যুব আলেমদের সাথে মতবিনিময় ; কয়েকজন আলেমের অনূভুতি ও প্রস্তাবনা

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০১৯

গত বুধবার ২০ নভেম্বর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাইর উপস্থিতিতে বিভিন্ন মতের যুবক আলেমদের নিয়ে করা মতবিনিময় সভার পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত ব্যাক্ত করেছেন অনেকে। যে মতামতের মধ্যে রয়েছে নতুন কিছু প্রস্তাবনা ও প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনুভূতি।

এ বিষয়ে চিন্তাশীল আলেম ও ইসলামী আলোচক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী কিছু প্রস্তাবনা ও অনূভুতি প্রকাশ করে লেখেন, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানুষের আবেগের দিক বিবেচনায় ইসলামি দলগুলোই ক্ষমতায় থাকার কথা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তা হয়ে উঠছেনা। এর বড় একটা কারণ ইসলামপন্থীদের মাঝে অনৈক্য- দূরত্ব এবং ভুল বুঝাবুঝি। যা দুর সময়ের সেরা দাবী। গতকাল বি এম মিলনায়তনে ইসলামি যুব আন্দোলনের উদ্যোগে যুব আলেমদের নিয়ে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আয়োজনটি খুবই সময় উপযোগী ও দরকারী। এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া দরকার।

প্রস্তাবনা : (১) ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে ১০/১৫ জনের একটি টিম গঠন করা। ঐক্য প্রক্রিয়ার পথ ও পদ্ধতির উপর(কেন করবো, কিভাবে করবো) সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট উল্লেখ করে সমমনা ইসলামি দলগুলোর সাথে যোগাযোগ করা। (২) অন্যান্য সংগঠনের সাথে সম্পর্কবৃদ্ধি করা। এক্ষেত্রে চা চক্র,গোলটেবিল বৈঠক এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে মাঝে মাঝে বসা। (৩) বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বাড়ানো। এক্ষেত্রে মিডিয়ার সুস্থ ব্যবহারের প্রতি অধিক গুরুত্বারোপ করা এবং কাজ বাড়ানো। অন্তত গঠনমূলক ও গোছানোভাবে অনলাইন -অফলাইন প্রচারণা বৃদ্ধি করা। (৪) অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে না পড়া। (৫) শীর্ষ নেতৃবৃন্দ مختلف فیه ও مجتهد فیه (মতবিরোধ পূর্ণ বিষয়) আলোচনা করা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হলে বিরত থাকা। এ কাজের জন্য আলাদা টিম গঠন করে তাদের মাধ্যমে কাজ করা। (৬) ইসলামি আন্দোলনের রাজনৈতিক যে বিষয়গুলো নিয়ে চরম বিতর্ক ও বিভ্রান্তি আছে (দালালী ও একলা চলা পদ্ধতির উপর)। ওইসব খোলামেলা আলোচনা করা। জাতির সামনে শীর্ষ কেউ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ তুলে ধরা। (৭) চরমোনাই’র তাসাউফ কেন্দ্রিক চালুকৃত বিভিন্ন আমল এবং বিভিন্ন বইয়ের যেসব অভিযোগ আরোপ করা হচ্ছে সেগুলোকে পুনঃ বিবেচনায় নেওয়া এবং দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান থেকে মতামত গ্রহণ করে তা ছড়িয়ে দেয়া।

গতকালের আয়োজনে বিভিন্ন দল-মত ও পথের ভাইদের উপস্থিতি আমাকে চরম আশাবাদী করে তুলেছে। ভালো লেগেছে অনুষ্ঠানের মধ্যমনি মুফতি ফয়জুল করীম সাহেবের অমায়িক আচরণ। সবাইকে কাছে টানার যে ঈর্ষনীয় কারিগর তিনি তা আবার জানান দিলেন নিজের মত করে। স্ব হাস্য সালাম মুসাফাহার পাশাপাশি কপালে চুমু দিয়ে যেন নিজের অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করে নিলেন। সবার জন্য শুভকামনা।

