মা-বাবার প্রতি সম্মান বজায় রাখার ৩৫ টি সুন্দর কৌশল

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৯

ফাইজা বিনতে আবদুল্লাহ (ছদ্মনাম)

মা-বাবা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নির্ভরতার প্রতিক। সমাজ, ধর্ম, জাতী ও জীবন চলার প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার গুরুত্ব ও শিক্ষা সমানতালে দেওয়া হয়। ইসলাম ধর্মে মা-বার প্রতি সম্মান বজায় রাখার জোর শিক্ষা ও গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘আর তোমার প্রভু নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তম আচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়ই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। আর তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বল। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়াপরবশ হয়ে মমতা ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও এবং বল, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’ (সূরা বনী ইসরাইল : ২৩-২৪)।

হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছন, ‘যে ব্যক্তি তার বাবা-মা উভয়কে অথবা দুইজনের যে কোনো একজনকে বৃদ্ধ অবস্থায় পেল এবং তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে ধ্বংস হয়ে যাক।’ (মুসলিম : ৬২৭৯)।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছেন। আর দুই বছর পর্যন্ত স্তন্যদান করেছেন।’ (সূরা লোকমান : ১৪)।

হাদিস শরীফে আরও এসেছে, হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমরা তোমাদের বাবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না। কেননা যে ব্যক্তি আপন বাবা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, সে কুফরি করল।’ (বোখারি : ৬৩১১)।

শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকেই নয় বরং সমাজ, মানবতা ও মনুষত্যবোধের বিবেচনা থেকেই বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়-দায়িত্ব ও তাদের প্রতি ভালোবাসা বজায় রাখা কর্তব্য। অনেক ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক থাকার পরও দেখা যায় অনিচ্ছাকৃত বা অসতর্কতাবশত বাবা-মায়ের প্রতি আমাদের অসম্মান হয়ে যায় বা আমরা জানিই না বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার পন্থাগুলো কি।

তাই, বাবা-মায়ের প্রতি সম্মান বজায় রাখার কিছু সুন্দর পন্থা বর্ণনা করা হলো।

১- পিতামাতার উপস্থিতিতে নিজের মোবাইল দূরে রাখা।
২- তাদের কথাবার্তা গুরুত্বের সাথে শ্রবণ করা।
৩- তাদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
৪- (ঘরোয়া) আলাপ-আলোচনায় তাদের সঙ্গ দেওয়া।
৫- তাদের দিকে শ্রদ্ধাবনত দৃষ্টিতে দেখা, চোখ উচিয়ে তাদের সাথে স্বাভাবিক কথাও না বলা।
৬- সর্বদা তাদের সম্মান করতে বদ্ধপরিকর থাকা।
৭- ভালো সংবাদগুলো তাদের সাথে ভাগাভাগি করে নেওয়া।
৮- দুঃসংবাদগুলো তাদের থেকে যথাসম্ভব গোপন রাখা।
৯- তাদের প্রিয়জনদের ব্যাপারে ইতিবাচক কথা বলা এবং তাদের সাথেও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখা।
১০- সবসময় তাদের কৃত সুন্দর কাজগুলোর আলোচনা করা।
১১- একই কথা যখন তারা দ্বিতীয়বার বলবেন, তখন এমনভাবে শ্রবণ করা; যেন এই প্রথমবার শোনা হচ্ছে।
১২- অতীতের তিক্ত ও বেদনাদায়ক স্মৃতিগুলো তাদের সামনে আলোচনা না করা।
১৩- তাদের উপস্থিতিতে অন্যসব আলাপ-আলোচনা বন্ধ রাখা।
১৪- তাদের সামনে আদবের সাথে বসা।
১৫- তাদের মতামত কিংবা সিদ্ধান্তের সামান্যতম বিরোধিতাও না করা।
১৬- যখন তারা কথা বলবেন, তাদের কথার মাঝে নিজে কথা না বলা। (তাদের কথা কেড়ে না নেওয়া)
১৭- তাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সম্মানের প্রতিও বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা।
১৮- তাদের উপস্থিতিতে নিজের সন্তানদের শাসন করতে না করা।
১৯- তাদের পরামর্শ এবং আদেশ মাথা পেতে নেওয়ার মানসিকতা থাকা।
২০- তাদের উপস্থিতিতে কেবল তাদের থেকেই পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নেওয়া।
২১- তাদের সামনে কখনো নিজের আওয়াজকে উঁচু না করা।
২২- তাদের সাথে হাটা বা চলার সময় তাদের আগে চলা কিংবা সামনে বেড়ে যাওয়া থেকে বিরত থাকা।
২৩- তাদের আগে খাওয়া শুরু না করা।
২৪- তাদের সামনে নিজেকে বড় কিংবা অহংকারীরুপে প্রদর্শন না করা।
২৫- যখন তারা নিজেরাই কোন কাজের জন্য নিজেদের যোগ্য মনে করবে না, তখন তাদের মনক্ষুণ্ণ হতে না দিয়ে সাহস জোগানো এবং তাদেরকে বিশেষভাবে তাদের মূল্যায়ন করা।
২৬- তাদের সামনে বা তাদের পিঠের দিকে পা না মেলে বসা।
২৭- তাদের সাথে অসাদাচারণ না করা।
২৮- তাদের জন্য দোয়া এবং তাদের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করার চেষ্টা করা সব সময়।
২৯- তাদের সামনে কখনো নিজেকে ক্লান্ত বলে প্রকাশ না করা।
৩০- তাদের থেকে কোন ভুল প্রকাশ পেলে কোন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করা এমনকি মুচকি হাসি দেয়া থেকেও বিরত থাকা।
৩১- সবসময় তাদের জিয়ারত ও সাক্ষাৎ করার চেষ্টা করা।
৩২- তাদের সাথে কথা বলতে সুন্দর শব্দ ব্যবহার করা।
৩৩- তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসামাখা নামে ডাকা।
৩৪- সবকিছুতে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
৩৫- পিতামাতা পৃথিবীর বুকে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। সুতরাং ইন্তেকালের আগেই তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

আসুন! আজই তাহলে প্রিয় পিতামাতার জন্য খুব খুব দুআ করি এবং নিজের সাথে নিজে ওয়াদাবদ্ধ হই যে, কখনও তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করবো না।

[উপমহাদেশের একজন শ্রেষ্ট ইসলামের দা’য়ী তার কণ্যাকে পাশে বসিয়ে এই উপদেশগুলো প্রদান করেছেন। উর্দু থেকে বাংলায় রুপান্তর করে লেখাটি তিনিই পাবলিক ভয়েসে পাঠিয়েছেন]

সম্পাদনা : হাছিব আর রহমান। নির্বাহী সম্পাদক, পাবলিক ভয়েস টোয়েন্টিফোর ডটকম।

মন্তব্য করুন