যেভাবে ফেইসবুক আইডি ডিজেবল হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন

প্রকাশিত: ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০১৯

ফেইসবুক বর্তমান যুগের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনেকেই সামজিক যোগাযোগ বা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যবহার করে থাকেন এই জনপ্রিয় মাধ্যমটি। বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশ মানুষেই ফেসবুক ব্যবহার করে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফেইসবুক প্রোফাইল বেদখল (হ্যাকড) ও নিষ্ক্রিয় (ডিজেবল) হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। কিছু নির্দেশনা মেনে চললেই আপনার এই জনপ্রিয় মাধ্যমটি সুরক্ষিত রাখতে পারবেন।

সেগুলো হলো- আপনার অ্যাকাউন্টটি অবশ্যই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও জন্ম তারিখের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করবেন। না থাকলে আজই সেটা করে নিন। তাহলে কোনো কারণে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হলে আপনার পরিচয়পত্র জমা দিলে অ্যাকাউন্টটি ফেরত দিয়ে দেবে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে আপনার জন্ম তারিখ, সাল, ইমেইল ও ফোন নম্বর অনলি মি করে রাখুন।

কখনোই আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, স্মার্ট কার্ড, স্কুল-কলেজের আইডি কার্ড বা বৈধ কোনো আইডি কার্ড ফেসবুকে আপলোড করবেন না। বিদেশ ভ্রমন কালে অনেকেই নিজের পাসপোর্ট আপলোড করে থাকেন। তা থেকে বিরত থাকুন। মনে রাখবেন আপনার পরিচয়পত্রের কপি অন্যের কাছে থাকলে সেটা আপনার জন্য অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। উক্ত ব্যক্তি চাইলে ওই পরিচয়পত্র দিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় ও দখল নিতে পারবে।

ফেসবুকে থাকা সব নিরাপত্তা সুবিধা (ফিচার) অন করে রাখুন। অবশ্যই বিশ্বস্ত কমপক্ষে পাঁচজন বন্ধু যুক্ত করে রাখবেন। তবে সেটা মাঝে মাঝে চেক করবেন। আপনার বিশ্বস্ত বন্ধুর তালিকা থেকে কারো অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে কিনা। হয়ে গেলে নতুন কাউকে যোগ করে আবার ন্যূনতম ৫ জন যোগ করে রাখুন। প্রোফাইল পিকচার গার্ড ব্যবহার করা ভালো। যারা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) রাখতে চান, তারা প্রোফাইল লক অপশন ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে শুধু আপনার বন্ধু তালিকায় (ফ্রেন্ড লিস্ট) থাকা বন্ধুরা আপনি যা দেবেন, তা দেখতে পারবেন।

কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সংখ্যা, চিহ্ন এবং শব্দ দিয়ে বানালে বেশ কঠিন হয়। ডিকশনারি ওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কখনো নিজের নাম বা ফোন নম্বর পাসওয়ার্ড হিসাবে ব্যবহার করবেন না। অপরিচিত কারও দেয়া লিংকে ক্লিক করবেন না। ফেইসবুকের ন্যায় দেখতে এমন ফিসিং সাইটে কোনো প্রলোভনে লগইন করবেন না। আপনার ইমেল ঠিক আছে কি না নজর রাখবেন।অনেক ইমেইল আছে যেটা ১ বছর ব্যবহার না করলে সেটা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে সুবিধাবাদীরা আপনার নামে ইমেইল অ্যাকাউন্ট খুলে খুব সহজেই আপনার অ্যাকাউন্ট দখল করে নিতে পারবে। টু স্টেপ ভেরিফিকেশন অবশ্যই চালু রাখবেন।

ফেসবুক হ্যাক থেকে রক্ষা পাওয়ার আরো কিছু টিপস

১। এপ্লিকেশন পারমিশন যখন আপনি ফেসবুকে কোন কুইজের উত্তর দেন, ফেসবুক গেম ইন্সটল দেন অথবা এপ্লিকেশন এড করেন, তখন অবশ্যই দেখেছেন,আপনার কাছে ফেসবুকের একসেস পারমিশন চাওয়া হয়। এই পারমিশন এক কথায় বলতে গেলে দেখা যায় আপনার সবকিছুই, অর্থাৎ, যখন আপনি পারমিশন দিয়ে দিলেন তার মানে হলো তারা চাইলে আপনার একউন্ট ব্যবহার করতে পারবে।এমনকি যখন আপনি লাইলে না থাকবেন তখন ও সম্ভব। অন্যকথায়, আপনি যদি খেয়াল করে পারমিশন না পড়েন তাহলেই বিপদে পরবেন। বিশ্বাসযোগ্য এপ্লিকেশন পারমিশনে শুধু মাত্র আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে আইডিতে ঢোকার পারমিশন নয়।

২। স্পামিং ভিডিও লিংক ফেসবুক ব্যবহারে একটু সচেতন হোন, কারন স্পামাররা ফেসবুকে বিভিন্ন স্পামিং ভিডিও লিংক প্রচার করে থাকেন। দেখার আগ্রহ নিয়ে সেসব লিংকে ক্লিক করলেই বিপদে পরবেন। এসব ভিডিও লিংক বেশির ভাগই ফেসবুক হ্যাকিং লিংক। মনে রাখবেন ফেসবুকে কোন ভিডিও দেখতে হলে কখনোই আইডি পাসওয়র্ড চাইবে না। একটুখানি সচেতন না হলে ফেসবুক হ্যাকিং এর কবলে পরে যেতে পারে।

৩। ডাউনলোড নোটিফিকেশন অনেক সময় যখন আপনি কোন ভিডিও দেখতে শুরু করেন তখন একটা নোটিফিকেশন পেতে পারেন, নোটিফিকেশনটা এমন হবে যে, সম্পর্ন ভিডিওটি দেখতে হলে আপনাকে এই সফটওয়্যারটি ইন্সটল দিতে হবে অথবা ফেসবুক আপডেট করতে বলতে পারে। লিংকে প্রবেশ করে তথ্য শেয়ার করলেই বিপদ। তাই এসব ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।

৪। ফেসবুক থেকে মেসেজ: আপনার যদি ফেসবুকে কোন পপুলার ফ্যান পেজ থেকে থাকে তাহলে অনেক সময় কিছু মেসেজ পেয়ে থাকেন, যেমন ফেসবুক টিম, সিকুরিটি টিম, ফেসবুক সিকুরিটি ইত্যাদি।এগুলা হচ্ছে সেই মেসেজ যেখানে আপনাকে ক্লিক করতে বধ্য করা হয়। ক্লিক করবেন তো মরবেন, সুতরাং এসব মেসেজকে এরিয়ে চলুন, ফেসবুক হ্যাকিং থেকে রক্ষা করুন।

মুহসিন/

মন্তব্য করুন