ফের উত্তাল জাবি; চলছে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন

প্রকাশিত: ১২:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৯

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণ দাবিতে আবারও আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।

পরে মিছিলটি ছাত্রীদের হলের দিকে গেলে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে এসে মিছিলে যোগ দেন। মিছিল থেকে উপাচার্যের অপসারণ চেয়ে নানা স্লোগান দেয়া হচ্ছে।

মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ছাত্রী হল ঘুরে পরিবহন চত্বর হয়ে মুরাদ চত্বরে গিয়ে সমাবেত হয়। এতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরাও যোগ দেন। আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মুসফিক-উস-সালেহীন জানান, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে ও হল বন্ধে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তারা মানবেন না।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বাসভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরে যান। দুর্নীতির অভিযোগে ভিসির অপসারণ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১ টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা।

তিনটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙে ওই মিছিলে যোগ দেন। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকালে তিনজন সিনেট সদস্য আন্দোলনে সংহতি জানান। বিক্ষোভে হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ১২ টার দিকে এ দিনের মতো বিক্ষোভ সমাপ্ত ঘোষণা করেন বিক্ষোভকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) আ.স.ম. ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘হল ছাড়ার নির্দেশের পরও হলে অবস্থান করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনিদিষ্টকালের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেন। প্রশাসনের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এদিকে দিবাগত রাতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ভিসি ফারজানা ইসলামকে ‘উদ্ধার’ করায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।হামলাটিকে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ উল্লেখ করে নিজের অনুসারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে শিক্ষক সাংবাদিকসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হন।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন