রায়কে ঘিরে হুমকি-ধামকি; নিরাপত্তা শঙ্কায় নুসরাতের পরিবার

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

ইসমাঈল আযহার
পাবলিক ভয়েস

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার আলোচিত ঘটনায় দায়ের করা মামলা আজকের রায়কে ঘিরে নানা হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের। আসামি পক্ষের লোকজন ভয়ভীতি দেখিয়ে বলছেন, রায় বিপক্ষে গেলে নুসরাতের পরিবারে বাতি জ্বালানোর মতো কাউকে রাখা হবে না।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘প্রধান আসামি সিরাজউদ্দৌলাসহ আসামি পক্ষের লোকজন হুমকি দিচ্ছে। বলছে রায় যদি তাদের স্বজনদের বিপক্ষে যায়, তবে আমাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। কবর থেকে নুসরাতের মরদেহ গায়েব করার হুমকিও ‍দিচ্ছে কেউ কেউ। এই অবস্থায় আমরা বাড়তি নিরাপত্তা চাই।’

হুমকি দাতাদের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নির্দিষ্ট কারও নাম বলেননি নুসরাতের মা। তবে তিনি আশঙ্কা করে বলেন, ‘সিরাজউদ্দৌলা জেল থেকে আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মারার ষড়যন্ত্র করেছে। এখন তো আসামি ১৬ জন। তারা ইচ্ছা করলে আমাদের বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে।’

সূত্রের খবরে জানা যায়, নুসরাতের বাড়িতে তিনজন পুলিশ সদস্য পাহারায় আছেন। তারা জানান, রোস্টারভিত্তিক ২৪ ঘণ্টা এই বাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকে পুলিশ। সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের হুমকি না থাকলেও সতর্ক থাকবে পুলিশ। কেউ নুসরাতের পরিবারের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলেও শক্ত হাতে তা দমনে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন নুসরাত। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন।

৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথম পত্রের পরীক্ষা দিতে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যায়। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

আই.এ/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন