শপথ নিলেন জামায়াতে ইসলামের নবনির্বাচিত আমীর

প্রকাশিত: ৫:৫৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৫, ২০১৯

২০২০-২০২২ কার্যকালের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত আমীর ডা: শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ করেছেন। শপথ বাক্য পাঠ করান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মা’ছুম।

রাজধানীর একটি অডিটোরিয়ামে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই শপথ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদ, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও সাবেক এমপি হামিদুর রহমান আযাদসহ নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

শপথ শেষে দেশবাসী ও সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সকল প্রশংসা একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালার যিনি ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। কঠিন সময়েও তার রহমতের দুয়ার আমাদের জন্য অবারিত রেখেছেন। আপনারা ইতোমধ্যেই অবগত হয়েছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা ভোটের মাধ্যমে আমাকে এ সংগঠনের আমীর নির্বাচিত করেছেন।

এ ছাড়াও তিনি জামায়াতের সাবেক বেশ ক’জন নেতাকে স্মরণ করেন, যারা ইন্তেকাল করেছেন ও কারাগারে বন্দি আছেন। তিনি বলেন, সেই সাথে গভীর মর্মবেদনা নিয়ে স্মরণ করছি জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের সেই সমস্ত ভাই ও বোনদের যারা দ্বীন কায়েমের সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করেছেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্রীসংস্থাসহ বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে মাসের পর মাস জেলখানায় আটকিয়ে রাখা হয়েছে। বহু সংখ্যক নেতা ও কর্মীকে ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শত শত নেতা-কর্মীকে রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক, মানসিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে অনেককে পঙ্গু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তি। কিন্তু আজ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কিছু নেই। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ নেই। মানুষের মৌলিক অধিকার আজ ভূলুণ্ঠিত। মিছিল-সমাবেশসহ সকল রাজনৈতিক কর্মসূচি কার্যত নিষিদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত না থাকায় দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ জনজীবনকে অতীষ্ঠ করে তুলেছে। সরকারি ছাত্র সংগঠনের ছাত্র নামধারী ক্যাডাররা দেশের বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টর্চার সেল তৈরি করেছে। বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারকে প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে পৈশাচিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা, খুন, গুম, অপহরণ, ধর্ষণ অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিরোধী মত দমনে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে।

এই নেতা বলেন, দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। অপরদিকে কৃষিপণ্য ও চামড়ার নায্যমূল্য পাচ্ছে না কৃষক-জনতা। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দলীয় লোকদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ঘুষ-আত্মসাৎ, মদ-জুয়া, ক্যাসিনো দেশকে গভীর সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী এবং অসাধু সরকারি কর্মকর্তারা লাগামহীন দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ছে।

তিনি বলেন, দুনিয়ায় মানুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল বিচারাঙ্গণের অবস্থা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সরকার কর্তৃক একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার নজীরবিহীন ঘটনাই প্রমাণ করে বিচারাঙ্গণের চরম দুরবস্থার কথা। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা অনুপস্থিত।

সংস্কৃতির নামে বিদেশী অপসংস্কৃতিকে জোরপূর্বক জাতির ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ৫ শ’ বছরের পুরোনো বাবরী মসজিদ সম্পর্কে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছেন তা ভারতের জনগণ ও মুসলিম উম্মাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা আশা করি ভারত সরকার বাবরী মসজিদটি পূর্বের স্থানে পুনরায় নির্মাণ করে সে দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় মৌলিক অধিকারের প্রতি সুবিচার করবেন। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান, চীনের উইঘুর মুসলমান, আফগানিস্তান, মিসর, ইরাক ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের উপর চরম জুলুম-নিপীড়ন চলছে। এ সব সমস্যার যথাযথ সমাধান খুঁজে বের করে নির্যাতিত-নিপীড়িত মুসলমানদের বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য তিনি ওআইসি, জাতিসংঘসহ সকল শান্তিকামী রাষ্ট্র ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আই.এ/

মন্তব্য করুন