সাদেক হোসেন খোকার জানাজা ও সর্বজনের শ্রদ্ধা

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৯

শহীদ মিনারে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকাকে সর্বস্তরের মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও এই মুক্তিযোদ্ধার প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মুক্তিযোদ্ধা খোকার মরদেহ শহীদ মিনারে আনা হয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে নামে মানুষের ঢল। খোকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায় গণফোরাম, সিপিবি, এলডিপি, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ জাসদ, বাসদ, জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, গণসংহতি আন্দোলন, মনোবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জাগপা, তাঁতী দল, জাতীয় হিন্দু মহাজোট, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল, বাংলাদেশ যুব সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।

শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি অনেকে এই মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সফলতার কথাও তুলে ধরেন। আবার কেউ কেউ সাদেক হোসেন খোকাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করেন।

এরআগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বাদ এশা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা ২৬ মিনিটে তার মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ। ঢাকায় একাধিক জানাজা শেষে সাদেক খোকাকে জুরাইন গোরস্তানে দাফন করা হবে বলে বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে  তিনি মারা যান। কিডনির ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন।২০১৪ সালের ১৪ মে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান তার বাবা।

সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অনেক অবনতি ঘটে। সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির ঢাকা মহানগরের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন খোকা। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।  ২০০২ সালে তিনি ঢাকার মেয়র নির্বাচিত হন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন