গাজী আতাউর রহমানরা কেনো পিছিয়ে থাকবেন!

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০১৯

এ সময়ের সবচেয়ে সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ছোট বড় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে তারা নিয়মিত রাজপথে থাকে, আন্দোলন সংগ্রাম করে। তাদের ঘরোয়া কার্যক্রমও বেশ জোরালোভাবে চলছে। প্রতিদিন দলটির নেতাকর্মীদের নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মীসভা, প্রশিক্ষণসভা, জনসভা চলছে দেশের বিভিন্ন জনপদে। কিন্তু মিডিয়ায় তাদের উপস্থিতি খুব সামান্য।

ইসলামী আন্দোলনের আমীর সৈয়দ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন এই দলটি বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে রাজনীতি করে। বিএনপি জামায়াতের মতো বড় দলগুলোও যখন রাজপথে অনুপস্থিত তখনও প্রচন্ড বৈরীতা ঠেলে দলটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের গণমানুষের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে কথা বলছে। হিন্দুস্থানী আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে হুংকার দিচ্ছে। অথচ মিডিয়া তাদের প্রাপ্য কাভারেজ দেয় না। সমতা করে না।


ক্ষমতায় আসার পরে থেকে আওয়ামী লীগের কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই। তারা সরকারীভাবে সিভিল সোসাইটিকে দূর্বল করে প্রশাসনকে শক্তিশালী করার চেষ্টায় মগ্ন। তারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে ফেলছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তাদের আস্থা এখন দেশের জনগণে নয়, প্রশাসনে। দলটির নেতাকর্মীরা সবাই রাজরস আহরণে ব্যাস্ত। যে যেভাবে পারছে হালুয়া রুটির পেছনে ছুটছে। রাজনৈতিক কার্যক্রমহীনতা এবং ক্ষমতার কামড়াকামড়ি দলটির নেতাকর্মীদের হিংশ্র করে তুলেছে। তারা দেশের সব মানুষকে প্রজা ভাবতে শুরু করেছে। আর দেশটাকে বানিয়েছে তাদের ইজারা সম্পদ।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে থেকে বিএনপির দলীয় কার্যক্রম গুটিয়ে গেছে। মামলা হামলা, গুম খুনের ভয়ে নেতাকর্মীরা বেকার জীবন অতিবাহিত করছে। জীবন বাঁচাতে অনেকেই দেশ ছেড়েছে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জেল এবং তারেক রহমানের অভিবাসন দলটিকে মূলত নেতৃত্বশূণ্য করে ফেলেছে। দলের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ হালধরার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে সরকার প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করেছে। মামলা মোকদ্দমা দিয়ে অক্টেপাসের মতো টুটি চেপে ধরেছে। গুম খুন নির্যাতন জুলুমে তাদের মনোবল ভেঙ্গে পড়েছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দন্ডিত দল জামায়াতে ইসলামির অবস্থা আরো ভয়াবহ। সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করেনি, কিন্তু তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য যে যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার তার কোনো কিছুতে কার্পণ্য করেনি।

হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি এতদিন টিকে থাকলেও এখন তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম খুঁজতে যাদুঘরে যেতে হবে। কিন্তু সেখানেও তাদের দেখা মিলবে বলে মনে হয় না। কারন জাতীয় পার্টি কোনো দিনই পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হয়ে উঠতে পারেনি। তারা সব সময় চেষ্টা করেছে আওয়ামী লীগ বিএনপিতে কাইজ্জা বাঁধিয়ে নিজেরা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে।


