১ মাসের সন্তান কোলে নিয়ে ফাঁসির রায় শুনলেন মণি

প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০১৯

আজ বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায়ে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে ফেনী আদালত।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদের আদালতে আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে বিচারক এই দিন ধার্য করেন।

এই ১৬ আসামি মধ্যে একজন কামরুন নাহার মণি। এক মাস বয়সী কন্যাসন্তান কোলে নিয়েই ফাঁসির রায় শুনলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে রায় ঘোষণার আগে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান তিনি। সে সময় শিশুটির শরীরে একটি তোয়ালে পেঁচানো অবস্থায় দেখা যায়। কামরুন নাহার মণি নুসরাতের সহপাঠী ছিলেন। গর্ভে পাঁচ মাসের সন্তান নিয়েই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কারাবন্দী কামরুন নাহার মণির প্রসব বেদনা শুরু হয়। পরে তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই রাতেই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর থেকে সন্তান কোলে নিয়েই বিচারকাজে অংশ নিয়েছেন মণি।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কামরুন নাহার মণি জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি নুসরাতকে মাটিতে চেপে ধরেছিলেন। শুধু তাই নয়, হত্যায় অংশ নেয়া তিন সহযোগী পুরুষের জন্য বোরকা ও হাতমোজা তিনিই সংগ্রহ করেন।

কামরুন নাহার মণি সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজুল হকের মেয়ে। ৯ এপ্রিল নিজ বাড়ি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন—সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদরাসার ছাত্র নূর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

২৭ মার্চ নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানি করেন মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা। ওই ঘটনায় মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। পুলিশ অধ্যক্ষকে গ্রেফতারের পর মামলা তুলে নিতে নুসরাত ও তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিতে থাকে অধ্যক্ষের সহকারীরা।

মামলা তুলে না নেয়ায় ৬ এপ্রিল মাদরাসার পাশের সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পাঁচ দিন পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার।

ওই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের করা মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১০ এপ্রিল মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই। ২৯ মে তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন পিবিআই’র ওসি মো. শাহ আলম। ১৬ আসামির মধ্যে সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ জন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন