৩৩ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০১৯

চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে আরো বিস্তৃত করা হচ্ছে। ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজি, ঘুষ দুর্নীতির সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম। এরই অংশ হিসেবে গতকাল একসাথে ৪০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সাথে ১১ ব্যক্তির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর আগে ২২ জনের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

এ নিয়ে এ পর্যন্ত ৩৩ ব্যক্তির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। জানা গেছে, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কাজের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, এমন চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে দুদক। গতকাল বুধবার দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) সাঈদ মাহবুব খান বিএফআইইউর মহাব্যবস্থাপককে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বলে দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ দিকে গতকাল গণপূর্ত অধিদফতরের ছয় নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ১১ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুদক। ক্যাসিনো ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। গতকাল বুধবার পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ইমিগ্রেশন বরাবর অনুসন্ধান দলের প্রধান ও সংস্থাটির পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

এর আগে সংসদ সদস্যসহ ২২ ভিআইপির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। গতকাল দুদকের চিঠিতে বলা হয়, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশনে বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ঘুষ, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অনুসন্ধান কিংবা মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দিন দিন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান বিস্তৃত করা হচ্ছে। প্রথমে যাদের নাম ছিল পরে আরো বড় ভিআইপিদের এ তালিকায় আনা হচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে সন্দেহভাজনদের তালিকা অনুযায়ী তথ্য দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নির্ভুল তথ্য দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যস্ততা আরো বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিএফআইইউ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন সরকারি পদস্থ কর্মকর্তা, ব্যাংক কর্মকর্তাও রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের চলমান অনুসন্ধান ও মামলাগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জব্দকৃত হিসাবগুলোর বিবরণীসহ প্রকৃত অর্থ লেনদান সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। দুদকের সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও তদন্তের স্বার্থে জব্দ করা ওই চার শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বিবরণী ও প্রকৃত আর্থিক লেনদেনের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করার জন্য চিঠিতে অনুরোধ জানিয়েছেন দুদক মহাপরিচালক সাঈদ মাহবুব খান।

মুহসিন/

মন্তব্য করুন