খোয়াই নদীতে বাঁশের ব্রিজ : ২৭ তম ব্রিজের উদ্বোধন করলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

বিশেষ প্রতিবেদন : ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তার ধারাবাহিক মানবসেবামূলক কাজের কারণে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তি। সামাজিক বিভিন্ন কাজ ও অসংগতি নিয়ে তিনি ফেসবুক লাইভ করে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হয়ে থাকেন। তবে এসবের বাইরেও তিনি তাঁর এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য বিভিন্ন স্থানে কাঠের সাঁকো বা ব্রিজ নির্মান করে প্রশংসিত হয়েছেন।

প্রথম প্রথম এই কাজ শুরু করার পর অনেকে তাকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও তিনি তাঁর কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে চলেছেন নিয়ম করে। বর্তমানে তিনি একে একে প্রায় ২৭ টি কাঠের ব্রিজ নির্মান করেছেন তার এলাকার বিভিন্ন স্থানে। সর্বশেষ হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার ৬নং ইউনিয়ন গড়গাঁও এলাকার খোয়াই নদীর ওপর প্রায় ৬০ ফুট দৈর্ঘের বাঁশের ব্রিজ ধরণের পুল নির্মান করেন তিনি।

এ বিষয়ে তিনি জানান, মানুষের কল্যানে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাতে কে কী বললো তা আমি দেখি না। এই ব্রিজটির মাধ্যমে আমি প্রায় ২৭ টি ব্রিজ নির্মানের মাইলফলক স্পর্শ করেছি এবং এই সবগুলো ব্রিজই আমি নিজ অর্থায়নে নির্মান করেছি। তাছাড়া বেশিরভাগ পুল এবং ব্রিজই সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক উপকার নিয়ে এসেছে। সর্বশেষ নির্মিত খোয়াই নদীর উপর নির্মিত ব্রিজ সম্পর্কে তিনি বলেন, গড়গাঁও ইউনিয়ন এলাকায় নদী পাড়ের দুইদিকের প্রায় ১৫-২০ হাজার মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের জন্য এই নদীর এপাড় ওপাড় যেতে হয় কিন্তু তাদের চলাচলের জন্য তেমন কোন ভালো ব্যবস্থাপনা নেই। আমার নির্মিত এই বাঁশের ব্রিজটির মাধ্যমে মানুষ অনেক উপকৃত হবে বলেই আমি আশাবাদী।

প্রসঙ্গত : খোয়াই নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার একটি নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য ৯১ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১০৬ মিটার এবং নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা “পাউবো” কর্তৃক খোয়াই নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী নং ২২। খোয়াই নদী ভারতের ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত একটি নদী। এর উৎপত্তিস্থল ত্রিপুরার আঠারমুড়া পাহাড়। এটি ত্রিপুরার ত্রিতীয় দীর্ঘতম নদী। সেখান থেকে নদীটি উত্তর-পশ্চিম মুখে প্রবাহিত হয়ে সিলেট জেলার বাল্লা নামক স্থান দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। নদীটি হবিগঞ্জ জেলার পূর্বপ্রান্ত দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে।

এর আগেও ব্যারিস্টার বেশ কিছু ব্রিজ নির্মান করেছেন তার মধ্যে কয়েকটির তালিকা এখানে দেওয়া হলো।

১. ২৫ নং ব্রিজটি তিনি নির্মান করেছেন হবিগঞ্জের ৫ নম্বর শানখোলা ইউনিয়নের বাজেশতং গ্রামে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের আবেদন অনুযায়ী এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করেছি। এটি আমার নির্মাণ করা ২৬তম ব্রিজ। আমি বলতে চাই, সিলেটের মতো অঞ্চলে একটি উপজেলায় যদি আমি আজকে ২৬টি কাঠের ব্রিজ করার মতো জায়গা খুঁজে পাই তাহলে সারাদেশে গ্রামে-গঞ্জে এরকম বহু জায়গা পাওয়া যাবে যেখানে মানুষের কষ্টের শেষ নেই। আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে যদি ২৬টি কাঠের ব্রিজ করতে পারি, আমি চাই যে এভাবে যারা সফল আছেন, তারা নিজেদের জন্মস্থানে গিয়ে খোঁজার চেষ্টা করেন। হয়তো ১ লাখ টাকা দিয়ে একটা ব্রিজ বানিয়ে দিয়ে এ রকম বহু মানুষের কষ্ট কমানো যাবে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে একটা ক্যাসিনোর জুয়ার ঘরে ১২ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। আরো কত কোটি টাকা যে পাওয়া গেছে? কেউ বলে দেড়শ কোটি? কেউ বলে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর পাওয়া গেছে। জুয়ার ঘরে এত টাকা পাওয়া যায়! কিন্তু যে জায়গাগুলোতে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে সে জায়গাগুলোর কেউ খবর রাখে না। এটা ভিতরের একটা গ্রাম। এমন জায়গা সাধারণত নেতাদের চোখ পড়ে না। নেতারা এসব জায়গায় আসেন না।

