ভোলার ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরের ব্যাখ্যা ও তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশিত: ১০:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ভোলায় পুলিশ ও জনতার মধ্যে সহিংস সংঘর্ষে সাধারণ মানুষ হতাহতের ঘটনায় পুলিশ সদর দফতর থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার একটি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২০ অক্টোবর) রাতে সদর দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সমবেদনা জানানো হয়। একইসঙ্গে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না করতে এবং কোনও অবস্থাতেই ধর্মীয় উপাসনালয়ে আক্রমণ না করতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

পাশাপাশি, গুজবে কান না দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পুলিশকে সহায়তা করার জন্যেও অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাটি তদন্তে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভোলার বোরহান উদ্দিন উপজেলা ঈদগাহ মাঠে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পুলিশসহ সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনায় পুলিশ সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে যে কোনও প্রকার বিভ্রান্তি এড়াতে পুলিশ সদর দফতর প্রকৃত ঘটনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরার প্রয়োজন মনে করছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, এসবি, পিবিআই এবং জেলা পুলিশ হতে একজন করে মোট চারজন কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটিকে সাত কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সমাবেশ বাতিলের ঘোষনা সত্ত্বেও পুলিশ সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকে। পরদিন সকাল থেকেই কিছু লোক ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকে। ময়দানের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানোর জন্য ১৭টি মাইক নিয়ে আসা হয়। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সমবেত লোকজনকে সরিয়ে নিতে বললে উপস্থিত আলেমরা নিশ্চিত করেন, লোকজন কোনও রকম বিশৃঙ্খলা করবে না।

এরইমধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবং যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশকে সহায়তা দিতে সকালেই বরিশাল থেকে রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ভোলায় যান। অতিরিক্ত ডিআইজি এবং ইউএনও’কে নিয়ে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে প্রয়োজনীয় সকল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করেন। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে সমবেত লোকজন ঈদগাহ্ ময়দান ত্যাগ করেন।’

‘উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য শেষে পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা মাদরাসার একটি কক্ষে অবস্থান নেন। এরইমধ্যে অন্য একটি গ্রুপ ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকেন। এরপর একদল লোক বিনা উস্কানিতে মাদরাসার অফিস কক্ষে অবস্থানরত কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ করে। আক্রমণকারীদের একদল আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশ ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ চালায়।

আক্রমণকারীদের গুলিতে ও হামলায় বরিশাল রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিসহ পুলিশের ৩ জন সদস্য মারাত্মক আহত হন। এমন পরিস্থিতিতে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আত্মরক্ষার্থে ও সরকারি জানমাল রক্ষার্থে ও উত্তেজিত লোকজনকে নিবৃত্ত করার জন্য প্রথমে টিয়ার শেল ও পরে শটগান চালায় পুলিশ।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বেড়ে গেলে এক পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ গুলি চালাতে বাধ্য হয়। আক্রমণকারীদের গুলিতে মারাত্মক আহত পুলিশ সদস্যকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সিএমএইচে স্থানাস্তর করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহত ৪ (চার) জনের মধ্যে অন্তত দুই জনের মাথা ভোতা অস্ত্র দ্বারা থেঁতলানো বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।’

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক  ভয়েস

মন্তব্য করুন