ভোলার ঘটনায় সৌদিতে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ সভা

প্রকাশিত: ৭:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

সৌদি আরব থেকে হাবীব আনওয়ার: ভোলায় মহান আল্লাহ ও রাসূল সা.কে নিয়ে কটুক্তি করার বিচারের দাবীতে অংশগ্রহনকারী তৌহিদী জনতার বুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করায় শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে সৌদি আরবের নাবিয়া পাবলিক মিলনায়তনে প্রতিবাদসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি জনাব মাওলানা জামাল উদ্দিন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কালামুল্লাহ শরীফ থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মনিরুজ্জামান, হাফেজ শরীফুল ইসলাম, ইসলামী সংগতি পরিবেশন করেন হাফেজ আব্দুর রহমান ও মাও মাহফুজুর রহমান।

উদ্ভোধনী বক্তব্যে শাখা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। সম্প্রদায়িক সম্প্রতির বাংলাদেশে দেশের স্বাধীনতা সার্ভবৌমত্ব নষ্টে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকনের সদস্যরা মহান আল্লাহ তাআলা ও রাসূল সা. এর বিরুদ্ধে কিছুদিন পর পর কটুক্তি ও কুৎসা রটনা করে।’

তিনি বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ জনগণের মাঝে ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধানোর অপচেষ্টা চালিয়ে চালায়। কিন্তু সরকার মুসলমানদের পক্ষে আইন না করে বরং মুসলমান নিধনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। সরকার যদি এই সমস্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে প্রস্তুত না হয় তাহলে নবী-প্রেমিক সৈনিকরা ঘরে বসে থাকবে না। রবং আরো রক্তের বিনিময়ে হলেও দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।’

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা জামাল উদ্দিন বলেন, ‘ভোলার বোরহানউদ্দিন ঘটনা অতন্ত্য নেক্কার জনক। অনতিবিলম্বে হিন্দু বিপ্লব কুমার ও চার শহীদের খুনি পুলিশদেরকে গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্টে ঝুলাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়ার মাধ্যমে আমি সরকারের নিকট এই দাদি জানাই বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সৌদি সরকারের সাথে নারী শ্রমিক প্রেরণের যে চুক্তি হয়েছে তা দেশের নারীদের জন্য কলংক জনক সীদ্ধান্ত। নারী শ্রমিক রা এদেশে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে আমরা এই এই চুক্তি বাতিলের জোর দাদি জানাই।’

প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আমাদের দাদি সমূহ নিম্ন দেওয়ায় হল। সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ এর দাবি সমূহের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি এবং সরকারের নিকট সেই দাবি বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছি।

দাবিগুলো হল-

১. অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা পুলি সুপার ও বোরহানউদ্দিনের ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে গুলির হুকুমদাতা ও গুলিবর্ষণকারীদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।

২. আমাদের মহানবী (স.) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটুক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করতে হবে।

৩. মহানবী (স.) ও আল্লাহ তায়ালাকে নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটুক্তিকারী ‘বিপ্লব চন্দ্র শুভ’কে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে।

৪. ভোলার বোরহানউদ্দিনে গতকালের সংঘর্ষে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৫. সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. গতকালের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং কোনো হয়রানিমূলক মামলা বা কাউকেই গ্রেপ্তার করা যাবে না।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা মুহিউদ্দীন রাগীবী, মাওলানা আব্দুর রহীম, মাওলানা ইলিয়াস, মাওলানা মুফতী সাইফুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মাওলানা আবুল কাসেম, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মুফতী মিজানুর রহমান, মাওলানা রিজওয়ান, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ, মাওলানা মুজ্জাম্মেল, মাওলানা মাহফুজুর রহমান, মাওলানা সালেহ উদ্দিন, জনাব আব্দুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শেষ মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব দেশ জাতি ও বিশ্ব মুসলমানদের শান্তি কামনায় দোয়া করেন।

আই.এ/

মন্তব্য করুন