সরে যাওয়া উচিৎ‘ব্যর্থ’ দুদক চেয়ারম্যানের: ব্যারিস্টার তাপস

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এর সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর ছাড় পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের ব্যর্থতা দেখছেন ফজলে নূর তাপস। এ ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুদকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইকবাল মাহমুদকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এই সংসদ সদস্য।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাপস সোমবার (১৪ অক্টোবর) আদালত এলাকায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বলেন, ‘দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন, তিনি কোনো প্রভাবের কারণে এ ব্যবস্থা নেননি, তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, ‘আর যদি উনি মনে করেন যে, তিনি কোনো প্রভাব দ্বারা বা কারও কথায় প্রভাবিত হবেন না, তাহলে অবশ্যই জাতি মনে করে, আমরা মনে করি শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করা হোক, তাকে গ্রেফতার করা হোক, জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।’

বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে, পরে দুদক ৫৬টি মামলা করে। বাচ্চুকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও তাকে কোনো মামলার আসামি করা হয়নি।

কয়েক বছর আগে বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে আলোচনায় ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান বাচ্চুর নাম। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় বাচ্চুর সংশ্লিষ্টতা তারা পায়নি। কিন্তু তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির জন্য বাচ্চুকে দায়ী করেছিলেন। এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টও বাচ্চুকে আসামি না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছিল।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব তাপস বলেন, আজ অবধি বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত যতগুলো দুর্নীতির মামলা হয়েছে, আমরা লক্ষ্য করেছি শুধু কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদেরকে সেসব মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আজ অবধি কোনো মামলা হয়নি।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান দুদক চেয়ারম্যানকে উদ্বৃত করে জানান, বেসিক ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। অভিযোগপত্রও শিগগির দেওয়ার কথা বললে সাংবাদিকরা দুদকের কৌঁসুলির কাছে জানতে চান, তাতে আসামির তালিকায় বাচ্চুর নাম আসবে কি না? জবাবে খুরশীদ বলেন, ‘উনার সম্পৃক্ততা থাকলে অবশ্যই থাকা উচিত। যদি ক্রেডিবল তথ্য প্রমাণ থাকে, তাহলে অবশ্যই আসবে।’

আই.এ/

মন্তব্য করুন