বালিশ দুর্নীতি নিয়ে ‘দুদক’ নীরব কেন প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

সারাদেশে আলোচিত বালিশ দুর্নীতি কাণ্ডে দূর্নীতি দমন কমিশন ‘দুদক’ এর চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ঘটনায় হাইকোর্টে রিট মামলার বাদী বিশিষ্ট আইনজীবি সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ব্যারিস্টার সুমন এ প্রশ্ন তোলেন। আজ বৃহস্পতিবার এ নিয়ে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে তিনি একটি ভিডিও আপলোড করেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বালিশ মামলা হিসেবে পরিচিত রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পের যে দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে; স্বয়ং গণপূর্ত বিভাগ স্বীকার করেছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে দুর্নীতি হয়েছে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সুমন বলেন, আমি যখন এই ঘটনায় আদালতে মামলা করি তখন দুদক চেয়ারম্যান বলেছিলেন, আমরা অবজার্ব করছি, দুর্নীতি পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমার প্রশ্ন হলো, যেখানে গণপূর্ত বিভাগ তাদের ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে; তাহলে আর কত প্রমাণ হলে দুদক এগিয়ে আসবে। এতো কিছুর পরেও কি দুদুকের ঘুম ভাঙবে না?

সুমন বলেন, আমি একজন ব্যক্তি হয়ে মামলা সামানে নিয়ে এসেছি। এখানে দুদক যদি এগিয়ে আসতো তাহলে এখানে একটা প্রতিষ্ঠান বনাম প্রতিষ্ঠান হতো। এখন আমি ব্যক্তি বনাম প্রতিষ্ঠান মামলা লড়ছে; এখানে আমার কী পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে। আমার জীবন তো রিস্কের মধ্যে পড়ে গেছে। যে কাজটা ‍দুদকের করার ছিলো সে কাজটা আমি করেছি। যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রশ্ন। বড় বড় ব্যক্তিরা জড়িত। দুদক যদি এখানে এগিয়ে না আসে তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ব্যক্তিগতভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগাবে না।

গণপূর্ত বিভাগের প্রশংসা করে সুমন বলেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিজেদের ডিপার্টমেন্টের এতোগুলো লোককে সাসপেন্ড করার ক্ষমতা রাখে সেখানে দুদকের ভয় কোথায়। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্নীতির ঘটনার একটি। এখানে যদি দুদক এগিয়ে না আসে তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা যাবে। দুদক কি বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে না?’

সুমন বলেন, দুদকের মতো  প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে না আসে তাহলে তো আমরা হারিয়ে যাবো। আমাকে হয় গুম করা হবে, কিংবা ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হবে। তাতে বাংলাদেশ আগাবে না। আপনার দুর্নীতির বিরুদ্ধে শপথ নিয়েছেন। এখানে ১৬ জন লোককে সাসপেন্ড করা হয়েছে এরপরও আপনার যদি বসে তাহলে এটা আমাদের জন্য হতাশজনক।

দুদক কি কাউকে সেভ করার চেষ্টা করছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সুমন বলেন, এটা তো স্বাভাবিক না। এতো বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলা তো স্বাভাবিক না। বাংলাদেশের ইতিহাস কী বলে? আমার ওপর প্রেসার আসবে এটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু আমাকে সেভ করবে কে? আমি একটা পথ দেখিয়ে দিলাম যে এখানে দুর্নীতি হয়েছে এখন আপনার সহযোগিতা করেন।

আমি বুঝতে পারছি না দুদুক কি ওয়েট করতেছেন যে ‘এই মামলার বাদী পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে নেয় তাহলে তো এই মামলা আগাবে না’ এটার জন্য দুদক অপেক্ষা করতেছে কিনা আমি বুজতেছি না।

আপনাকে ইমেইলে, ফেসবুকে বা কিভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে জানতে চাইলে সুমন বলেন, আমি আপনাদের সামনে তো সব কথা বলতে পারি না। আমি একজন ব্যক্তি হিসেবে আমার জন্য প্রেসার নেওয়া ভিষণ ডিফিকাল্ট। এখানে ব্যক্তি বনাম প্রতিষ্ঠান তো পারা যাবে না।

তিনি বলেন, আমার কোনো ধরণের ক্ষতি হওয়ার আগেই অথবা দেশের স্বার্থে দুদকের এগিয়ে আসা উচিত।

এদিকে জানা যায়, ব্যারিস্টার সুমনের এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আজ বৃহস্পতিবার সন্ধায় এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমি গঠন  করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদক উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য

প্রসঙ্গ, গত ১৯ মে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লির বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক।

এরপর এ ঘটনায় ৩০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৪ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় গণপূর্ত বিভাগ। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

মন্তব্য করুন