দেশের বড় দলগুলোর এই নাজুক অবস্থা এবং সরকারের সৃষ্টি করা রাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেও ইসলামী আন্দোলন টিকে আছে, কর্মসূচি পালন করছে, কথা বলছে, এটা কোনোভাবেই হালকা বিষয় নয়। কিন্তু সমস্যা হলো ইসলামী আন্দোলন যে পরিমানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে কথা বলে তা থেকে খুব সামান্য পরিমানে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। কারন ঢাকার মিডিয়াগুলোর চরিত্রই হলো ইসলামপন্থীদের পজেটিভ খবর চেপে রাখা এবং নেগেটিভ খবরগুলো বড় করে প্রচার করা। এর দায় অবশ্য ইসলামী আন্দোলন বা ইসলামপন্থীদেরও আছে, যা অন্য কোনো সময়ে লিখবো ইনশা’আল্লাহ।

সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী আন্দোলনের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার বক্তব্য বেশ গুরুত্বের সাথে ঢাকার দুটি লিডিং মিডিয়ায় এসেছে, যা দেশের সচেতন মহলে নাড়া দিয়েছে। দেশের ইসলামপন্থী রাজনীতি এবং রাজনীতিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চিন্তা-চেতনায় প্রভাব বিস্তার করেছে।

দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীমের এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে। জনাব ফয়জুল করীম সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকারের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘ধর্ম মানুষকে সভ্য হতে শেখায়’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামপন্থী রাজনীতি নিষিদ্ধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ঢাবিতে সভ্যতার বিস্তার ঘটাতে চায় না তারাই ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা ভাবতে পারে।

ব্যক্তিগতভাবে আমাকে প্রভাবিত করেছে তার এই কথা। আমরা যদি ইতিহাস হাতড়াতে না চাই, শুধুমাত্র বর্তমান সময়ের দিকে তাকালেও বোঝা যাবে যেখানে ধর্ম অনুপস্থিত সেখানেই অসভ্যতা, সেখানেই দূর্নীতির বেসাতি। বাংলাদেশের সাবেক এবং বর্তমান ক্ষমতাসীনদের দিকে নজর দিলে দেখা যায় দলগুলো এক একটি দুর্নীতি ও অসভ্যতার দোকানে পরিণত হয়েছে। বিপরীতে দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর চরিত্র একেবারেই ভিন্ন। কিছু ভুলত্রুটি, অদক্ষতা বা ব্যক্তি অবক্ষয় বাদ দিলে দলগুলোকে এক একটি সভ্যতার রোল মডেল হিসাবে উপস্থাপন করা যায় অনায়াশে।

জনাব ফয়জুল করীম বলেছেন, বিশ্বে ইসলাম এবং মুসলমানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরাপত্তা। ইসলাম এবং মুসলমান বিশ্বের কোথাও এখন নিরাপদ নয়। সত্যিই তাই। নিরাপত্তাহীনতাই এখন মুসলমানদের বড় সমস্যা। গোটা দুনিয়াসহ বাংলাদেশেও এখন ইসলামপন্থীরা বিপন্ন। এটাই মুসলমানদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। অকাঠ্য বাস্তবতা। এই চরম সত্যটি চিহ্নিত করতে হলে, প্রকাশ করতে হলে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও সাহস থাকতে হয়। যা ফয়জুল করীমের কথায় ফুটে উঠেছে।

আমি মনে করি রাজনীতিকরা এমনই হওয়া উচিত। একজন রাজনীতিবিদ যদি দেশ এবং বিশ্বের সঠিক সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারেন তিনি কীভাবে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন? কীভাবে শাসনতন্ত্রের পরিবর্তন ঘটাবেন?

সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেছেন, পাতানো নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ইসলামী আন্দোলনকে মূল্যায়ন করা উচিৎ হবে না। আসলে বাংলাদেশের শেষ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শুধু ইসলামী আন্দোলন কেনো; দেশের কোনো দলেরই মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না। এমনকী সরকারী দল আওয়ামী লীগেরও না। কারন তাদের জনপ্রিয়তাও এই নির্বাচনে প্রমাণিত হয়নি।

ইসলামী আন্দোলন যে ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে রাজনীতি করে সে কথাও ফুটে উঠেছে ফয়জুল করীমের সাক্ষাৎকারে।

