আমরা ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি: রিজভী

প্রকাশিত: ৬:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন,  পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে অবিলম্বে ব্যর্থ মন্ত্রী ও সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও ক্ষমতাসীন দলের সিন্ডিকেটের কারণে পেঁয়াজের কেজি দেড় শতকের পর ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। গতকাল যোগ হয়েছে আরও ৪০ টাকা। ২৪০ টাকা ছাড়িয়েও থামেনি দাম। দাম আর কত বাড়বে এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছেন না। বরং সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর পক্ষে শিল্পমন্ত্রী যেদিন বললেন বাজার নিয়ন্ত্রণে, তার পরদিনই এক লাফে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেড়ে যায় কেজিতে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর পেঁয়াজের দাম আরও বেড়েছে। তাদের বক্তব্য সিন্ডিকেটকে উসকে দিচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতবছর থেকে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ পেঁয়াজ দেশে আছে, তা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তাহলে এভাবে লাগামহীনভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ছে কেন? রাজধানীর খুচরা বাজারে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ২৪০ টাকা ছাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের জনগণ মনে করে পেঁয়াজ নিয়ে যে সিন্ডিকেট লুটতরাজ চলছে, তার সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো মন্ত্রী-এমপি সরাসরি জড়িত। এ কারণে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি নিয়ন্ত্রণমূলক উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা যাবে না বলে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ শাখা থেকে এ গণবিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। সরকারি এ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণমূলক। মূলত সরকারদলীয় লোক ও প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের খবর যাতে প্রকাশ না পায় সেজন্যই এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, লোক দেখানো দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে কিছু ছিঁচকে দুর্নীতিবাজের নাম প্রকাশের পর গণমাধ্যমে সরকারের শীর্ষ দুর্নীতিবাজের তালিকা প্রকাশ হওয়ার আতঙ্ক থেকে এ আদেশ জারি করা করা হয়েছে। এমনিতে গণমাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই। দেশে যা ঘটে, যত অপকর্ম, দুর্নীতি হচ্ছে তার সিকিভাগও প্রকাশ পাচ্ছে না। তারপরও একের পর এক কালো আইন তৈরি করছে সরকার। বার বার কালো আইন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, সারা শরীর ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। হাত-পা নাড়াতে পারছেন না। বিএনপি চেয়ারপারসনকে কোনো প্রকার চিকিৎসাই দেয়া হচ্ছে না। গত ৮ দিন তার কাছে কোনো চিকিৎসক যাননি। জরুরি বিত্তিতে তার উন্নত চিকিৎসা না দিলে তার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। আমি অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছি।

রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের সভাপতি শামা ওবায়েদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম পটু প্রমুখ অংশ নেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন