ফেসবুক থেকে আয় করবেন যেভাবে; পর্ব-১

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

ফেসবুকে আমরা সবাই আসক্ত হয়ে পড়ছি। অনেকে বলছেন কিংবা বিশ্বাস করছেন, ফেসবুক মানেই সময় নষ্টের জায়গা, ফেসবুক মানেই বর্তমান যুগে সব কুকর্মের স্থান। ফেসবুক মানেই হলো তরুণ ছেলেমেয়েদের বিপথে যাওয়ার জায়গা। কথাগুলো কিন্তু মিথ্যা নয়। আসলে এ ঘটনাগুলো এখন ফেসবুকের মাধ্যমেই ঘটছে।

ফেসবুক ব্যবহার করতে পারেনা, বর্তমান পৃথিবীতে এরকম মানুষ খুব কম আছে। ফেসবুক ব্যবহারে বিরক্তি কখনই সৃষ্টি হয়না। নেশার মত ব্যবহার করছে সবাই। ফেসবুক ব্যবহার করে বাংলাদেশেই বর্তমানে প্রচুর মানুষ ইনকাম করছে। তাদের ফেসবুকের নেশাটা মূল্যবান সময় নষ্ট করছে না। বরং নিয়ে আসছে প্রচুর টাকা, যা দিয়ে চলছে তার পুরো পরিবার।

এমনকি অনেক বড় বিজনেস চলছে ফেসবুকের উপর নির্ভর করে। সেজন্য সেই বিজনেস অফিসে ফেসবুক এর উপর দক্ষ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। যাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে ১০-৪০হাজার টাকা। আবার এদেশেরই অনেক মেয়ে বাহিরে চাকুরি করতে পারছেনা দেখে ফেসবুককে ব্যবহার করে ঘরে বসেই ইনকাম করছে এবং যার মাধ্যমে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে।

সব কিছুর ভালো এবং খারাপ দুটো দিকই রয়েছে। সচেতনতার অভাবে আমরা হয়তো খারাপ কাজেই বেশির ভাগ সময় ফেসবুককে ব্যবহার করছি, কিন্তু যারা অনলাইন প্রফেশনাল, তারা ফেসবুককে বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ মনে করছে। আপনি কীভাবে কাজে লাগাবেন, সেটি আপনার সিদ্ধান্ত।

আমরা সবাই ফেসবুক ব্যবহারটা জানি। এখানে আর কিছু বিষয় জেনে নিলে ফেসবুক থেকে মাসে ভালো একটা ইনকাম করা সম্ভব। আগে জেনে নেই, ফেসবুক ব্যবহার জেনেই কীভাবে ইনকাম করতে পারি?

১) এফ-কমার্স: ফেসবুকে পেজ খুলেই বাংলাদেশে ই-কমার্স ব্যবসা করা যায়। যেটা ইদানীং সবাই ফেসবুকে দেখছেন।  যারা এভাবে কাজ করছেন, তাদের মাসিক আয় হচ্ছে ১০,০০০ টাকা – ৩০,০০০ টাকা। কারও কারও ভালো ইনভেস্ট থাকার কারণে আরও বেশি ইনকাম হচ্ছে। সেটা ১ লাখ থেকে ২ লাখও হতে পারে।

২) টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন: বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক জনপ্রিয় ইনকাম সোর্স হচ্ছে টি-শার্ট অ্যাফিলিয়েশন। এ অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধুমাত্র ফেসবুককেই ব্যবহার করা হয়। এভাবে মাসে ১০,০০০ টাকা থেকে ১ লাখ টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

৩) হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশন: হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনের জন্য শুধুমাত্র ফেসবুক মার্কেটিং করে ইনকাম করা যায়। ইনকাম কয়টা সেল করেছেন, সেই অনুযায়ী বাড়তে থাকে। ইনকাম মাসে ৫০০০ টাকা – ৮০,০০০ টাকা হতে পারে। তবে হোস্টিং অ্যাফিলিয়েশনকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়া সম্ভব না। কারণ নিয়মিত ইনকাম সম্ভব হবে না।

৪) লোকাল ব্যবসা: লোকাল যে কোন ব্যবসার প্রফিট বৃদ্ধির জন্য এখন ফেসবুক মার্কেটিংকে সবাই ব্যবহার করছে। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা, ফ্যাশন হাউস থেকে শুরু করে আরও অন্যান্য ব্যবসাতেও ফেসবুকে মার্কেটিং করেই ইনকাম বৃদ্ধি করতে হয়।

৫) লোকাল চাকরি: যে কোনো ব্যবসাতে যেহেতু ফেসবুক মার্কেটিং এখন বড় একটি ফ্যাক্ট। সুতরাং, প্রতিটা প্রতিষ্ঠানে এ কাজটি করার জন্য ফেসবুক মার্কেটিংয়ের এক্সপার্ট লোকজনের চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বাজারে এখন পর্যন্ত ১২ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা বেতনে এ সেক্টরে চাকরিতে নিচ্ছে।

৬) সাইটে ট্রাফিক আর সেখান থেকে অ্যাডসেন্স: একটা সাইটে যত বেশি ট্রাফিক নিয়ে আসতে পারবেন, তত সাইটের অ্যাডভার্টাইজ থেকে ইনকাম বৃদ্ধি পাবে। ইনকাম ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ হতে পারে।

৭) নিজের দক্ষতাকে ব্রান্ডিং: আপনি যদি নিজেকে দক্ষ মনে করেন, কিন্তু কোথাও তারপরও চাকরি হচ্ছে না, তাহলে সেক্ষেত্রে বলব, আপনি আপনার দক্ষতাকে ফেসবুকের মাধ্যমে প্রমোশন চালান। তাহলে ফেসবুকের মাধ্যমেই অনেকে দক্ষতার ব্যাপারে জানতে পারলে আপনার কাজের অভাব হবে না। কাজ আপনাকে খুঁজে বের করবে। তখন কাজ করে শেষ করতে পারবেন না।

৮) ফাইভারের গিগ সেল বৃদ্ধি: ফাইভারে গিগের যত বেশি প্রমোশন চালাবেন, ততই গিগ সেল বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু ফেসবুক প্রমোশন চালাতেও সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। সঠিক জ্ঞান ছাড়া গিগ প্রমোশন চালালে ফাইভারে ইনকাম বাড়বে, উল্টো ফাইভার অ্যাকাউন্টটাই নষ্ট হয়ে যাবে।

৯) মার্কেটপ্লেসে কাজ: ফেসবুক যেহেতু মার্কেটিংয়ের অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম, সেহেতু মার্কেটপ্লেসে এখন প্রচুর কাজ পাওয়া যাচ্ছে এ সম্পর্কিত। মাসে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারেন।

এমএম/

মন্তব্য করুন