একজন মুফতি ফয়জুল করিমের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর : একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

আশরাফ মাহদী : আজ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। ব্যানারের শিরোনাম ছিল, ‘বোরহানুদ্দিনে তৌহিদী জনতার মিছিলে পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে বহুলোক হতাহতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল’। ভাললাগার বিষয় হচ্ছে, মিছিল পূর্ববর্তী সমাবেশে জনাব মুফতি ফয়জুল করিম সাহেবের বক্তৃতায় তৌহিদী জনতার প্রত্যেকটা দাবী স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তিনি শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে কোন ধরণের রাখঢাক রাখেননি। দেশের এহেন পরিস্থিতিতে এ ধরণের বক্তব্য দিতে দুনিয়াবী সকল আসবাবের পাশাপাশি ঈমানী শক্তিটাও খুব বেশি প্রয়োজন। বক্তব্যে সময়ের প্রয়োজনীয় যে প্রতিবাদগুলো উঠে এসেছে তা পয়েন্ট আকারে উল্লেখ করছি।

১. বক্তব্যের শুরুতেই তিনি তৌহিদী জনতার উপর নির্বিচারে গুলির অযৌক্তিকতা তুলে ধরেন। এবং এর প্রতিবাদে তিনি বলেন, ‘কুকুরকেও মানুষ এভাবে গুলি করতে পারে না৷ প্রত্যেকটা গুলি নাভির উপরে, সিনার মধ্যে। পুলিশ আত্মরক্ষার জন্য গুলি করলেও নিয়ম ছিল। হাটুর নিচে গুলি করতে পারতো। ছত্রভঙ্গ করার জন্য কাদানী গ্যাস জলকামান ব্যবহার করবে, লাঠিচার্জ করবে, যদিও তাদের জন্য এগুলো বৈধ ছিলনা৷ আমি সরকারকে প্রশ্ন করবো, আজকে পুলিশের হাতে যেই হাতিয়ার দিয়েছিলেন বিশৃঙ্খলা বন্ধ করার জন্য তার দ্বারা যদি মানুষ হত্যা করা হয়, আজ এই বন্দুক যদি জনগণের কাছে থাকতো? দিয়ে দেন জনগণের কাছে বন্দুক, এরপর মাঠে আসেন। আপনি একবাহিনীর হাতে অস্ত্র দিবেন আর খালি হাতের মানুষগুলোকে নির্বিচারে হত্যা করবেন, সহ্য করা হবেনা।’

২. কেন দেশ ও ইসলামের স্বার্থে প্রতিবাদ করার পর অকাতরে জীবন দিতে হচ্ছে এ দেশের সাধারণ নাগরিকদের, এর কারণ ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘প্রাইম মিনিস্টার, এদেশের জনগণের জন্য আপনার মায়া নাই আমরা জানি৷ ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলদের অপসারণ করার সময় আপনি বলেছিলেন, ‘আমি জানি তোমাদের অবস্থা তোমরা কি মোহাব্বত করো। বঙ্গবন্ধুর লাশ সিড়ির মধ্যে পড়ে ছিল, তোমরা কেউ দেখতেও যাওনাই।’ এ বক্তব্য আপনার। গোটা জাতি যদি হত্যা হয়ে যায়, আপনার হৃদয় কাপবেনা আমরা ভাল মত জানি।’

৩. কোন তদন্ত ছাড়াই বিপ্লবের আইডি হ্যাক হওয়ার বক্তব্যকে সরকারপক্ষের গ্রহণ করার নিন্দা জানান তিনি। এবং এর ভয়াবহ পরিণতির ব্যাপারে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘আজকে বিপ্লবের আইডি হ্যাক করা হয়েছে। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এর আগে কি কোন আইডি থেকে নবীকে কটুক্তি করা হয় নাই? আর আপনি তদন্ত করার আগেই কিভাবে বললেন যে আইডি হ্যাক করা হয়েছে? এর মাধ্যমে আপনি ইসকনের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। আপনি ভারতের পক্ষ অবলম্বন করেছেন। আপনি এদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চান। এদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা চায়না। দীর্ঘদিন ধরে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে। আপনি একটা পক্ষ অবলম্বন করে এদেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছেন। আল্লাহ না করুক, এদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে আমি মনে করবো নেপথ্যে আপনি ভূমিকা পালন করেছেন। তাই সরকারকে বলবো অবিলম্বে এর বিচার করেন, যদি বিচার না করেন, জনগণ যদি আইন হাতে তুলে নেয়, তখন আপনি কোন অবস্থাতেই রক্ষা করতে পারবেন না, গদি চলে যাবে।’

৪. প্রশাসনকে সম্বোধন করে তিনি তাদের দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন করে বলেছেন, ‘আমি প্রশাসনকে বলবো। আপনি রাষ্ট্রের প্রশাসন, আপনি সরকারের প্রশাসন না৷ আপনি রাষ্ট্রের অধীনে আছেন। সরকার আপনাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কমান্ড করলে সেই কমান্ড মানতে আপনি বাধ্য না। আপনি রাষ্ট্রের কর্মচারী৷ কোন দল গোষ্ঠী বা ব্যক্তির কর্মচারী না৷ রাষ্ট্রের জনগণের উপর গুলি চালানোর অধিকার কে দিয়েছে? এ সাহস কে দিয়েছে?’

৫. প্রশাসন কিভাবে একদিকে ইসলামোফোবিয়া তৈরী করছে এবং অন্যদিকে ইসলামের নাম ব্যবহারকারী ইসলামবিরোধী সংগঠনকে কাজের সুযোগ দিচ্ছে এ বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, আমার জানামতে হাজারো আলেমদের এই ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে হয়রানি করছে৷ ফাজায়েলে আমল, ফাজায়েলে সাদাকাত নাকি জংগি কিতাব! ইসলামী কোন কিতাব পেলে আইএস ও জেএমবি বলে ফাসিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ অথচ হিজবুত তাওহিদের মত নাস্তিক্যবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

৬. সর্বশেষ তিনি আগামীদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ‘আগামী শুক্রবার জুমার পর বাংলাদেশের সমস্ত জেলাতে বিক্ষোভ মিছিল হবে ইনশাআল্লাহ। প্রত্যেক মসজিদে জুমার পর শহিদদের জন্য দোয়া হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিবাদের তৌফিক দান করেন।’

লেখক : জামেয়া আযহার মিশরে অধ্যয়নরত ছাত্র, মুফতী আমিনী রহ. এর দৌহিত্র।

মন্তব্য করুন