবাই নিজের চিন্তা আগে করেন।

সবকিছু আপনার নিজের মতো করে হবে না। কিছু কিছু জিনিস আপনার চাওয়া মোতাবেক হবে না। বিয়ের পর পরই অনেকে স্ত্রীকে একেবারে নিজের মতো বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। স্ত্রী নিজের মতের বা মনের একটু উল্টাপাল্টা করলেই তাকে বকাঝকা করেন। এটা একদমই অনুচিত কাজ। তাকে বোঝান সময় দিন। এরপরও যদি না হয় তাহলে মেনে নিন। সবকিছু আপনার মতো হবে না। একটা মানুষ তাকে পরিপূর্ণ বদলে ফেলতে পারে না। কিছু বিষয় থাকবে যেখানে দু’জনের মধ্যে কোনও মিল নেই। সেগুলো নিজ অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।

ও আমাকে আগের মতো ভালোবাসে না। অনেক স্ত্রীকেই এমন অভিযোগ করতে শোনা যায়। স্বামীদের অভিযোগ থাকে ও আমাকে বোঝার চেষ্টা করে না। ওর মন পাওয়া যায় না কোনকিছুতেই। এটাও একটা বড় সমস্যা। বিয়ের প্রথম প্রথম দু’জনের মধ্যেই বাড়তি একটা আবেগ থাকে। একজন লোক বলছিলেন, বিয়ের ছয় মাস পর্যন্ত তার মাথায় একটা জিনিসই সারাদিন ঘুরপাঁক খেত। সেটা হলো তার স্ত্রী। তিনি যেখানেই থাকতেন যে অবস্থায় থাকতেন স্ত্রীকে তিনি ভুলতে পারতেন না। কিন্তু আবেগটা এক সময় মিইয়ে যায়। সমস্যা হয় তখন। আবেগকে আমল না দিলে বাস্তবতা নিয়ে ভাবুন।

বিচ্ছেদই সমাধান নয়। বৈবাহিক জীবনে একটু টানাপোড়েন সৃষ্টি হলেই অনেকে সবার আগে বিচ্ছেদের কথা ভাবেন। সামান্য সমস্যার তৈরি হলেই কিছু মানুষ মনে করেন, সবে শুরু পরে আমার সঙ্গে আরও বড় কিছু হবে। এই ধারণা থেকেই বিচ্ছেদ হয় অনেকের। আবার কিছু মানুষ অনেক বড় সমস্যা তৈরি হওয়ার পরও বিচ্ছেদের চিন্তা করেন না। এটা ঠিক নয় বলে মনে করেন অনেকে।

কখনো একজনে একটা জিনিস সমস্যা মনে করছেন কিন্তু অন্যজনের কাছে সেটি মোটেও সমস্যার নয়। বিষয়টিকে যিনি সমস্যা হিসেবে দেখছেন তিনি তিক্তবিরক্ত হচ্ছেন কিন্তু সঙ্গিকে বলতে পারছেন না বা বলছেন না। এর থেকে তৈরি হচ্ছে মনোমালিণ্য। কখনোই চুপ করে থাকবেন না। কোনও বিষয় সমস্যা মনে হলে সেটা নিয়ে সঙ্গির সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

লেখক: সহসম্পাদক (সাব এডিটর) পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন