সুলতান মাহমুদ গজনভী

প্রকাশিত: ১:৪১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০১৯

চারদিকে এমন গবেষণা ও এগিয়ে যাওয়ার এ যুগেও এ বীরপুরুষদের সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না। আমরা বনে-জঙ্গলে পালিয়ে বেড়ানো চে-গু’র ছবি বুকে নিয়ে গর্ব করি, নেপোলিয়ন, মুসোলিনি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, হিটলারের বাঙ্কার আর তার প্রেমিকার নাম-ধাম নিয়ে উৎসাহ বোধ করি- স্যার রিচার্ড , আলেকজান্ডার এদের আড়ালে বীর মুজাহিদ সুলতান সালাহুদ্দিন আল আইউবি , গজনির সুলতান মাহমুদ, মুহাম্মদ বিন কাসিম এই মহাপুরুষদের জীবনী ও কর্মকাণ্ড আমরা কয়জনে জানি বা জানার চেস্টা করি।

গজনীর সুলতান মাহমুদ কিংবদন্তী এক নাম যিনি ভারত উপমহাদেশের তৎকালিন অত্যাচারী হিন্দু রাজাদের জন্য ছিলেন এক ভয়ংকর আতংক । তৎকালিন ভারতের অসহায় ও অত্যাচারিত মুসলমানদের জন্য তিনি ছিলেন মুক্তির দুত।সবুক্তগীনের মৃত্যুর পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সুলতান মাহমুদ ৯৯৭ খৃস্টাব্দে গজনীর সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং ৯৯৮ খৃস্টাব্দে খোরাসানের সামানীয়দের পরাজিত করে স্বীয় আধিপত্য মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন।

অতঃপর মাহমুদ ‘সুলতান’ উপাধি গ্রহণ করে তৎকালীন আব্বাসীয় খলিফা কাদির বিল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করে পত্র প্রেরণ করেন। এতে খলিফা সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ‘ইয়ামিন-উদ-দৌল্লা’ এবং ‘আমিন-উল-মিল্লাত’ উপাধিতে ভূষিত করেন।তিনি মূর্তি পূজারী পৌত্তলিক ও নিষ্ঠুর হিন্দু রাজাদের বিরুদ্ধে ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেছিলেন। সামরিক মেধা ও দক্ষতায় তৎকালীন কোনো নৃপতিই তার সমকক্ষ ছিল না।

১৭বার ভারত অভিযানে তিনি প্রতিবারই বিজয়ী হন।তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রান খাঁটি মুসলিম । যদিও বিধর্মী ইতিহাসবিদেরা তার এই ধর্ম প্রান ব্যাক্তিত্বকে আড়াল করে উনাকে লুটেরা হিংস্র সুলতান হিসাবেই চিত্রিত করেছে । এতে উনার দ্বীনের প্রতি নিবেদিত কর্ম গুলি মিথ্যা ইতিহাসের আড়ালে হারিয়ে গেলেও পরবর্তীতে মুসলমান ইতিহাসবিদেরা মিথ্যা ইতিহাসের মেঘের আড়াল হতে সুলতান মাহমুদের সত্য ইতিহাস মধ্যাহ্ন সূর্যের আলোর মতই প্রজ্বলিত করেছেন।

এতে আমরা দেখতে পাই তিনি ছিলেন ইসলামের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া একজন খাঁটি মুসলিম। যিনি ব্যাক্তিগত জীবনেও ছিলেন পরহেজগার ও মুত্তাকী । তিনি তাকওয়ার দিক দিয়েও ছিলেন অন্যতম একজন বাদশাহ। যুদ্ধের ময়দানে যখন শ্ত্রুদের আক্রমণে তিনি পরাজয়ের দ্বার প্রান্তে চলে যেতেন, তখন সেই ময়দানেই তিনি তার বাহন হতে নেমে দুই রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে কাতর মনে সাহায্য চাইতেন । এতে আল্লাহতালা তার দোয়া কবুল করে উনাকে বিজয় দান করতেন । এই রকম ঘটনা উনার জীবনে বহুবার ঘটেছে।

চলবে……

এমএম/

মন্তব্য করুন