তিনি বলেছেন, যে মৌলিক ঘোষণার উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতা সংগ্রাম হয়েছিল- ‘মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক সাম্য’, এর কোনোটাই ৪৮ বছরের বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয়নি।

জনাব ফয়জুল করীম ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান, প্রতিবেশি দেশ ভারতের সাথে সম্পর্ক, সরকারের সাথে সম্পর্কসহ অনেক বিষয়ে বিচক্ষণ কথা বলেছেন। কম কথায় একজন দক্ষ রাজনীতিকের ভাষায় কথা বলেছেন। যা দেশের চিন্তশীল মানুষতে প্রভাবিত করবে, করেছে।


ইসলামি আন্দোলনের অপর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং নীতিনির্ধারক গাজী আতাউর রহমান। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা মেধাবী রাজনীতিকদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন। সাম্প্রতিক সময়ে একাত্তর টেলিভিশনের এক দীর্ঘ টকশোতে তাকে দেখা যায়। তার সহযোগী আলোচক ছিলেন, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন এবং সিনিয়র আইনজীবী মনজুর মোরশেদ।

গাজী আতাউর রহমানের সবচেয়ে বড়গুন হলো তিনি নিজের কথা দিয়ে, দলের কথা দিয়ে, আদর্শ দিয়ে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারেন। নিজের কথা অন্যকে দিয়ে বলিয়ে নিতে পারেন। যেমন ভোলার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ক্ষোভের সাথে বলেন, বাংলাদেশে শুধুমাত্র শেখ মুজিবর রহমান এবং শেখ হাসিনার সম্মান সুরক্ষার আইন আছে, অন্যকারো জন্য নেই।

যারা মিঃ মামুনকে জানেন, তার লেখালেখি, তার গবেষণার সাথে পরিচিত তারা সবাই জানেন- তিনি এমন সমীকরণে কথা বলার মানুষ নন। কিন্তু সেদিন বলেছেন। বলা যেতে পারে বলতে বাধ্য হয়েছেন। রাসূলের (সা.) অসম্মান ইস্যুতে তাকে এমন সত্য কথা বলতে প্রভাবিত করেছেন গাজী আতাউর রহমান। যা সরকারের জন্য একটা ভারী চপেটাঘাত হিসেবে কাজ করেছে।

আমরা সবাই জানি ঢাকার মিডিয়াগুলো ইসলামপন্থীদের দাবিয়ে রাখতে পছন্দ করে। টকশোতে তারা একজন আলেম আলোচকের বিপরীতে তিন চারজন পেশাদার আলোচককে বসিয়ে আলেম বা ইসলামপন্থীদের হেয় করার চেষ্টা করে। একাত্তর সংযোগেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। অন্যান্য মিডিয়ার মতো তারাও চেষ্টা করেছে রাসূলের (সা.) অসম্মান বিষয়টি গুজব বলে হালকাভাবে তুলে ধরতে। বরং সত্য মিথ্যা যাচাই না করে আন্দোলনের ডাক দেয়ার কথা বলে ইসলামপন্থীদের উপরই দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু গাজী আতাউর রহমান তাদের সফল হতে দেননি।

তিনি ইসলামী আন্দোলনের গত তিন দশকের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা এমনভাবে তুলে ধরেন যে উপস্থাপিকা নিজেই বলতে বাধ্য হন, ইসলামী আন্দোলনের কাছ থেকে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর শেখার আছে অনেক কিছু।

গাজী আতাউর রহমানের কৌশলী কথার জালে আটকা পড়ে আলহাজ্ব মুনতাসির মামুন নিজেকে ‘হাজি’ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন। এডভোকেট মনজুর মোরশেদ আইনি দূর্বলতাগুলো তুলে ধরেন। তিনিও গাজী সাহেবের কথায় সুর মেলাতে বাধ্য হন।

উপস্থাপিকা বলেন, আমরাও মুসলমান। নবীকে (সা.) গালাগাল করা হলে আমাদেরও কষ্ট হয়।

 

অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, মনজুর মোরশেদ এবং ওই উপস্থাপিকাকে নিয়মিত টিভির পর্দায় দেখা যায়। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করেন। কিন্তু কখনো ইসলাম এবং ইসলামপন্থীদের নিয়ে পজেটিভ আলোচনা করতে দেখা যায় না। সামান্য হলেও সেদিন তারা পজেটিভ কথা বলেছেন। আর সে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন সাবেক ছাত্র নেতা গাজী আতাউর রহমান।

উপস্থাপিকা ভোলার ঘটনাকে ভিন্ন পথে প্রবাহিত করতে বলেন, কোনো হিন্দু ব্যক্তির নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হলে ইসলামপন্থীরা যেমন প্রতিক্রিয়া দেখায় মুসলমানদের ক্ষেত্রে তা দেখায় না।

গাজী আতাউর রহমান খুব সরলভাবে সালমান রুশদি, তসলিমা নাসরিন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের মুসলিম নামের ব্লগারদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কথা সস্মরণ করিয়ে দেন। এতেও দমে যান না উপস্থাপিকা। একটু পরে আবারও অন্য প্রশ্নের সাথে জুড়ে একই প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু গাজী আতাউর রহমানকে কোনোভাবেই আটকাতে পারেননি। তিনি খুব সহজভাবে আগের উত্তরগুলো মনে করিয়ে দেন।

মিঃ আতাউর রহমান খুব দৃড়তার সাথে বলেন, ‘রাসুলকে (সা.) অসম্মান করার প্রতিবাদ করা তথাকথিত কোনো আবেগের বিষয় নয়। এটা মুসলমানিত্বের ব্যাপার’। তার এই কথার পরেই মূলত উপস্থাপিকা এবং অন্য দুই আলোচক সংযতো হয়ে যান। তারা আলোচনার খেই ঘোরাতে চেষ্টা করেন।

জনাব আতাউর রহমান বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করে, নির্যাতন করে ইসলামপন্থীদের কোনো লাভ নেই। বরং যারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের চিত্র দেখিয়ে বিদেশিদের করুণা প্রত্যাশা করে, ইসলামপন্থীদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করে তারাই মূলত সংখ্যালঘু নির্যাতনের নেপথ্যে কাজ করে।

বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তাদের উপসানালয় সুরক্ষার জন্য দেশের সব সনাতন মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেন গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করে তাদের উগ্রবাদী, মৌলবাদী বলতে পারে শুধুমাত্র জ্ঞানপাপীরা।

মজার বেপার হলো এত শক্ত কথার পরেও উপস্থাপিকা বা অন্য আলোচকরা মিঃ আতাউর রহমানের কথায় কাউন্টার করার সুযোগ পাননি। বরং নিরব সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছেন।


ইসলামি আন্দোলনের উচিত দক্ষ এবং যোগ্য কর্মীবাহিনী তৈরীর দিকে নজর দেয়া। সমাজের বিভিন্ন স্তর বুঝে মানসম্পন্ন দাওয়াতী কর্মী তৈরী করা। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রদের নিয়ে গবেষণা সেল গঠন করা। তাদের প্রতিবেদন, পরামর্শ আমলে নেয়া।

মিডিয়ায় কথা বলার মতো যোগ্য স্পোকম্যান তৈরী করা। মিডিয়ার চাহিদা মাথায় রেখে কথা বলা। দেশের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গবেষণা করা। আলোচনা সমালোচনার সময় প্রতিষ্ঠানের বা বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করা। বিভিন্ন দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং নেতাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা। রাষ্ট্রদূতদের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করা। আন্তর্জাতিক মানের ইসলামি স্কলারদের সাথে যোগাযোগ করা। তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা এবং দলের ভেতরে ব্যাবসায়ীদের প্রভাব কমানো। বিশেষ করে যারা দলকে পুজি করে ব্যাবসা করে তাদের দূরে রাখা বেশি জরুরী।

পলাশ রহমান
ইতালি প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক

মন্তব্য করুন