বালিশ দুর্নীতি নিয়ে সুমনের রিট: গণপূর্তের ৩০ কর্মকর্তার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

গত ১৯ মে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার জন্য গ্রিন সিটি আবাসন পল্লির বিছানা, বালিশ, আসবাবপত্র অস্বাভাবিক মূল্যে কেনা ও তা ভবনে তোলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি করেন।

এরপর তদন্ত করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় ৩০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়া ১৪ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সেই প্রতিবেদন মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) আদালতে উপস্থাপন করা হয়। এদিন হাইকোর্টে দাখিল করা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জিল্লুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

বরখাস্ত হওয়া এসব কর্মকর্তা হলেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলম, মো. শফিকুল ইসলাম, মো. আবু সাঈদ, মো. শাহিন উদ্দিন, মো. জাহিদুল কবীর, মো. রফিকুজ্জামান, সুমন কুমার নন্দী, মো. ফজলে হক, মো. রওশন আলী, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. রুবেল হোসাইন, মো. তারেক, আহম্মেদ সাজ্জাদ খান, মো. মোস্তফা কামাল, মো. তাহাজ্জুদ হোসেন ও একেএম জিল্লুর রহমান।

এ প্রতিবেদনের ওপরে বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চে আগামী ২০ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক ব্যয় করার বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় গণপূর্ত অধিদফতরের ১৬ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া যাচাই-বাছাই ও বিল পরিশোধের সঙ্গে জড়িত ১৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে অবসর সুবিধা ভোগকারী গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমানের নামও রয়েছেন।

এর আগে গত ২১ জুলাই রূপপুরের বালিশকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে সরকার শাস্তিমূলক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এর আগেও বালিশকাণ্ডের ঘটনায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়। হাজার পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বিছানা, বালিশ ও আসবাবপত্র কেনায় মালামালের প্রকৃত মূল্য অপেক্ষা ৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেশি দেখানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪টি ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরবরাহ কাজের চুক্তিমূল্য ১১৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। অথচ মালামাল সরবরাহ করা হয়েছে ৭৭ কোটি ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার। অর্থাৎ চুক্তিমূল্য সরবরাহ করা মালামালের প্রকৃত মৃল্যের চেয়ে ৩৬ কোটি ৪০ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি।

এই বাড়তি পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে। রিট শুনানির এক পর্যায়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং একইসঙ্গে এ ঘটনায় গঠিত গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

/এসএস

মন্তব্য করুন