এলডিপি দুই টুকরা; প্রয়োজনে এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যুক্ত হব: সেলিম

প্রকাশিত: ১:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) অবশেষে দ্বিখন্ডিত হলো। আবদুল করিম আব্বাসীকে সভাপতি এবং শাহাদাত হোসেন সেলিমকে সদস্যসচিব করে নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে দলটির একাংশ।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে দলটির নতুন অংশের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এর আগে গত ৯ নভেম্বর কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদকে সভাপতি এবং ড. রেদোয়ান আহমেদকে মহাসচিব করে এলডিপির নতুন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই কমিটি থেকে বাদ পড়েন দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। তারপর থেকেই মূলত দলটির মধ্যে ভাঙনের সুর ওঠে। আজ তা চূড়ান্ত রূপ পেল।

পদবঞ্চিত নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে অলি আহমেদ এবং রেদোয়ান আহমেদ কমিটির বিপরীতে পাল্টা সাত সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি ঘোষণা করেন। এলডিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম এই কমিটি ঘোষণা করেন। সমন্বয় কমিটির সভাপতি হিসেবে আবদুল করিম আব্বাসী নাম ঘোষণা করা হয় এবং সদস্যসচিব হন সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম বলেন, ‘গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের রোষানলে পড়ে কারাবন্দি রয়েছেন। তাকে মুক্ত করার জন্য যখন দলমত-নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য গড়ার দরকার, তখন নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার জন্য একটি পক্ষ তৎপর হয়ে উঠেছে।

এর মধ্যে কর্নেল অলি সাহেব তার এক বক্তব্যে পুরো বিএনপির নেতৃত্বকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তার এই বক্তব্যে (তিনি) বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় এবং তারেক রহমান দেশের বাইরে থাকায় বিএনপির নেতৃত্ব নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রয়াস চালাবেন সেখানে জোটের মধ্যে বিভেদ তৈরির জন্য জাতীয় মুক্তিমঞ্চ তৈরি করেছেন।

শুরুতে মুক্তি মঞ্চকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও ধীরে ধীরে তার জিয়া পরিবার আর বিএনপির বিষোদগার করার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বিতর্কিত আর দুর্বল করার চেষ্টা ষড়যন্ত্র শুরু করে যা আমাদের মতো জাতীয়তাবাদী আদর্শের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় কোনো দলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাওয়ানো আমাদের জন্য দুরূহ হয়ে পড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করছি, দেশের এই ক্রান্তিকালে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকদের দুর্দিনে দেশপ্রেমিক হিসেবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতে আরও বলিষ্ঠভাবে অংশগ্রহণ করব। সঙ্গে সঙ্গে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম হব। নিজেদের নিয়োজিত করার লক্ষ্যে সারাদেশে এলডিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে অচিরেই একটি কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হব।’

এই প্রয়াসে বিএনপি স্বীকৃতি দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সেলিম। তিনি বলেন, বিএনপি ভেঙে এলডিপি গঠন করে যে পাপ করেছি তার প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই। প্রয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি যদি আমাদের আমন্ত্রণ জানায় তাহলে আমরা এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যুক্ত হব।

/এসএস

মন্তব্য করুন