২. এর আগে তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে ২৫তম কাঠের ব্রিজ নির্মান করেছিলেন গাধাছড়া এলাকার রঘুনন্দন চা বাগানে। ব্যারিস্টার সুমন জানান, দুই মাস আগে তিনি এখানে এসেছিলেন। তখন মানুষের অসুবিধার কথা জেনে এখানে নিজ খরচে একটি কাঠের ব্রিজ করে দিবেন বলে ওয়াদা দিয়েছিলেন।

৩. এছাড়াও চুনারুঘাট উপজেলাধীন দেওরগাছ ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন ৩ নং ওয়ার্ডে তিনি একটি ব্রিজ নির্মান করেছেন। চন্দিচড়া চা বাগান সংলগ্ন রামগঙ্গা নামক স্থানে এই কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ছোটখাটো পাহাড় বেষ্টিত এ অঞ্চলে প্রচুর চা বাগান রয়েছে। চা বাগানে কর্মরত শ্রমিক এবং কর্মকর্তাবৃন্দ ৩ নং ওয়ার্ডে বসবাস করে। এ ব্রিজটি নির্মাণের পূর্বে উক্ত স্থানে একটি সাঁকো পর্যন্ত ছিল না। তাই, ৩ নং ওয়ার্ডে বসবাসরত প্রায় ৫০০০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের মধ্যে জীবনযাপন করতো । উক্ত স্থান পারাপারের সুযোগ না থাকায় তাঁরা প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁদের গ্রামে যেতে হতো। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের নিকটবর্তী হওয়ায় এ এলাকাটিতে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ্য করা যায় । দর্শনার্থীদের মধ্যে অনেকেই পাহাড়সংলগ্ন সবুজে ঘেরা রামগঙ্গা গ্রামটি দর্শন করতে চায় । তবে,উক্ত স্থান পারাপারের সুযোগ না থাকায় তাঁরা এ গ্রামে যেতে পারতো না। উক্ত স্থানে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে ৩ নং ওয়ার্ডের জনসাধারণ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার গেলেও কোন সমাধান মেলেনি। এলাকার মানুষের দুর্দশার কথা চিন্তা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে উক্ত স্থানে দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করেন। উক্ত স্থানে এ কাঠের ব্রিজটি নির্মাণের ফলে উক্ত এলাকার মানুষ তাঁদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি লাভ করে । জনসাধারণের পাশাপাশি উক্ত এলাকার স্কুলগামী বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীরা এখন অতি অল্পসময়ে তাঁদের বিদ্যালয়ে যেতে পারে ।

৪. চুনারুঘাট উপজেলার উজ্জ্বলপুর ইউনিয়নে তিনি আর একটি ব্রিজ নির্মান করেছেন। উক্ত স্থানে এ ব্রিজটি নির্মাণের পূর্বে উক্ত গ্রামের প্রায় ১২০০০ গ্রামবাসীর প্রতিদিন অনেক সমস্যা হতো যার ফলে সকল গ্রামবাসী একত্রে মিলিত হয়ে একটি মানববন্ধন করতে বাধ্য হয়েছিল। উক্ত স্থানে ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করলেও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয় এলাকার হতদরিদ্র গ্রামবাসী।এই দৈন্যদশা দেখে সমাজে থাকা সমাজপতিদের প্রতি চাপা ক্ষোভে যখন তাঁরা আচ্ছন্ন থাকতো উক্ত এলাকার যুবসমাজ। উজ্জ্বলপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন এ স্থান দিয়ে পারাপার হতে বেশ দুর্ভোগের শিকার হতো। উক্ত স্থান দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেত শ খানেক ছাত্রছাত্রী । কিন্তু নদী পারাপারের জন্য না ছিল কোন ব্রিজ না ছিল কোন সাঁকো । ফলে তাঁরা বিদ্যালয়ে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলত । এলাকার মানুষের দুর্ভোগ যখন চরম পর্যায়ে তখন তাঁরা ব্যারিস্টার সুমন সাহেবের দ্বারস্থ হয় । এলাকার মানুষের চরম দুঃখদুর্দশার বর্ণনা শুনে ব্যারিস্টার সুমন তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে উক্ত স্থানে এ কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করেন। উক্ত স্থানে এ ব্রিজটি নির্মাণের পর থেকে জনজীবনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে এসেছে ।

