উইঘুর মুসলিম নারীদের জোরপূর্বক ‘শয্যাসঙ্গী’ করা হচ্ছে

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার: চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ‘সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের’ নামে বিভিন্ন ক্যাম্পে ১০ লাখের মতো সংখ্যালঘু মুসলিম উইঘুরকে আটকে রেখেছে দেশটির কম্যুনিস্ট সরকার। বন্দিদের বেশিরভাগই পুরুষ।

নজরদারির নামে এসব বন্দির পরিবারে থাকা নারী সদস্যদের নিয়মিত চীনা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘শয্যাসঙ্গী’ হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদ সংস্থা রেডিও ফ্রি এশিয়া’র (আরএফএ) বরাত দিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

খবরে বলা হয়, সরকারি নির্দেশে ক্যাম্পে বন্দি উইঘুরদের পরিবারগুলোতে নিয়মিত নজরদারিমূলক পরিদর্শন চালায় নিয়োগপ্রাপ্ত চরেরা। এসব পরিদর্শনের সময়সীমা সর্ব্বোচ্চ এক সপ্তাহ। সে সময় তারা ওইসব পরিবারের নারীদের সঙ্গে একই বিছানায় রাত্রিযাপন করে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’ জানায়, চরদের পরিদর্শন প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যানের কোনো সুযোগ উইঘুর পরিবারগুলোর নেই। কিন্তু অন্য মানুষের সঙ্গে জোরপূর্বক মেলামেশার এ ধরনের চর্চা ভয়ানক আগ্রাসন। এটি কেবল মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন নয়, এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে অসন্তোষ ক্রমে আরও বাড়বে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চীনা কর্মকর্তা মায়া ওয়াং বলেন, উইঘুর মুসলিমরা আক্ষরিক অর্থেই এখন নিজের ঘরেও রাষ্ট্রের প্রহরী চোখের নিচে খাচ্ছে ও ঘুমাচ্ছে। নির্বাসিত উইগুরদের গঠিত সংগঠন ‘বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেস’র মুখপাত্র পিটার ইরউইন বলেন, এটি চীনে মুসলিম নিপীড়নের এক বিকৃত পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনের সীমানা নস্যাৎ কর দেওয়া হয়েছে। এটি উইঘুরদের আত্মপরিচয় মুছে ফেলার প্রকল্প, যাতে মানুষ নিজেদের কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

এটিকে মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে বিভিন্ন দেশ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে এটি সরাসরি মানুষের মৌলিক অধিকারের অমর্যাদা। ইন্ডিপেন্ডেন্ট বলছে, নিয়মিত ভিত্তিতে চালানো নজরদারিমূলক এসব পরিদর্শন চীনে মুসলিম উইঘুরদের ওপর চালানো পদ্ধতিগত দমননীতির অংশ।

খবরে বলা হয়, সরকারি নির্দেশে গত বছরের প্রথমদিক থেকেই বাড়িতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশাধিকার দিতে বাধ্য হয় উইগুর পরিবারগুলো। নজরদারিমূলক এসব পরিদর্শনকালে সরকার পক্ষের লোকজনকে নিজেদের জীবনযাপন বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী সম্পর্কে জানাতে বাধ্য হয় তারা।

শুধু তাই নয়, চীনা কর্মকর্তারা এসময় পরিবারগুলোকে ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টির আদর্শ দীক্ষা দিয়ে থাকে। উইঘুরদের মান্দারিন ভাষা ও কম্যুনিস্ট পার্টির গান শেখানো, দলীয় কাজে অংশ নেওয়া ও ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে চীনের দাবি।

২০১৪ সালে জিননিয়ান অঞ্চলে বেশ কিছু হামলা চালানোর অভিযোগে ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ নামে উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিশাল অভিযান শুরু করে চীন। পরবর্তীতে তারা প্রায় দশ লাখ উইঘুরকে ক্যাম্পে বন্দি করে। শুরুতে এসব ক্যাম্পের কথা অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে চীন এগুলোকে ঐচ্ছিক সাংস্কৃতিক শিক্ষা ও কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বলে দাবি করে।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন