কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা সময়ের দাবি: বাবুনগরী

প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯
ছবি: পাবলিক ভয়েস

মানব জাতির হেদায়াতের জন্য যুগে যুগে আল্লাহ তাআলা নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন। নবী রাসুলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বশেষ নবী ও রাসূল হচ্ছেন হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ঈমানদার হওয়ার জন্য আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত তথা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী হওয়ার বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে।

আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। খতমে নবুওয়াতে বিশ্বাসী হওয়া ছাড়া মুসলমান হওয়া যায় না। কাদিয়ানীরা খতমে নবুওয়াতকে অস্বীকার করে তাই তারা কাফের৷মুসলিম নাম ধারণ করে ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে তাদের ঈমানবিধ্বংসী কোনো কার্যক্রম চলতে পারেনা।অনতিবিলম্বে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে কাফের ঘোষণা করা সময়ের অপরিহার্য দাবী।

২ নভেম্বর শনিবার মেখল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন জাগন্ত কর্তৃক আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।

আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন,পবিত্র কোরআন শরিফের ৯৯টি আয়াত এবং ২১০টি হাদিস দ্বারা আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত প্রমাণিত। যারা আকিদায়ে খতমে নবুওয়াত মানে না, তারা সন্দেহ ছাড়া কাফের।

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আরও বলেন, মসজিদ পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট জায়গা, মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের পবিত্র স্থান৷ কাদিয়ানীরা কাফের, কাফেরদের কোনো মসজিদ হতে পারে না। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ইত্যাদি মুসলমানদের ধর্মীয় পরিভাষা। কাদিয়ানীরা কাফের তাই মুসলমানদের কোনো পরিভাষা ব্যবহার করে তারা তাদের ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার করতে পারে না৷ এটা ইসলাম ধর্মের অবমাননার শামিল৷

তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশ। এ দেশের মুসলমানগণ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের প্রাণের চেয়েও বেশি মুহাব্বাত করেন৷ বিশ্বনবী (সা.) এর রিসালতকে অস্বীকারকারী কাদিয়ানী অমুসলিমদের আস্ফালন এদেশের ধর্মপ্রাণ তৌহিদি জনতা মেনে নেবে না।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে এদেশের হিন্দুরা হিন্দু নামে, বৌদ্ধরা বৌদ্ধ নামে এবং খ্রিস্টানরা খ্রিস্টান নামে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করছে৷কিন্তু কাদিয়ানী অমুসলিমরা মুসলমান নাম ধারণ করে সরলমনা সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা দিয়ে ঈমানবিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যা ইসলাম ধর্মের নামে অপপ্রচারের শামিল৷ তা কখনো মেনে নেয়া যায় না৷

আল্লামা বাবুনগরী বলেন,কাদিয়ানীদের সাংবিধানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা না করার কারণে তারা বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়ে ভিসা পাসপোর্ট নিয়ে হজ্ব ওমরা করতে পবিত্র মক্কা-মদীনায় যায়। কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী কোন অমুসলিম পবিত্র মক্কা মদীনয় প্রবেশ করতে পারেনা।তারা মক্কা মদিনায় প্রবেশ করে মক্কা মদিনার পবিত্রতা নষ্ট করতেছে। এর দ্বায় রাষ্ট্র বহন করতে হবে।তাই সাংবিধানিকভাবে কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে হবে।

তিনি আরো বলেন,নাগরিক অধিকারে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান এ দেশে বসবাস করছে।কাদিয়ানীরাও এ দেশের নাগরিক হিসেবে বসবাস করতে পারে এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে মুসলমান হিসেবে নয় কাফের হিসেবে থাকতে হবে। সংখ্যা ঘরিষ্ঠ হিসেবে নয় সংখ্যালঘু হিসেবে কাদিয়ানীরা এদেশে বসবাস করতে পারে।

কাদিয়ানীরা অমুসলিম৷ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। ৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশেও কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয় ও সংবিধানিকভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জোর দাবি জানান হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

মুরশেদ আলম ও মুহা.দিদার এর যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মেখল হামিয়ুচ্ছুন্নাহ মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা নোমান ফয়জী।

অন্যানদের মাঝে আরও বয়ান করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দীন আল মোবারক,মাওলানা ওবাইদুল্লাহ হামজা,মাওলানা ইসমাঈল খান,মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী,মাওলানা শাহেদুর রহমান মাহমুদাবাদী,মাওলানা আব্দুস সামি,মাওলানা মুহা.এমদাদ, মুফতী মাহমুদ হাসান ফয়জী প্রমূখ।

আই.এ/

মন্তব্য করুন