আর একজন চিন্তাশীল তরুণ আলেম ও বহুগ্রন্থ লেখক মুফতী রেজাউল করীম আবরার এ বিষয়ে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, গতকাল ছিল যুব আন্দোলনের মতবিনিময় সভা। আগের রাত কাউসার বাংগালি ভাই ফোন করে বললেন, শায়খে চরমোনাই বলেছেন, আপনি উপস্থিত থাকতে। শায়খে চরমোনাই দা. বা. আমাকে একটু বেশি ভালবাসেন। যারা তার কাছে গিয়েছেন, তারা আশা করি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, তিনি অনেক উঁচু আখলাকের অধিকারী। গত শুক্রবারে সিলেট রেজিস্টারি মাঠে আমি দূরে দাঁড়িয়ে তার বক্তৃতা শুনছিলাম। বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর তার তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে আমি ধরা পড়ালাম। হাত দ্বারা ইশারা করে কাছে ডেকে নিলেন। এরপর হাত ধরে সোজা গাড়িতে তুললেন। নিয়ে গেলেন আলিয়া মাঠে।

আলিয়া মাঠে অনেকে তখন হুজুরের অপেক্ষা করছিল। হুজুর আমাকে ঠিক তার পাশে বসালেন। আমি তো লজ্জায় মারা যাওয়ার উপক্রম। কারণ, সেখানে আমার দাদা উস্তাদও উপস্থিত ছিলেন। এরপর রাত দশটা পর্যন্ত একটানা তিনি নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। আমিও আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে যা সম্ভব, শায়খকে জানালাম। শায়খ বয়ান উঠার পর আমি চলে আসি। কারণ, আগ থেকেই আমির গাড়ির টিকেট করা ছিল। বয়ান শেষ করেই দস্তরখানে বসেই তিনি আমাকে স্মরণ করলেন। আমি বললাম, শায়খ চলে যাচ্ছি। কথাগুলো মূলত আমার বড়ত্ব বুঝানোর জন্য বলিনি। আমার মতো ক্ষুদ্র মানুষকে শায়খ যেভাবে মূল্যায়ন করেন, সেটা থেকে আমি তার উদারতা এবং স্নেহ বুঝাতে চেয়েছি।

গতকাল শায়খ এসেই সবার সাথে মুসাফাহা করেন হেটে হেটে। আমার কাছে এসে বললেন, আপনি এসেছেন! আপনার ভাই কী এসেছেন? শেষ করে অফিসে যাবেন। ইসলামী আন্দোলন নিয়ে আমাদের কিছু অনুযোগ তার কাছে তুলে ধরি। বিশেষত, জোটের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা আমাদের বড়দের নানাভাবে কটূকথা কথার বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করি। তিনি মনযোগ সহকারে শুনেছেন। অফিসে যাওয়ার পর শায়খ নিজের হাতে চা খাওয়ালেন। চরমোনাই যাওয়ার দাওয়াত দিলেন। লেখালেখির খবর নিলেন। পরিবারের সকলের কথা জিজ্ঞাসা করলেন। মাকসুদ ভাই কেন এলেন না? সেটাও জিজ্ঞাসা করলেন। ফেরার পথে একটি মুগ্ধকর দৃশ্য দেখলাম। শায়খের গাড়ির সিটে অধমের লেখা ‘দাজ্জাল’ বই শোভা পাচ্ছে। আমি জাযাকাল্লাহ বললে তিনি বলেন, ‘সময় করে আপনার বই পড়ি।’ মুহতারাম ফয়জুল কারীম সাহেব একজন রক্তে মাংশে গড়া মানুষ। সে হিসেবে তার ভুল হতেই পারে। হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু নিকষ অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া ৫৬ হাজার বর্গমাইলে তার বজ্র কণ্ঠের বড্ড প্রয়োজন। সম্প্রতি জাতীয় বিভিন্ন ইস্যূতে শায়খে চরমোনাই এর প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য দল-মত নির্বিশেষে সকলের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রতিটি কোষে কোষে চষে বেড়িয়ে তিনি সাধারণ মানুষের মাঝে ঈমানের বারুদ জ্বালিয়ে চলছেন। বিভিন্ন কারণে আমাদের অঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সে সময় বিভিন্ন রুচির আলেমরা এক সাথে বসে চা খাওয়ার তাৎপর্য অনেক। একদিন এক সাথে বসলে অনেক দূরত্ব কমে যায়। এভাবে মাঝে মাঝে বসা হোক। চা খাওয়া হোক। খুনসুটি করা হোক। দেখা যাবে, অনেক সমস্যার সমাধান এমনিতে হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন : চিন্তাশীল আলেমদের নিয়ে মুফতী ফয়জুল করীমের মতবিনিময় সভা

