মৃত নবজাতক দাফন করতে গিয়ে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে এলো জীবিত শিশু

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
ছবি: ‘দ্য গার্ডিয়ান’

জন্মের কয়েক মিনিট পরেই মারা যায় নবজাতক। নিজেদের সেই মৃত শিশুকে দাফন করতে সমাধিক্ষেত্রে গিয়েছিলেন এক দম্পতি। শিশুটিকে দাফন করতে তারা মাটি খুঁড়ে ছোট্ট একটি গর্ত করেন। গর্ত খুঁড়তে গিয়ে তারা আশ্চার্য হন; যখন দেখেন তাদের কোদাল শক্ত কিছুতে আঘাত করছে। সতর্কতার সাথে মাটি সরিয়ে দেখেন মাটির নিচে একটি মাটির পাত্রে জীবিত এক শিশু কাঁদছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার ভারতের উত্তর প্রদেশে। গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয় ‘জীবন্ত কবর দেয়া শিশুটির বয়স দুই কিংবা তিন দিনের বেশি হবে না বলে জানিয়েছে পুলিশ’।

দাফন করতে যাওয়া মৃত শিশুর বাবা হিতেশ শিরোহী নামের ওই ব্যক্তি বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম, আমাদের শিশু প্রাণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু কান্নার আওয়াজ মাটির পাত্রের ভেতর থেকে আসছিল। তখন আমাদের হুশ ফেরে। শিশুটিকে উদ্ধার করে সাহায্যের জন্য তড়িঘড়ি করে পুলিশে ফোন দেই। পরে হাসপাতালে নিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তা আলকা সেগারনা সিএনএনকে বলেন, তার শ্বাসপ্রশ্বাসঘটিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংক্রমণও হয়েছে। ওজন কমে গেছে।

স্থানীয় পুলিশ সুপার পুলিশ সুপারইনটেনডেন্ট অভিনন্দন সিং বলেন, ‘আমরা শিশুটির বাবা-মাকে খুঁজছি। এই ঘটনায় তারা জড়িত। তারা জড়িত না থাকলে এমন ঘটনা ঘটা অসম্ভব’।

তিনি বলেন, সন্দেহভাজনকে খুঁজে বের করতে পুলিশের একটি দল মোতায়েন করা হয়েছে। সাদা পোশাকের সদস্যরাও সক্রিয় রয়েছেন। অপরাধীকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ভারতে শিশুহত্যার প্রবণতার বিষয়টিই সামনে নিয়ে এসেছে। পুত্র সন্তান না হওয়ায় কন্যাশিশুকে হত্যার ঘটনা অহরহ ঘটছে দেশটিতে। উত্তরাধিকার ও অর্থনৈতিক বিষয়আশয় বিবেচনায় নিয়ে সন্তান হন্তারক হয়ে যান বাবা-মা। কন্যাশিশুকে সংসারের বোঝা হিসেবে মনে করা হয়।

২০১৭-১৮ সালের এক অর্থনৈতিক জরিপ বলছে, বাবা-মা ছেলে সন্তানের অনুরক্ত হওয়ায় ভারতে ব্যাপক লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। নারী ভ্রুণ হত্যার ঘটনাও ব্যাপক। এমনকি লিঙ্গ শনাক্তকরণের পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে ছেলে না হওয়া পর্যন্ত সন্তান নিতে থাকে পরিবারগুলো।

/এসএস

মন্তব্য করুন