উর্দু ভাষার সঙ্গে বাচ্চাদের সম্পর্ক ছিন্ন করা মারাত্মক ক্ষতি: তাকি উসমানি

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

হিরা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড হিরা ইন্সটিটিডের কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি ও বিশিষ্ট্য আলেম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানি।

হিরা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড হিরা ইন্সটিটিডের ইউটিউব চ্যানেল থেকে মুফতি তাকি উসমানির উর্দু বক্তব্যের ভাষান্তর করেছেন মুফতি আব্দুল হক। শনিবার (১৬ নভেম্বর) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তাকি উসমানি বলেন, আমি আজকে হিরা ফাউন্ডেশন স্কুল এন্ড হিরা ইন্সটিটিডের কর্তৃক আয়োজিত ‘উর্দূ আবাদ ফেস্টিবল’ (urdu abad festival)-এর এই অধিবেশনে উপস্থিত হতে পেরে খুবই আনন্দিত। কারণ, এখানে বাচ্চাদের জন্য উত্তম কর্মপন্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান আমাদের সমাজে, বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিষ্ঠানগুলতে উর্দূকে অনেক পেছনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ এটা আমাদের জাতীয় ভাষা। আমাদের বহুবছরের ইতিহাস যে উর্দু ভাষায় লেখা সেই উর্দু ভাষার সঙ্গে আমাদের বাচ্চাদের সম্পর্ক ছিন্ন করে দেওয়া এটা আমাদের একটি মারাত্মক সাম্প্রদায়িক ক্ষতি। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উর্দু ভাষার প্রতিযোগিতা এটা একটি সফলতার ভরসা।

তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা চাইলে উর্দু সাহিত্যের এই প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এবং আমাদের ছাত্ররা যেভাবে ইংরেজি ও অন্যান্য বিষয়ে অত্যন্ত সুন্দরভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারছেন। আল্লাহ চাইলে তারা উর্দু ভাষায়ও নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দক্ষ হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় খুশির বিষয় হলো, বিলুপ্ত হওয়ার পর কবিতা ও সাহিত্য চার্চা আবার শুরু হয়েছে। একটা সময় তো মানুষের কবিতার প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। কবিতা এমন একটা বিষয় ছিলো যা মানুষ প্রতিভা বিকাশের একটি উত্তম পদ্ধতি মনে করতো। মানুষের নিকট কবিতা একটি মজার বিষয় ছিলো। পদ্য মানুষের হৃদয়ে যে পরিমাণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে গদ্য মানুষের হৃদয়ে সে পরিমাণ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের সমাজে বিশেষ করে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় কবিতার সাথে সম্পর্ক প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে।

সাহিত্য চর্চার বিষয়ে তিনি বলেন, অমিল কবিতা চর্চা একটি ব্যাপক প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে। যার মধ্যে ছন্দমিল কিছুই ঠিক নেই। এর চেয়ে ভাল তারা গদ্য লিখবে। পদ্য লিখার দুঃসাহস দেখানোর কী প্রয়োজন? কিন্তু আজকে আমরা বাচ্চাদের থেকে যে কবিতা শুনলাম মাশাল্লাহ তার অধিকাংশই কবিতা শাস্ত্রের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী হয়েছে। তবে দুই একটা ভুল যা হয়েছে তার ওপর সর্তক করা হয়েছে। সামষ্টিক বিবেচনায় ছাত্ররা খুব সুন্দরভাবে কবিতা। আবৃতি করেছে। কবিতার সবকিছু তারা খুব লক্ষ্য রেখেছে। তারা সুন্দর কবিতা লিখেছে  এবং কবিতাকে কবিতার মত আবৃতি করার চেষ্টা করেছে। তারা প্রত্যেকে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত।

বক্তব্য শেষে নির্দেশনা দিয়ে তাকি উসমানি বলেন, আল্লাহ তায়ালা এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখুক। এবং আমি এই নির্দেশনা দিবো যে, সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে এমন প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করবে। এবং যদি তারা এই ধারাবাহিকতা চালু রাখে তাহলে নিজেদের ভাষা, পদ্যবিদ্যা ও সাহিত্যশাস্ত্র সচল রাখায় তা বিশাল অবদান রাখবে। আল্লাহ তায়ালা এর মধ্যে কামিয়াবি দান করুন এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের মজলিসে আসার তাওফিক দান করুন। আমীন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন