জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কী?

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট কী?

বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আলোচিত দুটি মামলার দ্বিতীয়টি হলো ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’ দুর্নীতি মামলা। ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে দুদক ২০১১ সালের আগস্টে তেজগাঁও থানায় এ মামলাটি করে।

অভিযোগ:

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারে যে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। যেটির ট্রাস্টি ছিল খালেদা জিয়ার দুই ছেলে। ট্রাস্টের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করা হলেও তারা সেটি দাতব্য কাজে খরচ করেননি।

এই ট্রাস্টে প্রায় আট কোটি টাকা জমা হয়েছিল বলে দুদকের দাবি। তবে এর মধ্যে বিএনপির দলীয় ফান্ড থেকে যে টাকা এসেছিলো দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে সেটা বাদ দেয়া হয়। দুদকের অভিযোগে বলা হয়, অবশিষ্ট ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার কোনো উৎস তারা দেখাতে পারেননি।

অভিযোগ গঠন:

২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতে এর চার্জশীট দাখিল হয়। এরপর ২০১৪ সালের মার্চ মাসে এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করা হয়।

অপর আসামীরা

এই মামলার অপর আসামীরা হলেন খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, তৎকালীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান এবং হারিস চৌধুরীর একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না।

রায়:

এই মামলায় প্রায় ৮ বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একই বছরের ২৯ অক্টোবর ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে সাজা ঘোষণা করেন রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আখতারুজ্জামান।

আজ বৃহস্পতিবার জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিনের শুনানি হতে পারে বিস্তারিত জানতে পড়ুন… খালেদার জামিনে চোখ বিএনপি নেতা-কর্মীদের: পেছাতে পারে শুনানি

আরো পড়ুন… জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট কী?

প্রতিবেদন তথ্যসূত্র:  দৈনিক প্রথম আলো, নয়াদিগন্ত, সমকাল, যুগান্তর, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন বিবিসি বাংলা, ডয়চে ভেলে ও উইকিপিডিয়া।

মন্তব্য করুন