ভোলায় মুসল্লি হত্যা: হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ, থানায় ভাঙচুর

প্রকাশিত: ৭:৪২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ভোলায় মহানবী সা. এর অবমাননার বিচারের দাবিতে করা মিছিলে পুলিশের হামলায় ৪ জনের নিহতের প্রতিবাদে হাটহাজারীতে সড়ক অবরোধ করে রেখেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এতে করে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি ও হাটহাজারী-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

আজ রোববার বাদ আসর হাটহাজারী ডাক বাংলো চত্বর থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করে মাদরাসার ছাত্র ও সাধারণ জনতা। এক পর্যায়ে হাটহাজারী মডেল থানায় ইট ছুড়লে থানার গ্লাস ভেঙ্গে যায়। এ ছাড়াও তারা হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড পুলিশ বক্সেও ভাঙচুর চালায়।

তবে এ ব্যাপারে অবগত হলে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মাইকে ঘোষনা দিয়ে বলেন, যারা থানায় হামলা করেছে তারা মাদরাসার ছাত্র নয়। আমাদের কর্মসূচীর ঘোষণা ছিলো আছরের পরে মিছিল শেষে মাগরিবের নামাজ মাদরাসায় এসে পড়া। তার এ ঘোষনার পর ছাত্ররা মাদরাসায় ঢুকে পরলেও এখনো রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ জারি রেখেছে সাধারণ জনতা। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দীন আকাশকে ফোন কল দিলে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে আল্লাহ ও নবী সা.কে কুটক্তির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের গুলি বর্ষণে ৪ মুসল্লি নিহতের ঘটনায় চট্টগ্রামে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও দারুল উলুম মঈনুর ইসলাম হাটহাজরীর মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

রোববার সন্ধায় আল্লামা আহমাদ শফীর সভাপতিত্বে জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে মহাসচিব আল্লাম জুনায়েদ বাবুনগরীসহ হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠক থেকে এঘটনার প্রতিবাদে যেকোনো কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এর আগে ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘মুসলিম তাওহিদী জনতা’র ব্যানারে আজ সকালে এক সমাবেশ পুলিশের হামলায় ৪জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- মাহাফুজ, মিজান, শাহীন ও মাহবুব। এ ঘটনার প্রতিবাদে পুনরায় বিকেলে বিক্ষোভ করে স্থানীয় মুসুল্লিরা। বিক্ষোভ থেকে ওসি-এসপির প্রত্যাহার ও গ্রেফতারসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ থেকে আলেম ওলামাদের পক্ষে মাওলানা মিজানুর রহমান ৬ দফা দাবি জানান। ৬ দফা দাবি হলো: ১. বিপ্লব চন্দ্রকে গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকর, ২. শহীদদের লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং নির্বিঘ্নে জানাযা-দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে, ৩. আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে, ৪. গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, ৫. নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ৬. ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার এবং বোরহানউদ্দীনের ওসি এনামুল হককে অপসারণ করে গ্রেফতার করতে হবে।

এসময় মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি মেনে আগামীকাল সূর্য ওঠার আগে এসপি-ওসিকে অপসারণ করা হলে আগামীকাল সকাল ১১টায় সরকারি স্কুল মাঠে শুভেচ্ছা সম্মেলন হবে অন্যথায় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, আল্লাহ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাঁসির দাবিতে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ এর ডাক দিয়েছিলো স্থানীয় আলেম ওলামা সহ স্থানীয় মুসল্লিগণ। আজ রোববার বেলা ১১টায় সমাবেশ হওয়ার কথা হলেও সকাল ৯.৩০ মিনিট এর দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়ে যান অনেকে। তারা সেখানে দাড়িয়ে বিক্ষোভ শ্লোগান দিতে থাকে।

এসময় ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ ডিআইজি মোঃ এহসান সহ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হন। জনগণের উদ্দেশ্যে তারা বক্তব্য দেন। কিন্তু বেলা বাড়তে থাকলে বিক্ষুব্ধ মুসুল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪জন নিহত হয় এবং আহহত হয় আরো অন্তত অর্ধশতাধিক।

/এসএস

মন্তব্য করুন