সুলতান মাহমুদ গজনবী

প্রকাশিত: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০১৯

৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারী বর্তমান আফগানিস্তানের (সাবেক জাবালিস্তান) গজনী শহরে জন্মগ্রহণ করেন সুলতান মাহমুদ গজনবী। তার পিতা সবুক্তগীন ছিলেন তুর্কি ক্রীতদাস এবং সেনাপতি। যিনি ৯৭৭ সালে গজনভী রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। খোরাসান এবং ট্রান্সঅক্সিয়ানার (মধ্য এশিয়ার অংশবিশেষের প্রাচীন নাম) সামানি রাজবংশের প্রতিনিধি হিসেবে শাসনকাজ পরিচালনা করেন।

মাহমুদের শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। তার মাতা একজন সম্ভ্রান্ত ইরানি পরিবারের কন্যা। এই সূত্রে তিনি ফারসি সংস্কৃতির অনুরক্ত ছিলেন। কাওসারি জাহান নামে এক আমিরজাদি পূণ্যবতীকে তিনি বিয়ে করেন। তার গর্ভে মোহাম্মদ ও মাসুদ নামে দুটি পুত্রসন্তান  জন্ম নেয়। এরা পর্যায়ক্রমে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে শাসন পরিচালনা করেন। মাসুদের পরে পুত্র মওদূদ গজনভী সম্রাজ্যের হাল ধরেন। তার সার্বক্ষনিক সঙ্গী হিসেবে মালিক আইয়াজ নামে এক জর্জিয়ান দাসের বর্ননা পাওয়া যায়।

এই মহান নায়ক এর পরিচয় হল তিনি ইতিহাসের প্রথম সুলতান। শৈশব থেকেই রাজা মাহমুদ খুব বিশদ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পবিত্র কুরআন হেফজ করেন। যুবক হিসাবে তিনি কুরআন বিজ্ঞান এবং তার যুগের অন্যান্য প্রাথমিক বিজ্ঞানগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক কৃতিত্ব অর্জন করেন। সুলতান মাহমুদকে শিক্ষা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি তার পিতা সুলতান সবুক্তগীনের লেখা একটি পাঠ্যপুস্তকের ভিত্তিতে হয়। এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  বিষয় ছিল ন্যায়বিচার, পরামর্শ ও নৈতিকতার রাজত্ব।

সুলতান মাহমুদ তার বাবার শাসনামলে ‘গ্রেট খোরাসান’ এবং ইরাননের গভর্নর নিযুক্ত হন। আর এ কারনেই তিনি আদর্শ শাসক হিসেবে নিজেকে গরে তুলেন। যা পরবর্তিতে সারাবিশ্বে নন্দিত করে তোলে এবং তার চতুর্মুখী বুদ্ধির করণে তার পিতা বড় বড় যুদ্ধে তাকে সেনাপতি নিযুক্ত করতেন। সুলতানের বাবা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। কথিত আছে, পিতা সবুক্তগীন তাকে এতো ভালবাসতেন যে, সন্তানকে কাছে পাবার জন্য মাঝে মাঝে তাকে আটকিয়ে রাখতেন।

সুলতানের বাবা আবু মনসুর সবুক্তগীন ছিলেন তুর্কি। তিনি ছিলেন গজনির যোদ্ধা। ৯৭৭ সালে বুখারার রাজবংশ যখন ভেঙে পড়তে শুরু করে, সবুক্তগীন নিজ শহর গজনির নিয়ন্ত্রণ দখলে নেন। পরে তিনি কান্দাহারের মতো অন্যান্য বড় আফগান শহরও জয় করেছিলেন। তিনি গজনি সাম্রাজ্যের মূল কেন্দ্র গঠন করেছিলেন। রাজবংশ প্রতিষ্ঠার জন্যও কৃতিত্ব পান তিনি।

৯৯৭ সালে সবুক্তগীন মারা গেলে তার বড় ছেলে ইসমাইল গজনভী সুলতান হিসেবে মসনদে বসেন। তবে মাহমুদ ইসমাইলের চেয়ে বড় এবং অভিজ্ঞ হলেও বৈমাত্রেয় মায়ের প্রভাবে তিনি পিছিয়ে পড়েন তার সৎমা মারা জাবার পর ইসমাইলকে মছনদে বসানর জন্য সব কুটনৈতিকদের হাত করেন। মাহমুদের মা ছিলেন খুবই পরহেজগার ও দুনিয়া বিমুখ । মাহমুদের বৈমাত্রেয় মাতা ছিলেন সবুক্তগীনের পৃস্ঠপোষক আলাপ্তগীনের কন্যা এবং সে সুবাদেই ভাই ইসমাইল প্রভাব বিস্তার করার সুজোগ পান।

চলবে…

সুলতান মাহমুদ গজনভী ০১

মন্তব্য করুন