জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কী?

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা:

বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আলোচিত দুই মামলার প্রথমটি ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় এ মামলাটি করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, এতিমদের সহায়তা করার জন্য কুয়েতের আমীর ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা পাঠান। যা ১৯৯১ সালের ৯ জুন সৌদি আরবের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সেই টাকা বিএনপি নেত্রী আইন বহির্ভূতভাবে অস্তিত্বহীন ‘জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট’কে দান করেন। যার সেটেলার ট্রাস্টি করেন নিজের দুই পুত্র তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফত রহমানকে (কোকো)।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধ।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার কাছে একটা অনুদান এসেছিল। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা জমা হয়। এতিমের স্বার্থে ওই টাকা ব্যয় করার কথা ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা আছে সে ক্ষমতা অনুসারে তিনি বাংলাদেশের সকল তহবিল সংরক্ষণ করবেন। কিন্তু ১৯৯৩ সালে তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট নামে একটা ট্রাস্ট গঠন করেন। যার ঠিকানা ছিল তার বাসভবন। ওই তহবিলের টাকা দুই ভাগ করে একভাগ তার দুই পূত্রকে সেটেলার ট্রাস্টি বানিয়ে সেখানে দিয়ে দেন।

অভিযোগ গঠন:

দুদক-এর উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ ২০১০ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলার অপর আসামী:

এই মামলার অপর আসামীরা হলেন, বেগমা জিয়ার জৈষ্ঠ ছেলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান (পলাতক রয়েছেন), মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ। আসামীদের প্রত্যেকের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়।

অভিযোগ:

দুদকের আইনজীবি বলেন, একটা আইন আছে যে, ট্রাস্টে দশজন এতিম থাকতে হবে। সমাজকল্যাণ দপ্তরের নিবন্ধন করতে হবে। বেগম জিয়া সেগুলোর কোনোকিছুই করেননি। সুতরাং আমরা বলেছি এটা রাষ্ট্রের টাকা, এতিমের স্বার্থে এসেছিল। এতিমের স্বার্থে ব্যয় না করে বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন এবং ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে তিনি এই টাকাগুলি আত্মসাৎ করেছেন।

বিএনপি নেত্রীর আইনজীবিদের জবাব:

দুদকের আইনজীবির অভিযোগের জবাবে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী আবদুর রেজাক খান গণমাধ্যমকে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কোনোরকম হস্তক্ষেপ এটার মধ্যে নেই। তিনি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের কোনো ট্রাস্টি নন, সেটেলার নন, কোনো বেনিফিসিয়ারিও নন। মোটামুটি যে টাকা এসেছিল দুই কোটি দশ লাখ টাকা সেটা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে কয়েকগুন বেশি হয়েছে। এই টাকা খরচ হয়নি। কোনো আত্মসাৎও হয়নি।

খালেদার আইনজীবিদের দাবি, এই ঘটনায় খালেদা জিয়া জড়িত নন, এবং সেই টাকাও আত্মসাৎ করা হয়নি, কারণ এসব টাকা এখনো ব্যাংকের হিসাবেই জমা রয়েছে।

রায়:

প্রায় ১০ বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এই মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই সাথে প্রত্যেক আসামীকে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা ৮০ পয়সা অর্থদণ্ড দেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিনের শুনানি হতে পারে বিস্তারিত জানতে পড়ুন… খালেদার জামিনে চোখ বিএনপি নেতা-কর্মীদের: পেছাতে পারে শুনানি

প্রতিবেদন তথ্যসূত্র:  দৈনিক প্রথম আলো, নয়াদিগন্ত, সমকাল, যুগান্তর, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন বিবিসি বাংলা, ডয়চে ভেলে ও উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য করুন