ভোলার ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০১৯

ভোলার বোনহানউদ্দিনের ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্তে ভোলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন অরিক্তি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী আজ রাতে বিষয়টি জানিয়েছেন।

‘আর এসংক্রান্তে মামলার বিষয়টি ফৌজদারী বিষয়, এটা দেখবে পুলিশ’ বলেছেন, কমিশনার মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। এর আগে তিনি আজ (রোববার) বিকেলে বোরহানউদ্দিনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে ফেসবুকে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ‘মুসলিম তাওহিদী জনতা’র ব্যানারে আজ সকালে এক সমাবেশ পুলিশের হামলায় ৪জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন- মাহাফুজ, মিজান, শাহীন ও মাহবুব। এ ঘটনার প্রতিবাদে পুনরায় বিকেলে বিক্ষোভ করে স্থানীয় মুসুল্লিরা। বিক্ষোভ থেকে ওসি-এসপির প্রত্যাহার ও গ্রেফতারসহ ৬ দফা দাবি জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ থেকে আলেম ওলামাদের পক্ষে মাওলানা মিজানুর রহমান ৬ দফা দাবি জানান। ৬ দফা দাবি হলো: ১. বিপ্লব চন্দ্রকে গ্রেফতার ও ফাঁসি কার্যকর, ২. শহীদদের লাশ পোস্টমর্টেম ছাড়া পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং নির্বিঘ্নে জানাযা-দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে, ৩. আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে, ৪. গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, ৫. নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ৬. ভোলার এসপি সরকার মোহাম্মদ কায়সার এবং বোরহানউদ্দীনের ওসি এনামুল হককে অপসারণ করে গ্রেফতার করতে হবে।

এসময় মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি মেনে আগামীকাল সূর্য ওঠার আগে এসপি-ওসিকে অপসারণ করা হলে আগামীকাল সকাল ১১টায় সরকারি স্কুল মাঠে শুভেচ্ছা সম্মেলন হবে অন্যথায় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, আল্লাহ ও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকারী বিপ্লব চন্দ্র শুভর ফাঁসির দাবিতে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ এর ডাক দিয়েছিলো স্থানীয় আলেম ওলামা সহ স্থানীয় মুসল্লিগণ। আজ রোববার বেলা ১১টায় সমাবেশ হওয়ার কথা হলেও সকাল ৯.৩০ মিনিট এর দিকে বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয়ে যান অনেকে। তারা সেখানে দাড়িয়ে বিক্ষোভ শ্লোগান দিতে থাকে।

এসময় ভোলা জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ ডিআইজি মোঃ এহসান সহ প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত হন। জনগণের উদ্দেশ্যে তারা বক্তব্য দেন। কিন্তু বেলা বাড়তে থাকলে বিক্ষুব্ধ মুসুল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। পরে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার ওপর গুলি করে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪জন নিহত হয় এবং আহহত হয় আরো অন্তত অর্ধশতাধিক।

/এসএস

মন্তব্য করুন