এ বিষয়ে ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চিন্তাশীল আলেম মাওলানা সাইমুম সাদী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন,

ওয়াজ মাহফিল, বয়ান ও বক্তা নিয়ে অস্থিরতা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও ফেসবুক নিজেই একটা সামাজিক অস্থিরতা। এই অস্থিরতার মধ্যেই দুটো আশাপ্রদ সংবাদ গতকাল তৈরি হয়েছে রাজধানীতে। একটা হচ্ছে কয়েকটি ইসলামী দলের নেতারা বসেছিলেন এক জায়গায়। খেলাফত মজলিসের অফিসে এই সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মামুনুল হক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য খেলাফত মজলিস ভেঙে যাওয়ার পর দুই দলের নেতাদের কাছাকাছি আসার এই চিত্র খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক গিয়েছিলেন খেলাফত মজলিসের অফিসে। এই খবরটাই একটা আলাদা শিরোনাম হওয়ার গুরুত্ব রাখে।

অপর নিউজটি হচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মাওলানা ফয়জুল করীমের সাথে শতাধিক আলেমের বৈঠক। যুব আন্দোলনের উদ্যোগে এই প্রোগ্রামে এমন সব আলেমদেরকে আহবান করা হয় যারা চরমোনাইর পীর সাহেবের রাজনীতিতে সরাসরি জড়িত না। যতদুর জেনেছি যেসব উলামায়ে কেরাম আন্দোলনের রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনলাইনে লেখালেখি করেন, এমনকি সমালোচনা করেন তাদেরকেই বিশেষ করে এখানে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিলো। এই প্রোগ্রাম কর্মীদের ভিন্নমত সহ্য করা ও ভিন্নমত শোনার ক্ষেত্রে আরও সহিষ্ণু করবে সন্দেহ নেই। মাওলানা মামুনুল হক এবং মাওলানা ফয়জুল করীমকে ধন্যবাদ। খেলাফত মজলিসের বয়োবৃদ্ধ আমীর মাওলানা ইসহাক সাহেবকে ধন্যবাদ। নিজেদের মধ্যে বসার জন্য নেপথ্যে কাজ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহ সভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী। আমার জানামতে পুরো ইসলামী অংগনে রাজনীতি বুঝার মত প্রজ্ঞাবান একজন মানুষ মাওলানা ইউসুফী। আল্লাহ সবাইকে হায়াতে বরকত দান করুন। একসাথে বসলে কি ইসলামী বিপ্লব হয়ে যাবে, এই প্রশ্ন একটা ফালতু প্রশ্ন। জনগন চায় সবাইকে এক সাথে বসেছেন এই চিত্র দেখতে। আগামীতে সকল দল ও মতের লোকদের ঐক্য নয়, অন্তত একসাথে বসেছেন এই ছবি দেখতে চাই। আপনারা বসে চা খেয়ে গল্প গুজব করে চলে যান, আমরা তাতেই খুশী। যখন সবকিছু ভেঙে যাচ্ছে তখন এইসব উদ্যোগ আমাদেরকে উৎসাহিত করে, উজ্জীবিত করে, আশাবাদী করে।

আরও পড়ুন : যুব আন্দোলনের বিশেষ সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

