নিষিদ্ধ সময়ে পুলিশি অভিযানে জব্দ ইলিশ কোথায় যায়?

প্রকাশিত: ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০১৯

নিষিদ্ধ সময়ে জব্দ করা ইলিশ স্থানীয় মাদ্রাসা, এতিমখানা, বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র ও বৃদ্ধাশ্রমে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া, কখনও কখনও জব্দ করা মাছে কেরোসিন ঢেলে খাওয়ার ‘অযোগ্য’ করে মাটিতে পুতে ফেলারও রেওয়াজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিষিদ্ধ সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। অভিযানে কাউকে ইলিশ ধরা, মজুত কিংবা কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে তাৎক্ষণিক কারাদণ্ড দেন। বিকল্পে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেনে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময়ের মধ্যে জব্দ করা ইলিশ

মা ইলিশরক্ষায় যখন নদীতে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকে, তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে কিছু অসাধু জেলে নদীতে ইলিশ মাছ ধরে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব মাছ ধরা হয় বলে মোটামুটি কম মূল্যেই বিক্রি করে চলে যান জেলেরা।

প্রসঙ্গত, ০৯ অক্টোবর (বুধবার) ভোর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য দেশের ৬টি ইলিশ অভয়ারণ্যসহ ইলিশ অধ্যুষিত নদ-নদীতে ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একইসঙ্গে এই ২২ দিন ইলিশ মাছ পরিবহন মজুত, সংরক্ষণ ও বিক্রিও বন্ধ রয়েছে।

এই ২২দিন ইলিশের জন্য দেশের ৬টি অভয়াশ্রমসহ উল্লেখযোগ্য নদীতে সরকার ইলিশ মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিশেধাজ্ঞা জারি করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবছর আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে পড়ে ১৫ দিন হচ্ছে ইলিশের ডিম ছাড়ার প্রকৃত সময়। প্রতিবছর এই সময়ে নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু এরপরও এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই মাছ ধরে।

অবৈধভাবে এই মাছ ধরাকে ঠেকাতে জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ নদীতে অভিযান চালায়। এসব অভিযানের প্রচুর ইলিশ জব্দ করা হয়। কিন্তু জব্দ করা ইলিশ কোথায় যায়? এই নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক জানান ‘শুধু জেলা প্রশাসনই নয়, মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড এমনকি থানা পুলিশও অভিযান চালায়। যদিও আমি এসব সংস্থাকে যৌথভাবে অভিযান চালাতে বলেছি।

এসব অভিযানে জব্দ করা জাল নদীর পাড়ে এনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। আর ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দিয়ে দেওয়া হয়।’ জব্দ করা ইলিশ মাছ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘জব্দ করা জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করি। বাজারগুলোয় অভিযান চলছে। লুকিয়ে মাছ ধরলে তা আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।’

ইসমাঈল আযহার/পাবলিক ভয়েস

মন্তব্য করুন