বাংলাদেশে ‘বুলবুল’ আঘাত হানবে মধ্যরাতে

প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৯

ধারণা করা হচ্ছিল শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল; তবে এর সর্বশেষ গতিচিত্র দেখে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মধ্যরাত নাগাদ এটি বাংলাদেশে আসবে। অতিপ্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি যখন বাংলাদেশে ঢুকবে, তখন এর কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় দমকা ও ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটারে বাড়তে পারে বলে আভাস মিলেছে।

বুলবুল মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্যে শনিবার বিকালে ঝড়ের সর্বশেষ অবস্থান ও গতিপথ নিয়ে ঢাকার আবহাওয়া অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের সামনে আসেন আবহাওয়াবিদরা। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আয়েশা খানম বলেন, ‘এখন আবহাওয়া উপাত্তসমূহ ক্যালকুলেশন করে বলছি, (ঘূর্ণিঝড়টি) আজ সন্ধ্যা বা মধ্যরাত নাগাদ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বা খুলনা উপকূল অতিক্রম করবে সুন্দরবনের নিকট দিয়ে।’

আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান বলেন, ‘রাত ১০টা থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বর্ধিতাংশ উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ শুরু করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র উপকূলে আঘাত হানতে মধ্যরাত লাগতে পারে।’ তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়টির ব্যাস ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার। মূল কেন্দ্রের ব্যাসও প্রায় ২০ কিলোমিটারের মতো।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল বিকাল ৩টায় মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৭৫কিমোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ও কক্সবাজার থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

আবহাওয়াবিদ আয়েশা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি যে বডি মুভ করছে, সেটার গতিবেগ ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটারের মতো। ঘূর্ণিঝড় উপকূলের কাছাকাছি যখন আসে, তখন সামনে যে ওর যে বডি মুভমেন্ট, তা কখনও স্লো, কখনও বেড়ে যায়।’ বর্তমান গতিচিত্র অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র উপকূলে উঠবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে, এরপর এটি স্থলভাগের উপর দিয়ে সাতক্ষীরা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকবে। যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানবে, তখন দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার বেগ হবে ১০০ কিলোমিটার থেকে ১২০ কিলোমিটার।

বুলবুল অতিক্রমের সময় সাগরে জোয়ার থাকবে বলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৭ ফুট বেশি উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল এই জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টি ঝরছে; আবহাওয়ায় রয়েছে অনেকটা গুমোট ভাব, যা আইলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে উপকূলবাসীকে।

উপকূলীয় বিভিন্ন জেলার ১৮ লাখ মানুষকে সন্ধ্যার আগেই ৪ হাজার ৭১টি আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মহাবিপদ সঙ্কেত জারির পর সমুদ্রবন্দরগুলোতে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; অভ্যন্তরীণ নৌপথেও চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আই.এ/

মন্তব্য করুন