মতবিনিময় সভায় দাওয়াত থাকা যুবক আলেম মাওলানা সালাহুদ্দীন মাসউদ তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন,
… কথা ক্লিয়ার। কোরআন হাদিসের আলোকে চরমোনাই তরিকা ইসলামের সহিহ তরিকার দশটি দলের একটি। এখানে ভেজালের কিছু নেই। কিছু কিছু সমস্যা নেই, তা বলবো না। এই ধরনের সমস্যা কার মধ্যে নেই? বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ আলেম এই তরিকার সঙ্গে জড়িত। এতো বিপুল সংখ্যক হক্কানী আলেমে দীন অন্য কোনো তরিকা বা রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত আছেন বলে আমার জানা নেই। আপনার মতো বিশ হাজার মাওলানা চরমোনাই বিরোধী হলেও দুই লাখ আলেম সরাসরি এই মেহনতের সঙ্গে জড়িত আছেন আলহামদুলিল্লাহ।

আপনারা যে স্বপ্ন দেখছেন, যতোদিন এই তরিকা হকের উপর টিকে আছে, ততোদিন এই দুঃস্বপ্ন পূরণ হবার নয়।
মনে রাখবেন, আপনি দশজন আলেমের সঙ্গে গোপন কামড়ায় বসেও যদি চরমোনাই বিরোধী মন্তব্য করেন তবে মনে রাখবেন এখানে একজন হলেও আপনাকে মনে মনে গালি দিবে। কী দরকার নিজেকে বিতর্কিত করার?
আপনার হৃদয়ে দীনের দরদ থাকলে আপনি আপনার অবস্থান থেকে কাজ করে যান। আপনার কাজ আপনাকে মূল্যায়ন করবে। নিজে কাজ করুন, অন্যকে কাজ করতে দিন। হুদাই বিরোধীতা করে নিজের পজিশন নষ্ট করার কোনো দরকার আছে? দশজনের মধ্যে নিজেকে হিরো ভেবে একশো জনের মাঝে হিরো থাকা কাওকে ছোটো ভাবলে বা ছোটো করে উপস্থাপন করলে আপনিই দিন দিন নির্দিষ্ট পরিসরে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবেন।

অন্যের প্রশংসা করার মতো কলিজা না থাকলেও বদনাম করা থেকে বিরত থাকি। এতে নিজেরই লাভ।আপনি বলেন যে অমুকে চরমোনাইয়ের দালাল। আচ্ছা আপনি কার দালাল? চরমোনাই কি হকের বাইরের কোনো দল? তবে কেও হকের দালালী করলে এটা খারাপ লাগে কেন? আপনিও তো কারো না কারো দালালী করেন, নাকি? বাদ দেন ভাই ওসব। কাজ করেন। কাজের মাধ্যমে ওরা যেমন এগিয়ে যাচ্ছে, আপনিও কাজ করে এগিয়ে যান। কারো নিন্দা করে তাকে থামানো যায় না। কথাটা আপনি বোঝেন না? আপনি তো জ্ঞানী মানুষ। পরিশেষে বলবো, আপনি মনে মনে আমার উপর রাগ করলেও একথা কিন্তু স্বীকার করতেই হবে যে, কথা তো ঠিক।

যদি কথা ঠিকই হয়ে থাকে তবে আমাকে গালি দিন সমস্যা নেই। আপনি আপনার যবানকে কন্ট্রোল রেখে নিজ অঙ্গনে কাজ করে যান আর এই বুঝটি আপনার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য আমাকে একটু দোয়া দিয়ে যান। লাভ নাই। কাজ করতে থাকা কারো পেছনে লেগে থেকে কোনো লাভ নেই। কাজ করুন। আপনার কাজ আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকা আর এক যুব আলেম, গাজীপুর মাদরাসাতুল মনসুরের পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেমী তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে গিয়ে লেখেন, শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম সাহেবের সোহবতে। অমায়িক, আন্তরিক, সজ্জন, দরদী, প্রাণোচ্ছল, প্রাণবন্ত মানুষ তিনি। অনেক দোয়া দিলেন, মাহফিলের দাওয়াত দিলেন। আন্তরিকতার সাথে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। নিজে মেহমানদারি করেছেন; আমি তো লজ্জায় মরি।