৫. ৯নং রানীগাও ইউপি এর আওতাধীন কালিকাপুর গ্রাম সংলগ্ন করাঙ্গি নদীর উপর করা হয়েছে আর একটি ব্রিজ। উক্ত স্থানে ব্রিজটি না থাকায় কালিকাপুর গ্রামের প্রায় পাঁচশত শিক্ষার্থী প্রতিদিন প্রায় আট কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। তাঁরা করাঙ্গি নদী পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেত। কিন্তু নদী পারাপারের জন্য না ছিল কোন ব্রিজ না ছিল কোন সাঁকো । তাই, বিদ্যালয় যেতে তাঁদের প্রতিদিন বহু সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো । ব্রিজ কিংবা সাঁকোবিহীন এ নদী পাড়ি দিতে গিয়ে প্রায়ই তাঁদের বইখাতা পানিতে ভিজে যেতো । এ ভেজা অবস্থায় নিয়মিত ক্লাস করতে যেতো চুনারুঘাট কালিকাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ।এতো বাধাবিপত্তি থাকা সত্ত্বেও ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্নে বিভোর এই অর্ধশত শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে তাঁদের জন্মভূমির প্রতি অভিমান জমিয়ে রাখতো। প্রতিনিয়ত নিজ এলাকার এই দৈন্যদশা দেখে তাঁদের সমাজে থাকা সমাজপতিদের প্রতি চাপা ক্ষোভ কাজ করতো। এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে সবসময়ই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিলো না তাঁদের । নিজ এলাকার এই দৈন্যদশা দেখে সমাজে থাকা সমাজপতিদের প্রতি চাপা ক্ষোভে যখন তাঁরা আচ্ছন্ন থাকতো ঠিক তখনই বাংলাদেশের রাজনীতির বিস্ময় বালক খ্যাত ‘ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন’ তাঁর স্বেচ্ছাশ্রম এবং নিজ অর্থায়নে কালিকাপুর গ্রাম সংলগ্ন করাঙ্গি নদীর উপর এই কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন । উক্ত স্থানে এ ব্রিজটি নির্মাণের ফলে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপকৃত হয়েছেন উক্ত এলাকার অতি সাধারণ কৃষকসমাজ ।

৬. ৪নং ইউপির উজ্জ্বলপুরে নির্মাণ করা হয়েছে আরও একটি ব্রিজ। উক্ত স্থানে এই কাঠের ব্রিজটি নির্মাণের ফলে একসাথে চারটি গ্রামের মধ্যে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়েছে। উক্ত স্থান পারাপারের জন্য কোন সুযোগ না থাকায় উজ্জ্বলপুরবাসী প্রায় তিন কিলোমিটার পথ বেশি হাঁটা লাগতো। তবে,এই ব্রিজটি নির্মাণের ফলে মানুষজন মাত্র ১০ মিনিটে তাঁদের গন্তব্যস্থলে যেতে পারে যেখানে আগে সময় লাগতো কমপক্ষে এক ঘণ্টা। যেহেতু উক্ত ব্রিজের মাধ্যমে চারটি গ্রামের মানুষের সংযোগ হয়েছে সেহেতু প্রতিদিনই উক্ত স্থানটি লোকে লোকারণ্য হয়ে থাকে। ব্যারিস্টার সুমনের দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিচক্ষণতার ফলেই এ কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। কৃষকরা এখন অতি অল্প সময়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় কৃষিসামগ্রী আনয়ন করতে পারে। ব্রিজটি করার ফলে মানুষজন এখন অটোরিক্সা চালাতে পারে । ফলে, এলাকাবাসী অটোরিক্সার মাধ্যমেও তাঁদের গন্তব্যে যেতে পারে যা পূর্বে কল্পনারও বাইরে ছিল। ব্যারিস্টার সুমন যখন উক্ত স্থানটি পরিদর্শন করেন তখনই তিনি এই ব্রিজটি নির্মাণের সুপ্রয়াস হাতে নেন । ব্রিজটি নির্মাণের ফলে এলাকাবাসী স্বল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করতে পারে। এতে এলাকাবাসী অর্থনৈতিকভাবেও অনেক লাভবান হয়েছেন । এ গ্রামে দুটি বিদ্যালয় এবং কয়েকটি মাদ্রাসা আছে । ব্রিজটি নির্মাণের ফলের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের স্কুল কিংবা বিদ্যালয়ে কম পরিশ্রমে যেতে পারে ।

