হেফাজতের নামে থাকা ২০১৩ সালের সকল মামলা সচল হতে পারে

প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

২০১৩ সালে নাস্তিক মুরতাদদের বিরুদ্ধে বিশাল গণজাগরণ তৈরি করা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সারাদেশে একটি পরিচিত নাম। স্বাধীনতা পরবর্তি বাংলাদেশে ইসলামের পক্ষে সর্বোচ্চ জাগরণ হিসেবে এটিকে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে কিন্তু সেই জাগরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অদুরদর্শীতার কারণে ইসলাম ও মুসলমানের দৃশ্যমান কোন উপকার না হলেও বাংলাদেশে ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে যে কোন কটুক্তি বা ইসলাম বিদ্ধেষ প্রকাশের ক্ষেত্রে হেফাজতে ইসলামের প্রতি একটি ভয় অবশ্যই থাকে।

যদিও আওয়ামী লীগের সাথে একটি ঘোষিত সমঝোতার কারণে অনেকেই মনে করেন যে, হেফাজত আর সরকারবিরোধী কোন আন্দোলন করতে পারবে না। ওদিকে সরকারও তাদেরকে সেভাবে বিশ্বাস করে না বলেই হয়ত হেফাজতের নামে থাকা ২০১৩ সালের মামলাগুলোকে উঠিয়ে নেয়নি সরকার।

সম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দীনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিপ্লব কুমার বৈদ্য নামের এক যুবক ফেসবুকে আল্লাহ ও রাসুল স. কে কটুক্তির প্রতিবাদে করা আন্দোলনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে প্রায় ৬/৭ জনের শহীদ হওয়ার ঘটনা নিয়ে হেফাজত আবার একটু সরব হয়েছিলো।

ঢাকা, চট্টগ্রামে মিছিল প্রোগ্রাম এবং ভোলায় প্রতিনিধি দল প্রেরণসহ বেশ কিছু কার্যক্রম করার চেষ্টা করেছে তারা। বিষয়টি আমলে নিয়ে হেফাজতের নামে থাকা ২০১৩ সালের মামলাগুলো সচল করার দিকে আগাচ্ছে পুলিশ এমন তথ্যই জানিয়েছে দৈনিক জনকন্ঠ। তারা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের তান্ডবের বিরুদ্ধে ছয় বছর আগে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে নড়াচড়া শুরু করেছে পুলিশ। সারাদেশে হেফাজতের ঘটনায় ৮৩টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৩ হাজার ৪১৬ জনের নামসহ ৮৪ হাজার ৯৭৬ জনকে।

গত ছয় বছর ধরে হিমাগারে পড়ে আছে ৬২ মামলার তদন্ত। ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষের ঘটনায় দোষীদের শাস্তি না হলে দাবি আদায়ে আবারও শাপলা চত্বরে গণজমায়েত করার হুমকি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আবারও হেফাজতের শাপলা চত্বরে গণজমায়েত করার হুমকি দেয়ার পর ছয় বছর আগের পুরনো মামলাগুলো নিয়ে নড়াচড়া শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ খবর জানা গেছে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা বলছেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সমঝোতার কারণে এতদিন হেফাজতের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত নিয়ে কারও গরজ দেখা না যাওয়ায় কার্যত হিমাগারে পড়েছিল। হেফাজতের দাবির মুখে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তরের দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান বলে স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। দাবি অনুযায়ী পাঠ্যবইয়েও পরিবর্তন আনা হয়। হেফাজতের অন্যান্য দাবিও পূরণ করেছে সরকার।

হেফাজতের সেই ঘটনায় যে মামলাগুলো দায়ের করা হয়, তাতে ৩ হাজার ৪১৬ জনের নামসহ ৮৪ হাজার ৯৭৬ জনকে আসামি করা হয়। তবে হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফীকে কোনো মামলাতেই আসামি করা হয়নি। পরে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ ৮৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অবশ্য পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।

/এসএস

মন্তব্য করুন