ফেসবুকে ইসলামী আন্দোলন বা চরমোনাইর কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন সময় কটুক্তি ও ব্যাঙ্গ বিদ্রুপাত্মক ট্রল করে পরিচিতি পাওয়া গাজীপুর মাদরাসাতুল মানসুরের অপর এক শিক্ষক মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেমী এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তিতে তিনি ‘চরমোনাই পীর সাহেবের সান্নিধ্যে এক বিকাল’ শিরোনামে একটি লেখায় তার অনুভূতি প্রকাশ করে লেখেন,

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর অঙ্গসংগঠন যুব আন্দোলনের তরফে আয়োজিত যুব আলেমদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠান দেখতে গতকাল হাজির হয়েছিলাম সেগুনবাগিচার বিএম মিলনায়তনে। অন্য সবার মতই তরুণ আলেমদের গঠনমূলক আলোচনা সমালোচনায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। সবিশেষ রেজাউল করীম আবরার ভাইয়ের নারী নেতৃত্ব সংক্রান্ত আলোচনায় চমকে গিয়েছিলাম। যুব আন্দোলন নেতৃবৃন্দের আয়োজন ও উদারতাও ছিল প্রশংসনীয়। কে জানতো, এর পরেও যে আরো বড় কোনো চমক অপেক্ষা করছিল?

অনুষ্ঠানের মধ্যমনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম সাহেব। উপস্থিত আলেমদের আলোচনা সমালোচনাগুলো সুন্দর ভাবে নিয়ে প্রায় সব পয়েন্টে ঝানু রাজনীতিবিদ স্টাইলেই নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন। বহুজনেই বহু সমালোচনা করেছেন কিন্তু তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তা সামলে নিয়ে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও উদারতার এক নতুন দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সবার সাথেই তিনি করমর্দন করছিলেন। আমি হাত বাড়িয়ে দিতেই তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘আপনি তো আমার সবচাইতে বেশি উপকার করেন, বেশি সমালোচনা করেন, আপনার কপালে চুমু দেয়া উচিত।’ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যাই যখন তিনি সত্যি সত্যিই কপালে চুমু বসিয়ে দেন। বাংলাদেশের ইসলামী অঙ্গনে বিরোধপূর্ণ কারো সাথে উদারতার হয়তো এটিই ছিল চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যা ছিল কোনধরণের লৌকিকতামুক্ত, সম্পূর্ণ আন্তরিক।

এরপর ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবার সাক্ষাতে যাই উনার খাস দরবারে। নিজের কাছে বসিয়ে নিজ হাতে আপ্যায়ন করে যেন তিনি নিজেকে অসম্ভব জনপ্রিয় করে তুলতে পারার গোপন রহস্যটির কথাই জানিয়ে দেন। ব্যক্তিগত খোজ-খবর নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাছে আসুন, আমাদের সাথে মিশুন। দূর থেকে অনেক কিছুও আপত্তিকর মনে হলেও কাছে এলে অনেক কিছুই থাকবে না।…. এইজন্যেই তো যারা রাসুল সা. এর বানী শুনেছেন তারা সাহাবী নন বরং যারা দেখেছেন তারা সাহাবী।’ এরপর তিনি বার বার চরমোনাই মাহফিলের দাওয়াত দেন।

অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, উদারতা, পুরুষানুক্রমে পাওয়া সরলতা ও সাদেগীর মিশেলে একজন ফয়জুল করীম সাহেবকে কাছ থেকে উপলব্ধি করে সত্যিই গুনমুগ্ধ না হয়ে উপায় ছিলো না। সমাধান পেয়ে যাই ব্যক্তিগত ব্যাপারসমূহে বহু অভিযোগ অনুযোগের। আলোচনা সমালোচনা হোক আল্লাহর জন্য। ভালো থাকুক ভালোবাসারা। কাছে থাকুক আত্মার আত্মিয়রা।

মন্তব্য করুন