পেঁয়াজের ঝাঁজ বেড়েই চলেছে খুলনায়; কেজি ২৫০

প্রকাশিত: ৭:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৯

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধি: খুলনাতে পেঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা। শুক্রবার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। এভাবে চলতে থাকলে নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।

পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া এমন দামের কারণে বাজারে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ পেঁয়াজের ঝাঁজে নাকাল হয়ে পড়েছেন। অনেকে বাধ্য হয়ে আধা কেজি কিংবা ২৫০ গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনছেন।

খুলনার বড় বাজারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে পেঁয়াজের অস্তিত্বই নেই। আর কিছু কিছু দোকানে এক-দুই বস্তা করে পেঁয়াজ রাখা রয়েছে। আর এ সব পেঁয়াজ বস্তা আকারে নয়, বরং কেজি দরেই বিক্রি করছেন তারা। যদিও ভরা মৌসুমে পেঁয়াজে সয়লাব থাকতো বড় বাজারের দোকানগুলো।
দিনমজুর ওহাব মিয়া বলেন, ৪/৫ দিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা। আর এখন বলছে ২৫০ টাকা। তাই দামের কারণে পেঁয়াজ ক্রয় না করে বাড়ি ফিরছি।

খুলনা শেখপাড়া এলাকার গৃহীনি আফরোজা বেগম বলেন, দৈনন্দিন রান্নার কাজে পেঁয়াজ অপরিহার্য উপাদান এবং সে কারণেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন তিনিও। তিনি বলেন, “মাছ, মাংস, সবজি যা-ই রান্না করি পেঁয়াজ তাতে অপরিহার্য। একদিকে স্বাদ বাড়ানোর জন্য আমরা পেঁয়াজ ব্যবহার করি। পাশাপাশি এর ওষধি গুণাগুণ এবং উপকারও আছে বলে জানি আমরা। তিনি বলেন, শুধু বাসাবাড়ি নয়, রেস্টুরেন্ট এমনকি সড়কের পাশে অস্থায়ী খাবারের দোকান সব জায়গাতেই রান্নার জন্য অপরিহার্য উপাদান পেঁয়াজ। সেই পেঁয়াজের পাইকারি ও খুচরা বাজারেই হঠাৎ করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সড়কের পাশে খাবারের ব্যবসা করেন এমন জনৈক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিঙ্গাড়া তৈরি করে বিক্রি করেন। আর সাথে ক্রেতাদের পেঁয়াজ দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, পেঁয়াজের দাম বেশি, তাই সিঙ্গাড়ার সাথে পেঁয়াজের বদলে ক্ষিরাই দিতে হচ্ছে।

নগরীর নিউমার্কেট এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন বলেন, আমরা কী করবো? প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৯০ টাকায় পাইকারি দামে কিনেছি। এখন ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করছি। তিনিও ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ব্যবসা করতে আর ভালো লাগছে না। পেঁয়াজের দাম নিয়ে প্রতিদিন ক্রেতাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করতে হয়।

দোকানিরা বলছেন, আড়তেও পেঁয়াজ সঙ্কট। এ কারণে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা বলেন, ক্রেতারা চায় বলেই পেঁয়াজ বিক্রির জন্য রেখেছি। নয়তো পেঁয়াজ বিক্রিই করতাম না।

খুলনা বড় বাজার পাইকারি বিক্রেতা নিশাত বানিজ্য ভান্ডারের মালিক মোঃ সুজন হাওলাদার বলেন, চাহিদার তুলনায় পেয়াজ আসছে কম, শুধুমাত্র দেশী পেঁয়াজ আমদানি চাহিদা মিটানো সম্ভব নয়, তিনি বলেন সরকার কে অবশ্যই বাইরে থেকে বেশি করে আমদানি করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তা নাহলে পেঁয়াজের দাম কোথায় যায় তা বলা সম্ভব নয়।

খুলনার মোকামে পেঁয়াজ রপ্তানি কারক মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন আগে মোকামে পেঁয়াজ পাওয়া যেত বা খুলনায় নিয়ে আসতাম একশ বস্তা করে তা এখন বিশ বস্তা পেঁয়াজও আনা যায়না। তিনি আমরাও চাই পেঁয়াজের দাম কমুক এবং সাধারণ ক্রেতার কেনার আওতায় থাকুক।

আই.এ/

মন্তব্য করুন