থার্টি ফার্স্ট নাইট; নারী ও মদে পঙ্কিল বছরের প্রথম দিন

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

আমরা অতি শীঘ্র ২০২০-এ পদার্পণ করতে যাচ্ছি। আমাদের জীবন থেকে পূর্ণ একটি বছর বিদায় নিতে যাচ্ছে। নতুন বছরকে নতুন চেতনায় গ্রহণ করতে হলে মুহাসাবা ও আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই। অথচ এই সময় আত্মসমালোচনার পরিবর্তে আত্মবিস্মৃতির দৃষ্টান্তই প্রকটভাবে দেখা যায়।

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দেশের শহর-নগরগুলোতে জমে ওঠে উদ্দাম নাচ-গানের আসর। এটাকে কেন্দ করে একশ্রেণির মানুষের মধ্যে উন্মাদনা দেখা যায়। এই উন্মাদনা এতটাই বাঁধভাঙ্গা রূপ ধারণ করে যে, রীতিমতো আইন্তশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে। থার্টি ফার্স্ট নাইট-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইহুদিদের বড় দিন-সহ আরও বেশ কিছু কালচার। একদল মানুষ বিভিন্ন মিষ্টি কথা বলে মুসলিম সন্তানদের এগুলো ঢুকিয়ে দিতে সবসময় সচেষ্ট থাকে। বিষয়গুলোে এমনভাবে উপস্থাপন করে এই উন্মাদনা যেন অপরিহার্য।

এই উচ্ছৃঙ্খল পশ্চিমা কালচার বিগত দেড় দশক ধরে বাংলাদেশে চর্চিত হচ্ছে। এদেশের ঈমানদার নাগরিকদের জন্য এর চেয়ে লজ্জার বিষয় আর কী হতে পারে?

মুসিলম সন্তানরা এ রাতে আল্লাহর নাফরমানীর সয়লাবে ভেসে যায়। ছেলেমেয়ের অবাধ মেলামেশা প্রকট রূপ ধারণ করে। তরুণ-তরুণীরা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়, রেস্তোরাঁ, পার্ক-উদ্যান, নাইট ক্লাব ইত্যাদিতে। বহু অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে।

নাইট ক্লাব ও ‘অভিজাত’ হোটেলগুলোতে বসে মদের আসর। তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করার জন্য থাকে নানা রকম আয়োজন। ফলে নারী ও মদে পঙ্কিল হয়ে ওঠে বছরের প্রথম দিনরাত্রিগুলো। পাপাচার ও নাফরমানির মধ্য দিয়ে যে বছরের সূচনা তা জাতির জীবনে কতটুকু সুফল বয়ে আনবে তা খুব সহজেই অনুমেয়।

এই নোংরা কালচারটি আমদানী করেছেন এদেশেরই কিছু বুদ্ধিজীবী। এরা একটি শালীন সমাজের বুনিয়াদ গড়ার পরিবর্তে অশ্লীলতার ভাগাড় সৃষ্টি করতেই উৎসাহী। এরা একদিকে পহেলা বৈশাখের মাহাত্ম্য প্রচার করেন অন্যদিকে ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ উদযাপনের উসকানী দিয়ে থাকেন। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, তারাই আবার যুবশ্রেণীকে বিভিন্ন রকম সুন্দর সুন্দর স্লোগান দিতে শিখিয়ে দেন, উপদেশ দেন ‘মাদক, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনকে না বলুন’।

একজন সাধারণ রুচিশীল মানুষও থার্টি ফার্স্ট নাইটের এই নোংরামি সমর্থন করতে পারেন না। এই ধরনের পাপাচার বন্ধ করতে সচেষ্ট হওয়া প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের অবশ্যকর্তব্য। আর একটি মুসলিম দেশের অভিভাবক হিসেবে দেশের সরকারের কর্তব্য এই ধরনের চরিত্রবিধ্বংসী বিজাতীয় উৎসব কঠোরহস্তে দমন করা।

আই.এ/

মন্তব্য করুন