৭. ৫নং শানখলা ইউপি এর চিনাই বিল নামক স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে একটি ব্রিজ। এই ব্রিজটির খুবই কাছাকাছি দূরত্বে অবস্থিত ‘লালচান্দ বাগান’ । উক্ত এলাকায় প্রায় ১০০০০ লোকের বসবাস রয়েছে। এলাকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের সাথে সম্পৃক্ত । বর্ষা মৌসুমে উক্ত স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় । শুষ্ক মৌসুমেও অল্প বৃষ্টিতেও এ এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যায় । বিশেষ করে, এখন যে স্থানে কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে সেখানেই মানুষের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো। যেহেতু,উক্ত স্থানে একটি খাল রয়েছে সেহেতু মানুষজন অনেক কষ্ট করে রাস্তাটি পারাপার করতো। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। উক্ত স্থানে ব্রিজ না থাকায় শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় এবং শিক্ষাসামগ্রী পানিতে ভিজে যেতো। এসব সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো বলেই অভিভাবকগণ তাঁদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে তেমন আগ্রহ প্রকাশ করতো না। ফলে,অকালেই অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটতো। কৃষকরা তাঁদের প্রয়োজনীয় কৃষিসামগ্রী সময়মতো নিয়ে যেতে পারতো না।ফলে,কৃষি ক্ষেত্রেও ব্যাপক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়েছে । এলাকার জনসাধারণের গণদাবির প্রতি আকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে উক্ত স্থানে ব্যারিস্টার সুমন তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করে দেন । এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার সুমনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উক্ত এলাকার সর্বস্তরের আপামর জনসাধারণ

কে এই ব্যারিস্টার সুমন :

এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমি এতোটাই অসহায় ছিলাম যে আমার বাবার জানাজায় আসার জন্য আমার টিকিটের টাকাটা পর্যন্ত ছিলো না। সেই সময় মোবাইল ফোনে আমি ফোন দিয়ে বলি আপনি ফোনটা ধরে রাখেন আর আমাকে বলুন আমার বাবার লাশটা এখন কোথায় আছে? প্রত্ত্যুতরে তিনি বলে, ’এখন কবরের পাশে আছে, নিচে নামাচ্ছি মাটি দিচ্ছি’। এ ভাবেই আমি আমার বাবার দাফনে অংশ নেই। এই ব্যাপারটা আমাকে অনেক নাড়া দিয়েছে। তখন থেকেই আমি সংকল্প করেছি যে টাকার পিছনে ছুটবো না। সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবো।

স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণ, ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন, এলাকার বিভিন্ন দুর্নীতি-অসঙ্গতি নিয়ে লাইভ প্রোগ্রামসহ ব্যতিক্রমী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হক সুমন। সরেজমিন তার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে জানা যায়, এলাকার যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের ভোগান্তি লাঘবে শুধুমাত্র স্বেচ্ছাশ্রমে তিনি ২১টি ব্রিজ ও ৫টি রাস্তা নির্মাণ করেছেন। ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রমের দ্বারা সংস্কার করেছেন আরো ৪০টি রাস্তা। এই হিসেব শুধু বিগত জাতীয় নির্বাচন আগ পর্যন্ত। এর পরের হিসেবে আরো বেড়েছে।

ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে তিনি শিশুদেরকে ১ হাজার খেলার সামগ্রী বিতরণ, ৫টি খেলার মাঠ মেরামত ও বঙ্গবন্ধুর নামে ৫টি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেন। চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন আর্থিক সহযোগিতা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন সুমন। তিনি গ্রাম পুলিশদের বেতন-ভাতা ডিজিটালাইজেশনের স্বার্থে একশটি মোবাইল ফোন প্রদান করেন।

ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন জানান, ১৮ বছর ধরে আমি এলাকার উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে আমি ইবাদত মনে করি। নিজের পেশা থেকে অর্জিত অর্থের সিংহভাগই আমি ব্যয় করি সাধারণ মানুষের কল্যাণে। আমার গন্তব্য নিজের সফলতা দিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জন্মভূমি ও এর বাইরের উন্নয়নে সর্বসাধ্য দিয়ে চেষ্টা করা। যেন একজন ওয়ান ম্যান আর্মি সুমন।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের ছেলে সায়েদুল হক। নিজের উপজেলায়, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের বাইরে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে আইনজীবী পেশায় আছেন। উপজেলার নিজের স্কুলে গিয়েও একটি লাইভ করেন। এই স্কুলের যে শিক্ষার্থী ব্যারিস্টার হবেন, তাকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন লাইভে। পরবর্তী ব্যারিস্টার পেতে কমপক্ষে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। সায়েদুল হক এই ফেসবুক লাইভ, মানুষের জন্য কাজে সময় বেশি দেন বলে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে মাঝেমধ্যে বিরক্ত হন। তবে মেনেও নিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা সদরের পাশে পীরবাজার নামক গ্রামে আমার জন্ম। আমার বাবা সাধারণ একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। মা গৃহিনী। আমাদের ধান ভাঙানোর মিল ছিল, তারপর ট্রাক্টর ছিল। সাধারণ একজন ব্যবসায়ীর সন্তান আমি বলতে পারেন। বাবা-মায়ের ৬ সন্তানের মধ্যে সবার ছোট আমি। ছোট বেলা কেটেছে চুনারুঘাটেই। স্থানীয় কেজি স্কুলে আমার শিক্ষার হাতে খড়ি। তারপর ডিসিপি হাইস্কুলে ভর্তি। এখান থেকেই এসএসসি পাশ করি। তারপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। এইচএসসি পাস করি ঢাকা কলেজ থেকে। এরপর আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে মার্কেটিং এ ভর্তি হই। বিবিএ, এমবিএ পাশ করি।

সুমন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করার পর কোনো চাকরিতে ঢুকে যেতে পারতাম। কিন্তু ছোটবেলা থেকে আমি স্বাধীনচেতা। বিবিএ, এমবিএ পড়ার পরও আমার মনে হয়েছে দেশের জন্য কাজ করতে গেলে স্বাধীন একটা পেশা প্রয়োজন। আইন পড়ার মধ্যে আমি সেই স্বাধীনতা খুঁজে পাই। এছাড়া চিন্তা করে দেখলাম ব্যারিস্টার হলে বাংলাদেশে এর গ্রহণযোগ্যতা একটু বেশি। এদেশে ব্যারিস্টারদেরকে এখনও পজিটিভলি নেওয়া হয়। এজন্য মনে মনে ভাবলাম, চেষ্টা করে দেখি ব্যারিস্টার হতে পারি কি না। আল্লাহর রহমতে আমি শেষ পর্যন্ত ব্যারিস্টার হয়ে গেলাম।

তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের লাইফটা ছিল আমার কঠিনতম। ইংল্যান্ডে আমার যে আত্মীয় স্বজন, আমি সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর তারা কেউ আমার পাশে ছিল না। সিলেটি হিসেবে আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে যে সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিল তা পাইনি। যার কারণে বাস্তবতার মুখোমুখি হই। আমি একজন ট্রলিম্যান হিসেবে কাজ শুরু করি। আমাদের দেশে যাদেরকে আমরা কুলি বলি। সেই কুলির কাজও করেছি। বিমানবন্দরে যখন ভিআইপিরা ট্রলি ফেলে রেখে যেতেন, ট্রলিগুলো নিয়ে এসে এক জায়গায় রাখতাম। আমি কুলির কাজ করেছি- এটা সবসময় স্বীকার করি। আমার কাছে মনে হয়, আমি যদি চুরি না করি, কারো হক নষ্ট না করি তাহলে কোন কাজই ছোট না। আবার ড্রাইভারি করতাম। এসব কাজ করে কিছু টাকা জমাই। ২০০৮ সালে বার অ্যাট ল করতে শুরু করি। লন্ডনে বার অ্যাট ল’ সম্পন্ন করার পর অনেকেই সুমনকে সেখানেই থেকে যেতে বলেন। কিন্তু দেশের জন্য এক অভাবনীয় অনুভূতির টানে তিনি ফিরে আসেন। তার মনে হচ্ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে তার যে প্রেম হয়েছিল, সেটি কেন যেন হচ্ছে না ব্রিটেনের সঙ্গে। হয়তো এমন আরও অনেকেরই হয় না। সুমনের মনে হতো, লন্ডনে অনেক ব্যারিস্টার আছেন সেখানে কাজ করার জন্য। কিন্তু তার মাতৃভূমিতে যদি আরেকজন ব্যারিস্টার ফিরে ন্যূনতম হলেও কিছু করতে পারেন, তাতে দেশ উপকৃত হবে। সুমন মনে করেন, বার অ্যাট ল’ করা পর্যন্ত তিনি দেশ-জাতি-সমাজ থেকে নিয়েছেন। এরপর বিশেষ করে ৪০ বছরের পর দেশ-জাতিকে তার দেওয়ার পালা। সেই দৃষ্টিভঙ্গিই তিনি ছড়িয়ে দিতে চান।

মন্তব্য করুন