’ক্ষমতালোভী রাজনীতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা অস্থিতিশীল হচ্ছে’

প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৮, ২০১৯

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রহত্যা আর কল কারখানায় শ্রমিকের অনিরাপদ কর্ম পরিবেশ দেশকে বিপদের দিকে ধাবিত করছে।

তিনি বলেন, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান বুয়েটসহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর যেভাবে নির্মম নির্যাতনসহ হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হচ্ছে তাতে দেশবাসী হতবাক হয়েছে। এসকল ঘটনার পেছনে মূল কারণ ধর্মহীন ক্ষমতালোভী রাজনীতি।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের প্রতিটি সদস্য আল্লাহকে ভয় করে বলে প্রতিষ্ঠার ২৯ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরেও তাদের একজন সদস্যের বিরুদ্ধেও দেশ-ইসলাম ও জনস্বার্থ বিরোধী কোনো অভিযোগ উঠেনি উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, শুধু ছাত্র সংগঠনই নয়, যে কোনো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আল্লাহর ভয় না থাকলে তাদের হাতে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

শিক্ষা সিলেবাসে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকার কারণে সার্টিফিকেটধারী কিছু শিক্ষত লোক তৈরী হলেও নৈতিক মান সম্পন্ন জনশক্তি তৈরী হচ্ছেনা বলে দেশে একের পর এর অপরাধের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসকদের নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশিত হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

কল কারখানার শ্রমিকদের মজুরী না পাওয়ার আন্দোলন প্রসঙ্গে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, সরকারের উধাসীনতায় দেশের কল কারখানার শ্রমিকরা পথে বসে আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে। ‘মা হাসিনা মজুরী কমিশন দিয়া দে, নইলে একটু বিষ দে’ এমন আত্মঘাতি শ্লোগান দিয়ে শ্রমিকরা আন্দোলন করলেও সরকারসহ সংশ্লিষ্টরা নিরব কেন? তারা কি দেশের কল-কারখানা শিল্প-ইন্ডাষ্ট্রি বন্ধ করতে দেশ-বিরোধী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে? যদি এমন কিছু হয় তবে অবহেলিত শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশবাসী তাদের পাশে থাকবে বলে আমি আশাবাদী।

আজ ২৮ নভেম্বর’১৯ইং বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চরমোনাই মাহফিল মঞ্চে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত শ্রমিক ও ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পৃথক দুটি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে.এম.আতিকুর রহমান, অধ্যাপক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন, আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, হাফেজ মাওঃ ছিদ্দিকুর রহমান, এম.হাছিবুল ইসলাম, মুহাম্মাদ মুস্তাকিম বিল্লাহ প্রমূখ।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ২৯ নভেম্বর সকাল ৮টায় পীর সাহেব চরমোনাইর আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে ইনশাআল্লাহ।

/এসএস

মন্তব্য করুন